শিরোনাম

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে উদ্যোক্তাবৃত্তির (এন্টারপ্রেনারশিপ) বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর হোটেল আমারিতে অনুষ্ঠিত ‘পাথওয়েস টু হেল্থ এন্টারপ্রেনারশিপ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অংশীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই স্বাস্থ্য খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এবং যৌথ পরামর্শ ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করবে। তিনি স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি কার্যকর ও দূরদর্শী পরামর্শমূলক জোট গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, দেশে দক্ষ উদ্যোক্তা, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেসরকারি হাসপাতাল এবং শক্তিশালী ওষুধ শিল্প রয়েছে। এবারের বাজেটে ওষুধ শিল্পের এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) উন্নয়নে বড় ধরনের সহায়তা এবং পৃথক শিল্পাঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সক্ষমতাকে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে একীভূত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয়ে জনগণের নিজস্ব অর্থ ব্যয়ের হার বিশ্বের অন্যতম উচ্চ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ব্যয় কমিয়ে সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে বেসরকারি খাতের বিদ্যমান সক্ষমতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি উৎপাদনে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

তিনি বলেন, উপযুক্ত নীতি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবেন। বর্তমান সরকারের নীতিই হলো বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের সমন্বয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব হবে।

/এমআর/