ভারতের ভিসা আবেদনের নতুন নিয়ম, জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া

ভারতের ভিসা আবেদনের নতুন নিয়ম, জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)। সাম্প্রতিক সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে নতুন নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভারতের পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
যারা আগামীতে ভারত ভ্রমণের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য নতুন নিয়ম ও ভিসাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো।
৫ কেন্দ্রে মিলবে ভারতের পর্যটন ভিসা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। কেন্দ্রগুলো হলো—ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনা।
ভারতীয় ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন ও ওয়েবফাইল তৈরি
ভিসার প্রথম ধাপ শুরু করতে হবে অনলাইনে। এজন্য প্রথমে যেতে হবে https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/Registration এই ওয়েবসাইটে।
এখানে নির্ধারিত ফরম সঠিকভাবে পূরণ করার পর ভিসা আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করতে হবে। মনে রাখবেন, আপলোড করা ওয়েবফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। কোনো ধরনের পরিবর্তিত বা সম্পাদিত ফাইল গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা বাতিল করা হবে।
ভারতের ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের নতুন নিয়ম
ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে যেদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন, তার ঠিক আগের দিনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য স্লটগুলো পূর্ববর্তী কার্যদিবসেই প্রকাশ করা হয়।
১. সাইন-আপ প্রক্রিয়া: প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে https://appointment.ivacbd.com সাইটে গিয়ে ভিসার ওয়েব ফাইলে থাকা ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইন-আপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
২. ওটিপি ভেরিফিকেশন: সাইন-আপের সময় একটি ওটিপি ইমেইলে এবং আরেকটি মোবাইল এসএমএসে পাঠানো হবে। প্রথমে ইমেইল এবং পরে মোবাইল নম্বরের ওটিপি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
৩. ডকুমেন্ট আপলোড ও স্লট বুকিং: বিকেল সাড়ে ৪টার পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর লগইন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতা আসবে, যেখানে প্রথমে ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্ট আপলোড করার পর সিস্টেম নিজেই তথ্যগুলো যুক্ত করে নেবে।
৪. সন্ধ্যা ৬টায় স্লট বুকিং: সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। লগইন করার পর সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি স্লট দেখাবে। সেটি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে একবার বদলানোর সুযোগ রয়েছে। স্লট বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পরই অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে।
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
ভারতের ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার সময় সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।
পাসপোর্ট: আবেদন জমা দেওয়ার সময় পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস এবং অন্তত দুটি খালি পাতা থাকতে হবে। এ ছাড়া পাসপোর্টের প্রথম চার পাতা এবং মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন থাকলে (যদি থাকে) তার কপি যুক্ত করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে অবশ্যই সব পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, তা না হলে আবেদন অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে।
ছবি: ৩ মাসের কম পুরোনো, সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল দেখা যায় এমন পাসপোর্ট সাইজের (২x২) রঙিন ছবি। অনলাইন আবেদনপত্রে নির্দিষ্ট জায়গায় এই ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
পরিচয়ের প্রমাণ: জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
আবাসনের প্রমাণ: সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরোনো নয়) যেকোনো ইউটিলিটি বিল যেমন— বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল।
পেশার প্রমাণ: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা নোটিশ, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ: প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্স, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সের হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ: অনলাইন ভিসা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
ভারতের ভিসা প্রসেসিং ফি কত?
ভারত সরকার ভিসা ফি বাবদ কোনো অর্থ নেয় না। তবে আইভ্যাকের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চার্জ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়। এই ফি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করার সময় অনলাইনে পেমেন্ট করতে হয়।
পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া
পুরো ভিসা প্রক্রিয়াকরণ শেষ হলে আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই এসএমএস অনুযায়ী নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
/এবি/

ভারতের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)। সাম্প্রতিক সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে নতুন নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভারতের পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
যারা আগামীতে ভারত ভ্রমণের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য নতুন নিয়ম ও ভিসাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো।
৫ কেন্দ্রে মিলবে ভারতের পর্যটন ভিসা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। কেন্দ্রগুলো হলো—ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনা।
ভারতীয় ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন ও ওয়েবফাইল তৈরি
ভিসার প্রথম ধাপ শুরু করতে হবে অনলাইনে। এজন্য প্রথমে যেতে হবে https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/Registration এই ওয়েবসাইটে।
এখানে নির্ধারিত ফরম সঠিকভাবে পূরণ করার পর ভিসা আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করতে হবে। মনে রাখবেন, আপলোড করা ওয়েবফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। কোনো ধরনের পরিবর্তিত বা সম্পাদিত ফাইল গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা বাতিল করা হবে।
ভারতের ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের নতুন নিয়ম
ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে যেদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন, তার ঠিক আগের দিনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য স্লটগুলো পূর্ববর্তী কার্যদিবসেই প্রকাশ করা হয়।
১. সাইন-আপ প্রক্রিয়া: প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে https://appointment.ivacbd.com সাইটে গিয়ে ভিসার ওয়েব ফাইলে থাকা ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইন-আপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
২. ওটিপি ভেরিফিকেশন: সাইন-আপের সময় একটি ওটিপি ইমেইলে এবং আরেকটি মোবাইল এসএমএসে পাঠানো হবে। প্রথমে ইমেইল এবং পরে মোবাইল নম্বরের ওটিপি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
৩. ডকুমেন্ট আপলোড ও স্লট বুকিং: বিকেল সাড়ে ৪টার পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর লগইন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতা আসবে, যেখানে প্রথমে ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্ট আপলোড করার পর সিস্টেম নিজেই তথ্যগুলো যুক্ত করে নেবে।
৪. সন্ধ্যা ৬টায় স্লট বুকিং: সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। লগইন করার পর সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি স্লট দেখাবে। সেটি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে একবার বদলানোর সুযোগ রয়েছে। স্লট বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পরই অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে।
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
ভারতের ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার সময় সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।
পাসপোর্ট: আবেদন জমা দেওয়ার সময় পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস এবং অন্তত দুটি খালি পাতা থাকতে হবে। এ ছাড়া পাসপোর্টের প্রথম চার পাতা এবং মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন থাকলে (যদি থাকে) তার কপি যুক্ত করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে অবশ্যই সব পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, তা না হলে আবেদন অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে।
ছবি: ৩ মাসের কম পুরোনো, সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল দেখা যায় এমন পাসপোর্ট সাইজের (২x২) রঙিন ছবি। অনলাইন আবেদনপত্রে নির্দিষ্ট জায়গায় এই ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
পরিচয়ের প্রমাণ: জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
আবাসনের প্রমাণ: সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরোনো নয়) যেকোনো ইউটিলিটি বিল যেমন— বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল।
পেশার প্রমাণ: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা নোটিশ, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ: প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্স, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সের হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ: অনলাইন ভিসা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
ভারতের ভিসা প্রসেসিং ফি কত?
ভারত সরকার ভিসা ফি বাবদ কোনো অর্থ নেয় না। তবে আইভ্যাকের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চার্জ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়। এই ফি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করার সময় অনলাইনে পেমেন্ট করতে হয়।
পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া
পুরো ভিসা প্রক্রিয়াকরণ শেষ হলে আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই এসএমএস অনুযায়ী নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
/এবি/

ভারতের ভিসা আবেদনের নতুন নিয়ম, জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)। সাম্প্রতিক সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে নতুন নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভারতের পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
যারা আগামীতে ভারত ভ্রমণের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য নতুন নিয়ম ও ভিসাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো।
৫ কেন্দ্রে মিলবে ভারতের পর্যটন ভিসা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। কেন্দ্রগুলো হলো—ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনা।
ভারতীয় ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন ও ওয়েবফাইল তৈরি
ভিসার প্রথম ধাপ শুরু করতে হবে অনলাইনে। এজন্য প্রথমে যেতে হবে https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/Registration এই ওয়েবসাইটে।
এখানে নির্ধারিত ফরম সঠিকভাবে পূরণ করার পর ভিসা আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করতে হবে। মনে রাখবেন, আপলোড করা ওয়েবফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। কোনো ধরনের পরিবর্তিত বা সম্পাদিত ফাইল গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা বাতিল করা হবে।
ভারতের ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের নতুন নিয়ম
ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে যেদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন, তার ঠিক আগের দিনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য স্লটগুলো পূর্ববর্তী কার্যদিবসেই প্রকাশ করা হয়।
১. সাইন-আপ প্রক্রিয়া: প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে https://appointment.ivacbd.com সাইটে গিয়ে ভিসার ওয়েব ফাইলে থাকা ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইন-আপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
২. ওটিপি ভেরিফিকেশন: সাইন-আপের সময় একটি ওটিপি ইমেইলে এবং আরেকটি মোবাইল এসএমএসে পাঠানো হবে। প্রথমে ইমেইল এবং পরে মোবাইল নম্বরের ওটিপি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
৩. ডকুমেন্ট আপলোড ও স্লট বুকিং: বিকেল সাড়ে ৪টার পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর লগইন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতা আসবে, যেখানে প্রথমে ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্ট আপলোড করার পর সিস্টেম নিজেই তথ্যগুলো যুক্ত করে নেবে।
৪. সন্ধ্যা ৬টায় স্লট বুকিং: সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। লগইন করার পর সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি স্লট দেখাবে। সেটি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে একবার বদলানোর সুযোগ রয়েছে। স্লট বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পরই অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে।
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
ভারতের ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার সময় সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।
পাসপোর্ট: আবেদন জমা দেওয়ার সময় পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস এবং অন্তত দুটি খালি পাতা থাকতে হবে। এ ছাড়া পাসপোর্টের প্রথম চার পাতা এবং মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন থাকলে (যদি থাকে) তার কপি যুক্ত করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে অবশ্যই সব পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, তা না হলে আবেদন অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে।
ছবি: ৩ মাসের কম পুরোনো, সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল দেখা যায় এমন পাসপোর্ট সাইজের (২x২) রঙিন ছবি। অনলাইন আবেদনপত্রে নির্দিষ্ট জায়গায় এই ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
পরিচয়ের প্রমাণ: জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
আবাসনের প্রমাণ: সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরোনো নয়) যেকোনো ইউটিলিটি বিল যেমন— বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল।
পেশার প্রমাণ: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা নোটিশ, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ: প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্স, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সের হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ: অনলাইন ভিসা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
ভারতের ভিসা প্রসেসিং ফি কত?
ভারত সরকার ভিসা ফি বাবদ কোনো অর্থ নেয় না। তবে আইভ্যাকের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চার্জ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়। এই ফি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করার সময় অনলাইনে পেমেন্ট করতে হয়।
পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া
পুরো ভিসা প্রক্রিয়াকরণ শেষ হলে আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই এসএমএস অনুযায়ী নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
/এবি/








