বরখাস্ত হচ্ছেন সাজাপ্রাপ্ত ৯ পুলিশ কর্মকর্তা

বরখাস্ত হচ্ছেন সাজাপ্রাপ্ত ৯ পুলিশ কর্মকর্তা
আয়নাল হোসেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের ৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে।
২০১৮ সালের সরকারি আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা এক বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তাহলে তিনি আদেশ দেওয়ার তারিখ হতে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন।
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) রায়হান উদ্দিন খান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আদালতের রায়ের পর সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
গত ৬ জুলাই পুলিশ সদরদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও অধঃস্তন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ২ আদালত। ট্রাইব্যুনাল মূলত ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) এবং সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই সাজা দেন।
ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হচ্ছেন– ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি ১ ও ২) সাজার পরোয়ানা, রায় ও আদেশনামা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো–
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সিলেটে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কক্সবাজারের উখিয়া ১৪ এপিবিএনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহী-রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহীর সারদা বিপিএ-তে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহিল কাফীকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন। সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মানুগ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের ৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে।
২০১৮ সালের সরকারি আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা এক বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তাহলে তিনি আদেশ দেওয়ার তারিখ হতে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন।
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) রায়হান উদ্দিন খান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আদালতের রায়ের পর সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
গত ৬ জুলাই পুলিশ সদরদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও অধঃস্তন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ২ আদালত। ট্রাইব্যুনাল মূলত ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) এবং সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই সাজা দেন।
ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হচ্ছেন– ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি ১ ও ২) সাজার পরোয়ানা, রায় ও আদেশনামা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো–
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সিলেটে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কক্সবাজারের উখিয়া ১৪ এপিবিএনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহী-রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহীর সারদা বিপিএ-তে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহিল কাফীকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন। সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মানুগ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বরখাস্ত হচ্ছেন সাজাপ্রাপ্ত ৯ পুলিশ কর্মকর্তা
আয়নাল হোসেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের ৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে।
২০১৮ সালের সরকারি আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা এক বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তাহলে তিনি আদেশ দেওয়ার তারিখ হতে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন।
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) রায়হান উদ্দিন খান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আদালতের রায়ের পর সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
গত ৬ জুলাই পুলিশ সদরদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও অধঃস্তন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ২ আদালত। ট্রাইব্যুনাল মূলত ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) এবং সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই সাজা দেন।
ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হচ্ছেন– ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি ১ ও ২) সাজার পরোয়ানা, রায় ও আদেশনামা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো–
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সিলেটে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কক্সবাজারের উখিয়া ১৪ এপিবিএনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহী-রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহীর সারদা বিপিএ-তে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহিল কাফীকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন। সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মানুগ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ্য চাঁদাবাজির শিকার সবজি বিক্রেতা থেকে বাড়ির মালিক







