বাণিজ্য চুক্তির ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য চুক্তির ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ১৩: ২৫

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাব দেশের আমদানিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০১ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।
মোট আমদানির ৩৮ শতাংশ করেছে ৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান– পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআরের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ওই আলোচনার অংশ হিসেবেই আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ৩ দিন আগে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
তবে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ এখন কিছুটা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর এর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া একই ধরনের একটি চুক্তি বাতিলও করেছে।
এআরটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার এবং আরও ২ হাজার ২১০ পণ্যের শুল্ক ধাপে ধাপে কমাতে রাজি হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মোস্ট-ফেভারড-নেশন (এমএফএন) শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে।
চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হলেও এরই মধ্যে বড় অঙ্কের আমদানি শুরু হয়েছে। গত মাসে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা) চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সীমিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে। তার মতে, দেশীয় চাহিদা কম থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানি করতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের স্বার্থকে কম গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এনবিআরের তথ্যমতে, জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ৮৩ শতাংশই ছিল ১০টি নির্দিষ্ট পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে– এলএনজি, এলপিজি, গম, সয়াবিন, তুলা, লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপ, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও তরল প্রোপেন।
সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে এলএনজি, যার মূল্য ৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এটি আমদানি করেছে পেট্রোবাংলা। এর পরেই রয়েছে এলপিজি (৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা), যার প্রধান আমদানিকারক ছিল ওমেরা পেট্রোলিয়াম (৬৮৪ কোটি টাকা), সান গ্যাস (৫০৭ কোটি টাকা) এবং ইউনাইটেড আয়গাজ এলপিজি (৪৪২ কোটি টাকা)। গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো এলএনজি বা এলপিজি আমদানি করেনি।
এছাড়া এবার ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার মার্কিন গম আমদানি করা হয়েছে, যার বড় অংশই কিনেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন তুলার আমদানি ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন আমদানিও ১৩৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তবে কিছু পণ্যের আমদানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেলের আমদানি ৩ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ২৪০ কোটি টাকায় এবং লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপের আমদানি ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা থেকে কমে ৭০৪ কোটি টাকায় নেমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাব দেশের আমদানিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০১ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।
মোট আমদানির ৩৮ শতাংশ করেছে ৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান– পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআরের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ওই আলোচনার অংশ হিসেবেই আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ৩ দিন আগে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
তবে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ এখন কিছুটা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর এর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া একই ধরনের একটি চুক্তি বাতিলও করেছে।
এআরটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার এবং আরও ২ হাজার ২১০ পণ্যের শুল্ক ধাপে ধাপে কমাতে রাজি হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মোস্ট-ফেভারড-নেশন (এমএফএন) শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে।
চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হলেও এরই মধ্যে বড় অঙ্কের আমদানি শুরু হয়েছে। গত মাসে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা) চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সীমিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে। তার মতে, দেশীয় চাহিদা কম থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানি করতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের স্বার্থকে কম গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এনবিআরের তথ্যমতে, জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ৮৩ শতাংশই ছিল ১০টি নির্দিষ্ট পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে– এলএনজি, এলপিজি, গম, সয়াবিন, তুলা, লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপ, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও তরল প্রোপেন।
সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে এলএনজি, যার মূল্য ৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এটি আমদানি করেছে পেট্রোবাংলা। এর পরেই রয়েছে এলপিজি (৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা), যার প্রধান আমদানিকারক ছিল ওমেরা পেট্রোলিয়াম (৬৮৪ কোটি টাকা), সান গ্যাস (৫০৭ কোটি টাকা) এবং ইউনাইটেড আয়গাজ এলপিজি (৪৪২ কোটি টাকা)। গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো এলএনজি বা এলপিজি আমদানি করেনি।
এছাড়া এবার ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার মার্কিন গম আমদানি করা হয়েছে, যার বড় অংশই কিনেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন তুলার আমদানি ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন আমদানিও ১৩৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তবে কিছু পণ্যের আমদানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেলের আমদানি ৩ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ২৪০ কোটি টাকায় এবং লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপের আমদানি ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা থেকে কমে ৭০৪ কোটি টাকায় নেমেছে।

বাণিজ্য চুক্তির ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ১৩: ২৫

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাব দেশের আমদানিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০১ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।
মোট আমদানির ৩৮ শতাংশ করেছে ৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান– পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআরের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ওই আলোচনার অংশ হিসেবেই আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ৩ দিন আগে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
তবে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ এখন কিছুটা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর এর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া একই ধরনের একটি চুক্তি বাতিলও করেছে।
এআরটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার এবং আরও ২ হাজার ২১০ পণ্যের শুল্ক ধাপে ধাপে কমাতে রাজি হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মোস্ট-ফেভারড-নেশন (এমএফএন) শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে।
চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হলেও এরই মধ্যে বড় অঙ্কের আমদানি শুরু হয়েছে। গত মাসে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা) চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সীমিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে। তার মতে, দেশীয় চাহিদা কম থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানি করতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের স্বার্থকে কম গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এনবিআরের তথ্যমতে, জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ৮৩ শতাংশই ছিল ১০টি নির্দিষ্ট পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে– এলএনজি, এলপিজি, গম, সয়াবিন, তুলা, লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপ, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও তরল প্রোপেন।
সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে এলএনজি, যার মূল্য ৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এটি আমদানি করেছে পেট্রোবাংলা। এর পরেই রয়েছে এলপিজি (৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা), যার প্রধান আমদানিকারক ছিল ওমেরা পেট্রোলিয়াম (৬৮৪ কোটি টাকা), সান গ্যাস (৫০৭ কোটি টাকা) এবং ইউনাইটেড আয়গাজ এলপিজি (৪৪২ কোটি টাকা)। গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো এলএনজি বা এলপিজি আমদানি করেনি।
এছাড়া এবার ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার মার্কিন গম আমদানি করা হয়েছে, যার বড় অংশই কিনেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন তুলার আমদানি ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন আমদানিও ১৩৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তবে কিছু পণ্যের আমদানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেলের আমদানি ৩ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ২৪০ কোটি টাকায় এবং লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপের আমদানি ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা থেকে কমে ৭০৪ কোটি টাকায় নেমেছে।
/এফসি/

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বেড়াজালে ঝুঁকিতে অর্থনীতি


