ইলিশের কেজি ৩০০০ টাকা, সবজিতে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইলিশের কেজি ৩০০০ টাকা, সবজিতে স্বস্তি
মাছ ও সবজির বাজার। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

নিত্যপণ্যের বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে ইলিশ মাছ। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। এছাড়া দেশি কই মাছের কেজি ২০০০ টাকা। রুই, পাবদা, কাচকি ও পোয়াসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও চড়া। ফলে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর রায়সাহেব বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন মাছের দোকানে ক্রেতাদের প্রচুর আনাগোনা রয়েছে। তবে মাছের দাম শুনে অনেকেই পরিমাণ কমিয়ে কিনছেন। কেউ আবার দরদাম করে পছন্দের মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ এবং ইলিশ কিনতে গেলে ক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা আর কাচকি ৮০০ টাকা। ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা এবং বড় আকারের ইলিশ ৩ হাজার টাকা। কই মাছের কেজি ২০০০ টাকা। পাবদা মাছ আকারভেদে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া মাছ ৫০০ টাকা এবং তেলাপিয়া মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে ক্রেতাদের ভিড়
মাছের বাজারে ক্রেতাদের ভিড়

কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় মাছ রাখতে চান তারা। কিন্তু মাছের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিদিন কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যে মাছ নিয়মিত কেনা হতো, এখন সেটির পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামের মাছ কিনতে হচ্ছে। অনেক পরিবার আবার মাছের পরিমাণ কমিয়ে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দিকে ঝুঁকছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ছুটির দিনে বেশি করে মাছ কিনতে এসেছিলাম। এসে দেখি বাজারে মাছের দাম অনেক বেশি। আগে যে পরিমাণ মাছ কিনতাম, এখন সেই টাকায় তার অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশ, কই ও রুই মাছের দাম শুনলে সাধারণ মানুষের কেনার সামর্থ্য থাকে না। ইলিশ তো এখন স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ কিনতে গিয়ে অন্য খরচ কমাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, মাছের বাজারে দাম নির্ভর করে সরবরাহ, মাছের আকার ও মানের ওপর। বড় আকারের মাছের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেশি। ক্রেতাদের চাহিদা থাকলেও বেশি দামের কারণে অনেকেই মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। এতে বিক্রিও আগের তুলনায় কিছুটা কম হচ্ছে।

বিক্রেতা আলিমুল ইসলাম বলেন, মাছের দাম বেশি হইলেও আমাগো তো আর ইচ্ছামতো দাম ধরা যায় না। আড়ত থেইকা যে দামে মাছ কিনতে হয়, এর লগে গাড়ি ভাড়া আর অন্যান্য খরচ যোগ কইরা একটু বেশি দামে বেচতে হয়। দেশি বড় কই আর ইলিশের সাপ্লাই আর আকারের ওপর দাম কমবেশি হয়। এতদিন তো ইলিশ ধরা বন্ধ আছিল। এখন আবার বাজারে ইলিশ উঠতে শুরু করছে, এই লাইগা হয়তো দাম একটু বেশি। তবে অনেক ক্রেতাই দাম শুইনা মাছ না কিনেই চইলা যায়।

মাছের পাশাপাশি বাজারে সবজির দামেও রয়েছে ভিন্নতা। তবে বেশ কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে সাধারণ আলু ৩০ টাকা এবং নতুন আলু ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁয়াজ ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি রসুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও ভারতীয় রসুন ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বাজার
সবজি বাজার

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা ক্রেতা ইয়ামিন হোসেন বলেন, এখন সবজির দাম তুলনামূলক কম। তবে দাম খুব বেশি কমেছে এমন না। গত সপ্তাহের চেয়ে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের সবজি কেনা যাচ্ছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তবে দাম আরও কমলে সবার জন্যই ভালো হতো।

সবজি বিক্রেতা মেহেদি হাসান বলেব, কিছু সবজির দাম একটু কমছে, তবে বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো বেশি। বাজারে সবজির সরবরাহ, আড়তে কেনার দাম আর পরিবহন খরচের ওপর দাম নির্ভর করে। আমরা কম দামে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করতে পারি। তবে ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে কম সবজি কিনতেছে। দাম আরও কমলে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষের জন্যই ভালো হবে।

/জেএইচ/