বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

দীর্ঘ সময়ং পর এবার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছে বিএনপি। সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রদর্শনী। এতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা বর্ণনা করা হয়। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথাও।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে অংশ নেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট ও বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য।

প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের ধারাবিবরণীতে ৭ নভেম্বরের অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে জিয়াউর রহমানের সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, জিয়াউর রহমান ছিলেন সাহসী, মেধাবী ও বিচক্ষণ সামরিক কর্মকর্তা। ১৯৫৩ সালে তিনি মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন পান। সামরিক জীবনে সাহসিকতার জন্য তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদক ‘হিলাল-ই-জুরাত’ লাভ করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টিও তিনি লক্ষ করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

ধারাবিবরণীতে বলা হয়, ১৯৭০ সালে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও জোরালো হয়।

১৯৭১ সালের মার্চে পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতার আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের বিষয়টিও প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়। ধারাবিবরণীতে বলা হয়, ওই ভাষণে তিনি চার দফা দাবি তুলে ধরে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

এরপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তানে সেনা সমাবেশ করা হয় বলে ধারাবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলাকে ইতিহাসের নৃশংস গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

এতে বলা হয়, চট্টগ্রামে অবস্থানরত তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার খবর পেয়ে বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আশপাশে থাকা পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের আটক করেন। পরে বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রদর্শনীতে ১৯৭২ সালের মার্চে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত জিয়াউর রহমানের একটি নিবন্ধের অংশও তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা লিখেছিলেন।

ধারাবিবরণীতে আরও বলা হয়, ২৬ মার্চ রাতে জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের ঘোষণা এবং পরদিন ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। পরে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

/এমআর/