স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে এনসিপির গণবিক্ষোভ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে এনসিপির গণবিক্ষোভ আজ
এনসিপির লোগো

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে আজ রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

এনসিপির চার দফা দাবিগুলো হলো-

ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ; একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন; মানবাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতাবিরোধী সব আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে অবিলম্বে রায় কার্যকর করা।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব দাবিতে জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের কাছে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ গণবিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ ঘোষণা দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, নাগরিক পার্টি জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। এই গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ছাড়া জনগণের অধিকার আদায় হবে না।

নাহিদ বলেন, গত ৭ মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পারেননি। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত, সংবিধান কাটাছেঁড়া করছেন, যাতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী কায়দায় জনগণের অধিকার স্থায়ীভাবে হরণ করা যায়। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্দিন আহমেদের এই দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জ্বালানি মন্ত্রী এখন কথাও বলেন না। ৭ মাস ধরে জ্বালানি খাতের বিষয়ে সরকার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে জ্বালানিমন্ত্রীরও দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, ‌‌‌বলতে গেলে মন্ত্রিপরিষদের একজনের পর একজনের নাম বলতে হবে। তবে আপাতত আমরা এই দুজনকে সরিয়ে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে একজন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছেন, তাদের সরানো হচ্ছে না বা জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না। আমরা তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চাই।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। গণপ্রতিনিধিদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৮৭ জন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৩৭ জন নারী। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২২ জন।

তিনি বলেন, দেশের এই পরিস্থিতি চলবে, আর গণমাধ্যম কোনো সমালোচনা বা তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে যে কালো আইন ছিল, সেটিকে সংশোধন করে আরও দমনমূলক আইন হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা আইন আনার পাঁয়তারা করছে সরকার।

ঢাকা মহানগরে কর্মসূচি পালনের পর দাবি আদায়ে সারা দেশেও গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।

/জেএইচ/