স্কলারশিপে জাপান গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালালেন রাজউক কর্মকর্তা, জাইকার কঠোর বার্তা

স্কলারশিপে জাপান গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালালেন রাজউক কর্মকর্তা, জাইকার কঠোর বার্তা
সেলিনা আক্তার

জাইকার অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গেছেন রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)। এ ঘটনার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ‘ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগ প্রশমন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জাপান সরকারের ব্যয় হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে রাজউককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এমন কাণ্ডে জাইকার কাছে রাজউকের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাইফুল ইসলাম সাইফ ছাড়াও এর আগে কয়েকজন অথরাইজড অফিসার এভাবে বিদেশ পালিয়ে গেছেন।
জাইকার চিঠি পাওয়ার বিষয়ে রাজউক প্রশাসন বলছে, এই ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য এখন থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করা হবে।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) বাংলাদেশ কার্যালয়ের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ শোজি ইজুমি স্বাক্ষরিত এক চিঠি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তথ্য না দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া এবং কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া আন্তর্জাতিক কর্মসূচির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের অপেশাদার আচরণে সরকারি সম্পদের অপচয় হয় এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ী অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান ও দেশে না ফেরার পরিস্থিতি যাচাই করার তাগিদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত সিভিল সার্ভিস বিধিমালা, চাকরির নিয়ম ও বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণে ব্যয় হওয়া জাপান সরকারের সম্পদ পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ এবং এ বিষয়ে নেওয়া ব্যবস্থা জাইকাকে লিখিতভাবে জানাতে রাজউককে বলা হয়েছে।
জানা যায়, জাইকার উন্নয়ন সহায়তা কাঠামোর আওতায় ‘ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগ প্রশমন’ বিষয়ক এক বছরের মাস্টার্স কোর্সে অংশ নিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানে যান রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করার কথা থাকলেও কোর্স শেষে তিনি আর দেশে ফেরেননি। জাইকা এ কর্মকর্তার দেশে ফেরার জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করলেও তিনি রাজউক বা জাইকাকে কিছু না জানিয়ে অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে গেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে রাজউকের সদস্য (প্রশাসন) মো. শাহীনুর আলম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘জাইকার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে রাজউকসহ পুরো সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেই জন্য আমরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করবো। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।’
রাজধানী শহর ঢাকার উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রাজউকের অথরাইজড অফিসারদের নানা কৌশলে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি বেশ আলোচনায় এসেছে। এর কারণ হিসেবে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে ইমারত নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা অথরাইজড অফিসাররা অল্প সময়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সরকারি সংস্থাগুলোর আইনি পদক্ষেপ থেকে রক্ষা এবং বাকি জীবন নিরাপদে কাটাতে তারা বিদেশে পালিয়ে যান।
রাজউকের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় সাইফুল ইসলাম (সাইফ) ছাড়াও রয়েছেন অথরাইজড অফিসার মাকিদ এহসান, মো. ইমরুল হাসান, শেখ মহাব্বির রনি ও মোহাম্মদ হোসেন। সেই তালিকায় আরও কয়েকজন অথরাইজড অফিসার যুক্ত হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জাইকা থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। মো. সাইফুল ইসলাম উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়টি নথিতে উপস্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

জাইকার অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গেছেন রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)। এ ঘটনার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ‘ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগ প্রশমন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জাপান সরকারের ব্যয় হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে রাজউককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এমন কাণ্ডে জাইকার কাছে রাজউকের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাইফুল ইসলাম সাইফ ছাড়াও এর আগে কয়েকজন অথরাইজড অফিসার এভাবে বিদেশ পালিয়ে গেছেন।
জাইকার চিঠি পাওয়ার বিষয়ে রাজউক প্রশাসন বলছে, এই ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য এখন থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করা হবে।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) বাংলাদেশ কার্যালয়ের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ শোজি ইজুমি স্বাক্ষরিত এক চিঠি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তথ্য না দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া এবং কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া আন্তর্জাতিক কর্মসূচির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের অপেশাদার আচরণে সরকারি সম্পদের অপচয় হয় এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ী অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান ও দেশে না ফেরার পরিস্থিতি যাচাই করার তাগিদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত সিভিল সার্ভিস বিধিমালা, চাকরির নিয়ম ও বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণে ব্যয় হওয়া জাপান সরকারের সম্পদ পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ এবং এ বিষয়ে নেওয়া ব্যবস্থা জাইকাকে লিখিতভাবে জানাতে রাজউককে বলা হয়েছে।
জানা যায়, জাইকার উন্নয়ন সহায়তা কাঠামোর আওতায় ‘ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগ প্রশমন’ বিষয়ক এক বছরের মাস্টার্স কোর্সে অংশ নিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানে যান রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করার কথা থাকলেও কোর্স শেষে তিনি আর দেশে ফেরেননি। জাইকা এ কর্মকর্তার দেশে ফেরার জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করলেও তিনি রাজউক বা জাইকাকে কিছু না জানিয়ে অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে গেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে রাজউকের সদস্য (প্রশাসন) মো. শাহীনুর আলম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘জাইকার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে রাজউকসহ পুরো সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেই জন্য আমরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করবো। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।’
রাজধানী শহর ঢাকার উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রাজউকের অথরাইজড অফিসারদের নানা কৌশলে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি বেশ আলোচনায় এসেছে। এর কারণ হিসেবে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে ইমারত নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা অথরাইজড অফিসাররা অল্প সময়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সরকারি সংস্থাগুলোর আইনি পদক্ষেপ থেকে রক্ষা এবং বাকি জীবন নিরাপদে কাটাতে তারা বিদেশে পালিয়ে যান।
রাজউকের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় সাইফুল ইসলাম (সাইফ) ছাড়াও রয়েছেন অথরাইজড অফিসার মাকিদ এহসান, মো. ইমরুল হাসান, শেখ মহাব্বির রনি ও মোহাম্মদ হোসেন। সেই তালিকায় আরও কয়েকজন অথরাইজড অফিসার যুক্ত হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জাইকা থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। মো. সাইফুল ইসলাম উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়টি নথিতে উপস্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

স্কলারশিপে জাপান গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালালেন রাজউক কর্মকর্তা, জাইকার কঠোর বার্তা
সেলিনা আক্তার

জাইকার অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গেছেন রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)। এ ঘটনার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ‘ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগ প্রশমন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জাপান সরকারের ব্যয় হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে রাজউককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এমন কাণ্ডে জাইকার কাছে রাজউকের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাইফুল ইসলাম সাইফ ছাড়াও এর আগে কয়েকজন অথরাইজড অফিসার এভাবে বিদেশ পালিয়ে গেছেন।
জাইকার চিঠি পাওয়ার বিষয়ে রাজউক প্রশাসন বলছে, এই ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য এখন থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করা হবে।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) বাংলাদেশ কার্যালয়ের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ শোজি ইজুমি স্বাক্ষরিত এক চিঠি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তথ্য না দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া এবং কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া আন্তর্জাতিক কর্মসূচির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের অপেশাদার আচরণে সরকারি সম্পদের অপচয় হয় এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ী অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান ও দেশে না ফেরার পরিস্থিতি যাচাই করার তাগিদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত সিভিল সার্ভিস বিধিমালা, চাকরির নিয়ম ও বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণে ব্যয় হওয়া জাপান সরকারের সম্পদ পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ এবং এ বিষয়ে নেওয়া ব্যবস্থা জাইকাকে লিখিতভাবে জানাতে রাজউককে বলা হয়েছে।
জানা যায়, জাইকার উন্নয়ন সহায়তা কাঠামোর আওতায় ‘ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগ প্রশমন’ বিষয়ক এক বছরের মাস্টার্স কোর্সে অংশ নিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানে যান রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ)। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করার কথা থাকলেও কোর্স শেষে তিনি আর দেশে ফেরেননি। জাইকা এ কর্মকর্তার দেশে ফেরার জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করলেও তিনি রাজউক বা জাইকাকে কিছু না জানিয়ে অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে গেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে রাজউকের সদস্য (প্রশাসন) মো. শাহীনুর আলম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘জাইকার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে রাজউকসহ পুরো সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেই জন্য আমরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করবো। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।’
রাজধানী শহর ঢাকার উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রাজউকের অথরাইজড অফিসারদের নানা কৌশলে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি বেশ আলোচনায় এসেছে। এর কারণ হিসেবে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে ইমারত নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা অথরাইজড অফিসাররা অল্প সময়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সরকারি সংস্থাগুলোর আইনি পদক্ষেপ থেকে রক্ষা এবং বাকি জীবন নিরাপদে কাটাতে তারা বিদেশে পালিয়ে যান।
রাজউকের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় সাইফুল ইসলাম (সাইফ) ছাড়াও রয়েছেন অথরাইজড অফিসার মাকিদ এহসান, মো. ইমরুল হাসান, শেখ মহাব্বির রনি ও মোহাম্মদ হোসেন। সেই তালিকায় আরও কয়েকজন অথরাইজড অফিসার যুক্ত হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জাইকা থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। মো. সাইফুল ইসলাম উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়টি নথিতে উপস্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

বিদেশে গেলে ফেরেন না রাজউকের অথরাইজড অফিসাররা
অর্থ ছাড়া কাজ করে না ‘অথরাইজড অফিসার’
৫ প্রকৌশলীর গাফিলতিতে এক যুগ ধরে ধুঁকছে ময়মনসিংহ কারাগার প্রকল্প
দুদকের তদন্তের মধ্যেই ক্ষমতা পেলেন অথরাইজড অফিসার পলাশ 







