৭ নভেম্বর বাংলাদেশের নতুন পথ নির্ধারণের দিন

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের নতুন পথ নির্ধারণের দিন
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এর আগে ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ৭ নভেম্বর আবারও পাল্টে যায় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। সেদিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহের পাশাপাশি রাজপথে নামে সাধারণ মানুষ। মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এই দিনটিকে বিএনপি ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। দলটির মতে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নেতৃত্বে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান।
এবারের ৭ নভেম্বর সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণের দিন। সেদিন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।
শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছে।
বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বর
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি বেশিদিন একই রকম থাকেনি। ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একাংশের সদস্যদের বিদ্রোহ এবং সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।
অভ্যুত্থানের পর দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী নানাভাবে ব্যাখ্যা করে। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দেখে। দলটির মতে, সেদিন সিপাহি ও সাধারণ মানুষের ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পাশাপাশি বাংলাদেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান।
তার মতে, সময় ও প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও এসব আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ যুদ্ধ করেছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। আর ২০২৪ সালে দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।
বাণীতে তিনি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড, জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে আবার সংগঠিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করেছিল।
সবার আগে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দেশের স্বার্থে এক হতে হবে।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা রুখে দেওয়াও জরুরি।
এ জন্য ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশপ্রেমিক মানুষের অঙ্গীকার হওয়া উচিত, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে প্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এর আগে ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ৭ নভেম্বর আবারও পাল্টে যায় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। সেদিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহের পাশাপাশি রাজপথে নামে সাধারণ মানুষ। মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এই দিনটিকে বিএনপি ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। দলটির মতে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নেতৃত্বে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান।
এবারের ৭ নভেম্বর সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণের দিন। সেদিন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।
শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছে।
বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বর
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি বেশিদিন একই রকম থাকেনি। ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একাংশের সদস্যদের বিদ্রোহ এবং সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।
অভ্যুত্থানের পর দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী নানাভাবে ব্যাখ্যা করে। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দেখে। দলটির মতে, সেদিন সিপাহি ও সাধারণ মানুষের ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পাশাপাশি বাংলাদেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান।
তার মতে, সময় ও প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও এসব আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ যুদ্ধ করেছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। আর ২০২৪ সালে দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।
বাণীতে তিনি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড, জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে আবার সংগঠিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করেছিল।
সবার আগে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দেশের স্বার্থে এক হতে হবে।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা রুখে দেওয়াও জরুরি।
এ জন্য ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশপ্রেমিক মানুষের অঙ্গীকার হওয়া উচিত, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে প্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের নতুন পথ নির্ধারণের দিন
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এর আগে ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ৭ নভেম্বর আবারও পাল্টে যায় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। সেদিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহের পাশাপাশি রাজপথে নামে সাধারণ মানুষ। মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এই দিনটিকে বিএনপি ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। দলটির মতে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নেতৃত্বে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান।
এবারের ৭ নভেম্বর সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণের দিন। সেদিন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।
শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছে।
বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বর
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি বেশিদিন একই রকম থাকেনি। ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একাংশের সদস্যদের বিদ্রোহ এবং সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।
অভ্যুত্থানের পর দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী নানাভাবে ব্যাখ্যা করে। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দেখে। দলটির মতে, সেদিন সিপাহি ও সাধারণ মানুষের ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পাশাপাশি বাংলাদেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান।
তার মতে, সময় ও প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও এসব আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ যুদ্ধ করেছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। আর ২০২৪ সালে দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।
বাণীতে তিনি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড, জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে আবার সংগঠিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করেছিল।
সবার আগে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দেশের স্বার্থে এক হতে হবে।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা রুখে দেওয়াও জরুরি।
এ জন্য ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশপ্রেমিক মানুষের অঙ্গীকার হওয়া উচিত, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে প্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।









