সরকারি খাস জমি লিজ নিতে চান? কোথায় আবেদন, লাগবে যেসব কাগজ

সরকারি খাস জমি লিজ নিতে চান? কোথায় আবেদন, লাগবে যেসব কাগজ
অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাস জমি রয়েছে। এসব জমি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও শর্ত অনুসরণ করে ভূমিহীন পরিবার, ব্যক্তি কিংবা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত বা লিজ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ কৃষিকাজের জন্য, কেউ আবার বসবাস কিংবা নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে খাসজমি পেতে চান। তবে এ জমি পাওয়ার জন্য রয়েছে নির্ধারিত আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত।
অনেকেই খাসজমি লিজ নেওয়ার নিয়ম না জানায় দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়েন। অথচ প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব। খাসজমি পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদনের স্থান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যাক।
খাসজমি কারা পেতে পারেন
খাসজমি হলো সরকারের মালিকানাধীন জমি, যা নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দেওয়া হতে পারে। তবে চাইলেই যে কেউ যেকোনো সরকারি জমি লিজ নিতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয়।
জমির শ্রেণি, ব্যবহার, অবস্থান এবং সরকারের প্রচলিত নীতিমালার ওপর নির্ভর করে কারা জমি পাওয়ার যোগ্য হবেন। কৃষিজমির ক্ষেত্রে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদিত ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
খাসজমি পেতে কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করবেন
খাসজমি বন্দোবস্ত পেতে হলে প্রথমে জমিটি কোন মৌজা ও এলাকায় অবস্থিত, তা শনাক্ত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জমিটির শ্রেণি ও বন্দোবস্তযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে হবে।
নির্ধারিত আবেদন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির রেকর্ড, মালিকানা, শ্রেণি এবং আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে।
প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্ধারিত শর্তে বন্দোবস্তের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
খাসজমির জন্য আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
খাসজমির ধরন ও বন্দোবস্তের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। সাধারণভাবে যেসব নথি চাওয়া হতে পারে, সেগুলো হলো—
১. নির্ধারিত আবেদন ফরম ও আবেদনকারীর তথ্য।
২. জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি।
৩. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৪. নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার সনদ।
৫. আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও ভূমিহীনতার প্রমাণপত্র, যেখানে প্রযোজ্য।
৬. যে জমি বন্দোবস্ত নিতে চান, তার মৌজা, দাগ ও খতিয়ান নম্বরসহ বিস্তারিত বিবরণ।
৭. জমি ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্র।
আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস থেকে হালনাগাদ কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
খাসজমি লিজ নিতে কত টাকা লাগে
খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য একক কোনো ফি বা মূল্য নির্ধারিত নেই। জমির শ্রেণি, অবস্থান, ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তমূল্য, ভূমি উন্নয়ন কর বা অন্যান্য প্রযোজ্য ফি নির্ধারিত হতে পারে।
কৃষি ও অকৃষি জমির ক্ষেত্রে নিয়ম এক নয়। একইভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার শর্তও আলাদা হতে পারে।
তাই নির্দিষ্ট জমির জন্য কত টাকা দিতে হবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে সরকারি হিসাব ও নির্ধারিত ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা দালালের কাছে রসিদ ছাড়া টাকা দেওয়া উচিত নয়।
খাসজমি আবেদন নিষ্পত্তিতে কত দিন লাগে
খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা সব ধরনের জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আবেদন যাচাই, জমির রেকর্ড পরীক্ষা, সরেজমিন তদন্ত এবং অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপের ওপর নির্ভর করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগে।
কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ বা জটিলতা থাকলে নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ রাখা প্রয়োজন।
খাসজমি লিজের মেয়াদ কত দিন
খাসজমি বন্দোবস্তের মেয়াদও জমির শ্রেণি ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সব জমির জন্য ৩০, ৫০ কিংবা ৯৯ বছরের মতো একই মেয়াদ প্রযোজ্য নয়।
বন্দোবস্তের অনুমোদনপত্র ও চুক্তিতে জমি ব্যবহারের শর্ত, মেয়াদ, অর্থ পরিশোধ এবং নবায়নের বিধান উল্লেখ থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্তের শর্ত ও প্রচলিত সরকারি নীতিমালা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
খাসজমি দালাল ছাড়াই যেভাবে আবেদন করবেন
খাসজমি পাওয়ার জন্য দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং তাঁদের মাধ্যমে আবেদন করতে গিয়ে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—
- প্রথমে জমির মৌজা, দাগ ও খতিয়ানের তথ্য সংগ্রহ করুন।
- জমিটি সরকারি খাসজমি কি না এবং বন্দোবস্তযোগ্য কি না, তা ভূমি অফিসে যাচাই করুন।
- নির্ধারিত ফরমে নিজেই আবেদন করুন।
- আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার বা রসিদ সংগ্রহ করুন।
- সরকারি ফি নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।
- অনুমোদন ও চুক্তিপত্র ছাড়া জমির দখল নেওয়া বা স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকুন।
খাসজমি বন্দোবস্তসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পেতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.land.gov.bd ভিজিট করা যেতে পারে। এ ছাড়া ভূমিসেবা-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগের জন্য ১৬১২২ নম্বরে কল করা যায়।
সরকারি খাসজমি পেতে হলে সবার আগে জমির শ্রেণি, বন্দোবস্তের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য জেনে সরাসরি সরকারি দপ্তরে আবেদন করলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ ও হয়রানি এড়ানো সম্ভব।
/এবি/

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাস জমি রয়েছে। এসব জমি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও শর্ত অনুসরণ করে ভূমিহীন পরিবার, ব্যক্তি কিংবা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত বা লিজ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ কৃষিকাজের জন্য, কেউ আবার বসবাস কিংবা নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে খাসজমি পেতে চান। তবে এ জমি পাওয়ার জন্য রয়েছে নির্ধারিত আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত।
অনেকেই খাসজমি লিজ নেওয়ার নিয়ম না জানায় দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়েন। অথচ প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব। খাসজমি পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদনের স্থান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যাক।
খাসজমি কারা পেতে পারেন
খাসজমি হলো সরকারের মালিকানাধীন জমি, যা নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দেওয়া হতে পারে। তবে চাইলেই যে কেউ যেকোনো সরকারি জমি লিজ নিতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয়।
জমির শ্রেণি, ব্যবহার, অবস্থান এবং সরকারের প্রচলিত নীতিমালার ওপর নির্ভর করে কারা জমি পাওয়ার যোগ্য হবেন। কৃষিজমির ক্ষেত্রে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদিত ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
খাসজমি পেতে কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করবেন
খাসজমি বন্দোবস্ত পেতে হলে প্রথমে জমিটি কোন মৌজা ও এলাকায় অবস্থিত, তা শনাক্ত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জমিটির শ্রেণি ও বন্দোবস্তযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে হবে।
নির্ধারিত আবেদন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির রেকর্ড, মালিকানা, শ্রেণি এবং আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে।
প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্ধারিত শর্তে বন্দোবস্তের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
খাসজমির জন্য আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
খাসজমির ধরন ও বন্দোবস্তের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। সাধারণভাবে যেসব নথি চাওয়া হতে পারে, সেগুলো হলো—
১. নির্ধারিত আবেদন ফরম ও আবেদনকারীর তথ্য।
২. জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি।
৩. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৪. নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার সনদ।
৫. আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও ভূমিহীনতার প্রমাণপত্র, যেখানে প্রযোজ্য।
৬. যে জমি বন্দোবস্ত নিতে চান, তার মৌজা, দাগ ও খতিয়ান নম্বরসহ বিস্তারিত বিবরণ।
৭. জমি ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্র।
আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস থেকে হালনাগাদ কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
খাসজমি লিজ নিতে কত টাকা লাগে
খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য একক কোনো ফি বা মূল্য নির্ধারিত নেই। জমির শ্রেণি, অবস্থান, ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তমূল্য, ভূমি উন্নয়ন কর বা অন্যান্য প্রযোজ্য ফি নির্ধারিত হতে পারে।
কৃষি ও অকৃষি জমির ক্ষেত্রে নিয়ম এক নয়। একইভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার শর্তও আলাদা হতে পারে।
তাই নির্দিষ্ট জমির জন্য কত টাকা দিতে হবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে সরকারি হিসাব ও নির্ধারিত ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা দালালের কাছে রসিদ ছাড়া টাকা দেওয়া উচিত নয়।
খাসজমি আবেদন নিষ্পত্তিতে কত দিন লাগে
খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা সব ধরনের জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আবেদন যাচাই, জমির রেকর্ড পরীক্ষা, সরেজমিন তদন্ত এবং অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপের ওপর নির্ভর করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগে।
কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ বা জটিলতা থাকলে নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ রাখা প্রয়োজন।
খাসজমি লিজের মেয়াদ কত দিন
খাসজমি বন্দোবস্তের মেয়াদও জমির শ্রেণি ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সব জমির জন্য ৩০, ৫০ কিংবা ৯৯ বছরের মতো একই মেয়াদ প্রযোজ্য নয়।
বন্দোবস্তের অনুমোদনপত্র ও চুক্তিতে জমি ব্যবহারের শর্ত, মেয়াদ, অর্থ পরিশোধ এবং নবায়নের বিধান উল্লেখ থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্তের শর্ত ও প্রচলিত সরকারি নীতিমালা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
খাসজমি দালাল ছাড়াই যেভাবে আবেদন করবেন
খাসজমি পাওয়ার জন্য দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং তাঁদের মাধ্যমে আবেদন করতে গিয়ে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—
- প্রথমে জমির মৌজা, দাগ ও খতিয়ানের তথ্য সংগ্রহ করুন।
- জমিটি সরকারি খাসজমি কি না এবং বন্দোবস্তযোগ্য কি না, তা ভূমি অফিসে যাচাই করুন।
- নির্ধারিত ফরমে নিজেই আবেদন করুন।
- আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার বা রসিদ সংগ্রহ করুন।
- সরকারি ফি নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।
- অনুমোদন ও চুক্তিপত্র ছাড়া জমির দখল নেওয়া বা স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকুন।
খাসজমি বন্দোবস্তসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পেতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.land.gov.bd ভিজিট করা যেতে পারে। এ ছাড়া ভূমিসেবা-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগের জন্য ১৬১২২ নম্বরে কল করা যায়।
সরকারি খাসজমি পেতে হলে সবার আগে জমির শ্রেণি, বন্দোবস্তের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য জেনে সরাসরি সরকারি দপ্তরে আবেদন করলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ ও হয়রানি এড়ানো সম্ভব।
/এবি/

সরকারি খাস জমি লিজ নিতে চান? কোথায় আবেদন, লাগবে যেসব কাগজ
অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাস জমি রয়েছে। এসব জমি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও শর্ত অনুসরণ করে ভূমিহীন পরিবার, ব্যক্তি কিংবা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত বা লিজ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ কৃষিকাজের জন্য, কেউ আবার বসবাস কিংবা নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে খাসজমি পেতে চান। তবে এ জমি পাওয়ার জন্য রয়েছে নির্ধারিত আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত।
অনেকেই খাসজমি লিজ নেওয়ার নিয়ম না জানায় দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়েন। অথচ প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব। খাসজমি পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদনের স্থান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যাক।
খাসজমি কারা পেতে পারেন
খাসজমি হলো সরকারের মালিকানাধীন জমি, যা নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দেওয়া হতে পারে। তবে চাইলেই যে কেউ যেকোনো সরকারি জমি লিজ নিতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয়।
জমির শ্রেণি, ব্যবহার, অবস্থান এবং সরকারের প্রচলিত নীতিমালার ওপর নির্ভর করে কারা জমি পাওয়ার যোগ্য হবেন। কৃষিজমির ক্ষেত্রে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদিত ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
খাসজমি পেতে কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করবেন
খাসজমি বন্দোবস্ত পেতে হলে প্রথমে জমিটি কোন মৌজা ও এলাকায় অবস্থিত, তা শনাক্ত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জমিটির শ্রেণি ও বন্দোবস্তযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে হবে।
নির্ধারিত আবেদন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির রেকর্ড, মালিকানা, শ্রেণি এবং আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে।
প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্ধারিত শর্তে বন্দোবস্তের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
খাসজমির জন্য আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
খাসজমির ধরন ও বন্দোবস্তের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। সাধারণভাবে যেসব নথি চাওয়া হতে পারে, সেগুলো হলো—
১. নির্ধারিত আবেদন ফরম ও আবেদনকারীর তথ্য।
২. জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি।
৩. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৪. নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার সনদ।
৫. আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও ভূমিহীনতার প্রমাণপত্র, যেখানে প্রযোজ্য।
৬. যে জমি বন্দোবস্ত নিতে চান, তার মৌজা, দাগ ও খতিয়ান নম্বরসহ বিস্তারিত বিবরণ।
৭. জমি ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্র।
আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস থেকে হালনাগাদ কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
খাসজমি লিজ নিতে কত টাকা লাগে
খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য একক কোনো ফি বা মূল্য নির্ধারিত নেই। জমির শ্রেণি, অবস্থান, ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তমূল্য, ভূমি উন্নয়ন কর বা অন্যান্য প্রযোজ্য ফি নির্ধারিত হতে পারে।
কৃষি ও অকৃষি জমির ক্ষেত্রে নিয়ম এক নয়। একইভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার শর্তও আলাদা হতে পারে।
তাই নির্দিষ্ট জমির জন্য কত টাকা দিতে হবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে সরকারি হিসাব ও নির্ধারিত ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা দালালের কাছে রসিদ ছাড়া টাকা দেওয়া উচিত নয়।
খাসজমি আবেদন নিষ্পত্তিতে কত দিন লাগে
খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা সব ধরনের জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আবেদন যাচাই, জমির রেকর্ড পরীক্ষা, সরেজমিন তদন্ত এবং অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপের ওপর নির্ভর করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগে।
কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ বা জটিলতা থাকলে নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ রাখা প্রয়োজন।
খাসজমি লিজের মেয়াদ কত দিন
খাসজমি বন্দোবস্তের মেয়াদও জমির শ্রেণি ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সব জমির জন্য ৩০, ৫০ কিংবা ৯৯ বছরের মতো একই মেয়াদ প্রযোজ্য নয়।
বন্দোবস্তের অনুমোদনপত্র ও চুক্তিতে জমি ব্যবহারের শর্ত, মেয়াদ, অর্থ পরিশোধ এবং নবায়নের বিধান উল্লেখ থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্তের শর্ত ও প্রচলিত সরকারি নীতিমালা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
খাসজমি দালাল ছাড়াই যেভাবে আবেদন করবেন
খাসজমি পাওয়ার জন্য দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং তাঁদের মাধ্যমে আবেদন করতে গিয়ে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—
- প্রথমে জমির মৌজা, দাগ ও খতিয়ানের তথ্য সংগ্রহ করুন।
- জমিটি সরকারি খাসজমি কি না এবং বন্দোবস্তযোগ্য কি না, তা ভূমি অফিসে যাচাই করুন।
- নির্ধারিত ফরমে নিজেই আবেদন করুন।
- আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার বা রসিদ সংগ্রহ করুন।
- সরকারি ফি নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।
- অনুমোদন ও চুক্তিপত্র ছাড়া জমির দখল নেওয়া বা স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকুন।
খাসজমি বন্দোবস্তসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পেতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.land.gov.bd ভিজিট করা যেতে পারে। এ ছাড়া ভূমিসেবা-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগের জন্য ১৬১২২ নম্বরে কল করা যায়।
সরকারি খাসজমি পেতে হলে সবার আগে জমির শ্রেণি, বন্দোবস্তের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য জেনে সরাসরি সরকারি দপ্তরে আবেদন করলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ ও হয়রানি এড়ানো সম্ভব।
/এবি/

জাল দলিলে জমি বা ফ্ল্যাট দখল হলে কী করবেন, জেনে নিন
জমির দলিলে স্বাক্ষরের আগে যেসব বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি
পারিবারিক জমি দান বা হেবা: দানকর, আয়কর ও উৎসে করের নতুন নিয়ম এবং হিসাবের উপায়







