৯০ বছরেও সংসারের ঘানি টানছেন আজিজুল হক

৯০ বছরেও সংসারের ঘানি টানছেন আজিজুল হক
শাহীন আল আমীন-সোহেল রানা

আজিজুল হকের বয়স এখন ৯০। এই বয়সে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটানো কথা তার। কিন্তু তার ভাগ্যে আরাম করে জীবন কাটানোর কথা যেন লেখা নেই। তাইতো এই বয়সে কুলি হিসেবে কাজ করে সংসারের ঘানি টানছেন তিনি।
এই সদা পরিশ্রমী বৃদ্ধের বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মিয়া পাড়ায়। তার সহায়-সম্পত্তি বলতে তেমন কিছু নেই। তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৯। তারা একই বাড়িতে থাকেন।
ছেলেরা থাকার পরে এই বয়সে কেন কাজ করছেন-এই প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হক বলেন, ‘কাম না করলে চলব কেমনে? কে আমার ভার নেবে? পরিবারে লোক সংখ্যা বেশি। ভরণপোষণ ও নাতিদের পড়ালেখার খরচ দিতে হয়। বাধ্য হয়েই এই বয়সে কাজ করতে হচ্ছে। কাম না করলে শরীরও ভালো লাগে না। অসুস্থ হয়ে পড়ি।’
তার বড় ছেলের নাম সবুজ মিয়া। তিনি কাজ করেন রাজধানীর মিরপুর -১ নাম্বার কাচাবাজারে। বাবার সম্পর্কে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অভাব-অনটনের কারণে বাবা এখনো কুলি হিসেবে কাজ করছেন। আমিও একজন কুলি। সামান্য বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই।’

দ্বিতীয় ছেলে সাকিল মিয়াও কুলি শ্রমিক। তিনি জানালেন, ‘আমি বাবার সঙ্গে বকশীগঞ্জ বাজারেই কুলি হিসেবে কাজ করি।’
ব্যবসায়ীদের কাছে আজিজুল হক একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বকশীগঞ্জ কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আজিজুল হক কঠোর পরিশ্রমী লোক। সততার কারণে ব্যবসায়ীরা তাকে ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন।
জানা গেছে, আজিজুল হকের বাবাও একজন কুলি ছিলেন। বাবার হাত ধরেই ১৫ বছর বয়সে এই পেশায় আসেন তিনি। বকশীগঞ্জ বাজারের মালামাল এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পৌঁছে দেওয়াই তার কাজ। ৭৫ বছর ধরে বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে আছেন তিনি। তার দৈনিক আয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। যুবক বয়সে তিনি ১২০ কেজি থেকে ১৪০ কেজি পণ্য বহন করতে পারতেন। বয়সের ভারে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারপরও কাজ করে যাচ্ছেন। মাথায় বা পিঠে করে এখনো ১০০ কেজি মালামাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে পারেন। কারও সহযোগিতা ছাড়া বহন করতে পারেন ৫০ থেকে ৬০ কেজি পণ্য।
অভাব-অনটন থাকলেও কখনও কোনো অপরাধে জড়াননি আজিজুল হক। এ বিষয়ে তার স্ত্রী আবেদা বেগম জানালেন, ‘আমার পরিবারে অভাব আছে। কিন্তু লোকজনের মুখে যখন স্বামীর কর্মজীবনে সততার গল্প শুনি, তখন বুকটা ভরে যায়।’
জানা গেছে, আজিজুল ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে প্রশিক্ষণও নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়নি। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।
বকশীগঞ্জ কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাজুল হক বলেন, আজিজুল হক ৯০ বছর বয়সে যে পরিমাণ কাজ করেন তার সমপরিমাণ কাজ একজন যুবকও করতে পারবে না।

আজিজুল হকের বয়স এখন ৯০। এই বয়সে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটানো কথা তার। কিন্তু তার ভাগ্যে আরাম করে জীবন কাটানোর কথা যেন লেখা নেই। তাইতো এই বয়সে কুলি হিসেবে কাজ করে সংসারের ঘানি টানছেন তিনি।
এই সদা পরিশ্রমী বৃদ্ধের বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মিয়া পাড়ায়। তার সহায়-সম্পত্তি বলতে তেমন কিছু নেই। তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৯। তারা একই বাড়িতে থাকেন।
ছেলেরা থাকার পরে এই বয়সে কেন কাজ করছেন-এই প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হক বলেন, ‘কাম না করলে চলব কেমনে? কে আমার ভার নেবে? পরিবারে লোক সংখ্যা বেশি। ভরণপোষণ ও নাতিদের পড়ালেখার খরচ দিতে হয়। বাধ্য হয়েই এই বয়সে কাজ করতে হচ্ছে। কাম না করলে শরীরও ভালো লাগে না। অসুস্থ হয়ে পড়ি।’
তার বড় ছেলের নাম সবুজ মিয়া। তিনি কাজ করেন রাজধানীর মিরপুর -১ নাম্বার কাচাবাজারে। বাবার সম্পর্কে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অভাব-অনটনের কারণে বাবা এখনো কুলি হিসেবে কাজ করছেন। আমিও একজন কুলি। সামান্য বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই।’

দ্বিতীয় ছেলে সাকিল মিয়াও কুলি শ্রমিক। তিনি জানালেন, ‘আমি বাবার সঙ্গে বকশীগঞ্জ বাজারেই কুলি হিসেবে কাজ করি।’
ব্যবসায়ীদের কাছে আজিজুল হক একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বকশীগঞ্জ কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আজিজুল হক কঠোর পরিশ্রমী লোক। সততার কারণে ব্যবসায়ীরা তাকে ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন।
জানা গেছে, আজিজুল হকের বাবাও একজন কুলি ছিলেন। বাবার হাত ধরেই ১৫ বছর বয়সে এই পেশায় আসেন তিনি। বকশীগঞ্জ বাজারের মালামাল এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পৌঁছে দেওয়াই তার কাজ। ৭৫ বছর ধরে বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে আছেন তিনি। তার দৈনিক আয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। যুবক বয়সে তিনি ১২০ কেজি থেকে ১৪০ কেজি পণ্য বহন করতে পারতেন। বয়সের ভারে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারপরও কাজ করে যাচ্ছেন। মাথায় বা পিঠে করে এখনো ১০০ কেজি মালামাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে পারেন। কারও সহযোগিতা ছাড়া বহন করতে পারেন ৫০ থেকে ৬০ কেজি পণ্য।
অভাব-অনটন থাকলেও কখনও কোনো অপরাধে জড়াননি আজিজুল হক। এ বিষয়ে তার স্ত্রী আবেদা বেগম জানালেন, ‘আমার পরিবারে অভাব আছে। কিন্তু লোকজনের মুখে যখন স্বামীর কর্মজীবনে সততার গল্প শুনি, তখন বুকটা ভরে যায়।’
জানা গেছে, আজিজুল ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে প্রশিক্ষণও নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়নি। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।
বকশীগঞ্জ কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাজুল হক বলেন, আজিজুল হক ৯০ বছর বয়সে যে পরিমাণ কাজ করেন তার সমপরিমাণ কাজ একজন যুবকও করতে পারবে না।

৯০ বছরেও সংসারের ঘানি টানছেন আজিজুল হক
শাহীন আল আমীন-সোহেল রানা

আজিজুল হকের বয়স এখন ৯০। এই বয়সে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটানো কথা তার। কিন্তু তার ভাগ্যে আরাম করে জীবন কাটানোর কথা যেন লেখা নেই। তাইতো এই বয়সে কুলি হিসেবে কাজ করে সংসারের ঘানি টানছেন তিনি।
এই সদা পরিশ্রমী বৃদ্ধের বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মিয়া পাড়ায়। তার সহায়-সম্পত্তি বলতে তেমন কিছু নেই। তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৯। তারা একই বাড়িতে থাকেন।
ছেলেরা থাকার পরে এই বয়সে কেন কাজ করছেন-এই প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হক বলেন, ‘কাম না করলে চলব কেমনে? কে আমার ভার নেবে? পরিবারে লোক সংখ্যা বেশি। ভরণপোষণ ও নাতিদের পড়ালেখার খরচ দিতে হয়। বাধ্য হয়েই এই বয়সে কাজ করতে হচ্ছে। কাম না করলে শরীরও ভালো লাগে না। অসুস্থ হয়ে পড়ি।’
তার বড় ছেলের নাম সবুজ মিয়া। তিনি কাজ করেন রাজধানীর মিরপুর -১ নাম্বার কাচাবাজারে। বাবার সম্পর্কে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অভাব-অনটনের কারণে বাবা এখনো কুলি হিসেবে কাজ করছেন। আমিও একজন কুলি। সামান্য বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই।’

দ্বিতীয় ছেলে সাকিল মিয়াও কুলি শ্রমিক। তিনি জানালেন, ‘আমি বাবার সঙ্গে বকশীগঞ্জ বাজারেই কুলি হিসেবে কাজ করি।’
ব্যবসায়ীদের কাছে আজিজুল হক একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বকশীগঞ্জ কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আজিজুল হক কঠোর পরিশ্রমী লোক। সততার কারণে ব্যবসায়ীরা তাকে ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন।
জানা গেছে, আজিজুল হকের বাবাও একজন কুলি ছিলেন। বাবার হাত ধরেই ১৫ বছর বয়সে এই পেশায় আসেন তিনি। বকশীগঞ্জ বাজারের মালামাল এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পৌঁছে দেওয়াই তার কাজ। ৭৫ বছর ধরে বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে আছেন তিনি। তার দৈনিক আয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। যুবক বয়সে তিনি ১২০ কেজি থেকে ১৪০ কেজি পণ্য বহন করতে পারতেন। বয়সের ভারে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারপরও কাজ করে যাচ্ছেন। মাথায় বা পিঠে করে এখনো ১০০ কেজি মালামাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে পারেন। কারও সহযোগিতা ছাড়া বহন করতে পারেন ৫০ থেকে ৬০ কেজি পণ্য।
অভাব-অনটন থাকলেও কখনও কোনো অপরাধে জড়াননি আজিজুল হক। এ বিষয়ে তার স্ত্রী আবেদা বেগম জানালেন, ‘আমার পরিবারে অভাব আছে। কিন্তু লোকজনের মুখে যখন স্বামীর কর্মজীবনে সততার গল্প শুনি, তখন বুকটা ভরে যায়।’
জানা গেছে, আজিজুল ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে প্রশিক্ষণও নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়নি। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।
বকশীগঞ্জ কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাজুল হক বলেন, আজিজুল হক ৯০ বছর বয়সে যে পরিমাণ কাজ করেন তার সমপরিমাণ কাজ একজন যুবকও করতে পারবে না।




