সিন্ডিকেটের কবলে চিনিগুড়া চাল

সিন্ডিকেটের কবলে চিনিগুড়া চাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ভোজ্যতেলে খরচ বেড়েছে আরও ২৫ টাকা। নিন্মবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও হিমসিম খাচ্ছে রান্নার জোগানে। এদিকে সপ্তাহের শেষে দাম বেড়েছে চিনিগুড়া চাল, গাজর, টমেটো ও গ্যাস সিলেন্ডারের। তবে গত সপ্তাহ থেকে সবজির দাম প্রতি কেজি ১০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও এখনো ৬০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে গাজর ১৬০ টাকা ও টমেটো ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।
আগুন জ্বলছে ভোজ্যতেল, ডিম ও গ্যাস সিলেন্ডারের বাজারেও। ডিমের ডজন খুচরা বাজারে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে কোথাও কোথাও। চায়না রসুন খুচরা বাজারে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশিটা পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকায় । তবে আদার দাম ২০০ টাকার বেশি হলেও, ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি কেজি ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। ঈদ উপলক্ষে চিনিগুড়া চালের দাম আগের থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন মাতুয়াইল ফ্রেস চয়েজ এর খুচরা মুদি দোকানদার তাসিন আহমেদ। তিনি বলেন, আগে ভোজ্যতেলের ৫ কেজি বোতল ৯৫৫ টাকা থাকলেও এখন তা ৯৭৫ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মাতুইল ও নিউটাউন আবাসিক এলাকায় বাজার পর্যালোচনা করে জানা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর চিনিগুড়া চাল, আটা, ময়দা, তেল ও চিনির দাম বেড়েছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাদশা মিয়া রোডের মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, নতুন সব ধরনের সিদ্ধ চাল ৫০ কেজির বস্তা ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পুরোনো মোটা আঠাশ চালের দাম আগের মতো ২৯০০ টাকাই রয়েছে। মিনিকেট সব ধরনের চালে বস্তা প্রতি ২০০ টাকার বেশি কমেছে। তবে চিনিগুড়া চালের দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। মুদি পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
ডিম বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম বাড়তি রয়েছে। ডিমের দাম বেড়ে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ডেমরার নিউটাউন আবাসিক এলাকার ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা মোঃ রাকিব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, হাওরাঞ্চলে পানি বাড়ার কারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে সবজির দাম অনেক বেশি। তবে আগের থেকে চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা কমলেও, এটাকে আসলে কম বলা যায় না। কারণ এখনও বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।
তবে যাত্রাবাড়ীর আড়ৎ ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, মরিচ, লেবু ও শসার দাম তুলনামূলক কম। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার বেশি দামে।
এদিকে, ডিমের দামের পাশাপাশি মুরগির বাজার আগের চেয়ে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে কিছুটা কমে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান যাত্রাবাড়ীর মিন্টু মিয়া কাঁচা বাজারের দোকানদার ইব্রাহিম।
নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা শরিফ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতি নেই। সমস্যা বাজার সিন্ডিকেটের কারণে। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, তবে কৃষক ২০ থেকে ৪০ টাকাও দাম পাচ্ছে না। আমরা ক্রেতারা মধ্যসত্বভোগী সিন্ডিকেটের খপ্পরে নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছি।
এদিকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে নদীর মাছের দাম। তবে খুচরা বাজারে চাষের প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১৯০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, ৪০০ গ্রাম আকারের ইলিশের কেজি ১৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী মিন্টু মিয়া কাঁচা বাজারের মাছ বিক্রেতা মোতাহের হোসেন বলেন, সাগরে মাছ ধরার ওপর আগামী ১১ জুন প্রর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারে সাগরের মাছের যোগান নেই। এতে বাজারে মাছের দাম বেড়েছে।
বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেট চক্র জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষে তদারকি নেই বললেই চলে। সিন্ডিকেট চক্র কয়েক মাসে মুরগী, ডিম, আদা নিয়ে ব্যাপক কারসাজি করেছে। তবে মসলা নিয়ে তারা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। প্রশাসনের সায় না থাকলে এমন সিন্ডিকেট করতে পারে না কেউ।
তবে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ খানের মতে বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল কথিত ‘সিন্ডিকেট’ নয়, বরং প্রতিকূল আবহাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ। টানা বৃষ্টিতে সবজি সংগ্রহ ব্যাহত হওয়া এবং পোল্ট্রি খাতে রোগবালাই ও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রির ফলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। যা ঈদ কেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদার মুখে দামকে আরও উসকে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মনে করে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেবল খুচরা বাজারে অভিযান যথেষ্ট নয়। এজন্য কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করা, ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ভোজ্যতেলে খরচ বেড়েছে আরও ২৫ টাকা। নিন্মবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও হিমসিম খাচ্ছে রান্নার জোগানে। এদিকে সপ্তাহের শেষে দাম বেড়েছে চিনিগুড়া চাল, গাজর, টমেটো ও গ্যাস সিলেন্ডারের। তবে গত সপ্তাহ থেকে সবজির দাম প্রতি কেজি ১০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও এখনো ৬০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে গাজর ১৬০ টাকা ও টমেটো ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।
আগুন জ্বলছে ভোজ্যতেল, ডিম ও গ্যাস সিলেন্ডারের বাজারেও। ডিমের ডজন খুচরা বাজারে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে কোথাও কোথাও। চায়না রসুন খুচরা বাজারে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশিটা পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকায় । তবে আদার দাম ২০০ টাকার বেশি হলেও, ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি কেজি ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। ঈদ উপলক্ষে চিনিগুড়া চালের দাম আগের থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন মাতুয়াইল ফ্রেস চয়েজ এর খুচরা মুদি দোকানদার তাসিন আহমেদ। তিনি বলেন, আগে ভোজ্যতেলের ৫ কেজি বোতল ৯৫৫ টাকা থাকলেও এখন তা ৯৭৫ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মাতুইল ও নিউটাউন আবাসিক এলাকায় বাজার পর্যালোচনা করে জানা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর চিনিগুড়া চাল, আটা, ময়দা, তেল ও চিনির দাম বেড়েছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাদশা মিয়া রোডের মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, নতুন সব ধরনের সিদ্ধ চাল ৫০ কেজির বস্তা ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পুরোনো মোটা আঠাশ চালের দাম আগের মতো ২৯০০ টাকাই রয়েছে। মিনিকেট সব ধরনের চালে বস্তা প্রতি ২০০ টাকার বেশি কমেছে। তবে চিনিগুড়া চালের দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। মুদি পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
ডিম বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম বাড়তি রয়েছে। ডিমের দাম বেড়ে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ডেমরার নিউটাউন আবাসিক এলাকার ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা মোঃ রাকিব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, হাওরাঞ্চলে পানি বাড়ার কারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে সবজির দাম অনেক বেশি। তবে আগের থেকে চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা কমলেও, এটাকে আসলে কম বলা যায় না। কারণ এখনও বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।
তবে যাত্রাবাড়ীর আড়ৎ ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, মরিচ, লেবু ও শসার দাম তুলনামূলক কম। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার বেশি দামে।
এদিকে, ডিমের দামের পাশাপাশি মুরগির বাজার আগের চেয়ে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে কিছুটা কমে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান যাত্রাবাড়ীর মিন্টু মিয়া কাঁচা বাজারের দোকানদার ইব্রাহিম।
নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা শরিফ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতি নেই। সমস্যা বাজার সিন্ডিকেটের কারণে। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, তবে কৃষক ২০ থেকে ৪০ টাকাও দাম পাচ্ছে না। আমরা ক্রেতারা মধ্যসত্বভোগী সিন্ডিকেটের খপ্পরে নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছি।
এদিকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে নদীর মাছের দাম। তবে খুচরা বাজারে চাষের প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১৯০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, ৪০০ গ্রাম আকারের ইলিশের কেজি ১৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী মিন্টু মিয়া কাঁচা বাজারের মাছ বিক্রেতা মোতাহের হোসেন বলেন, সাগরে মাছ ধরার ওপর আগামী ১১ জুন প্রর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারে সাগরের মাছের যোগান নেই। এতে বাজারে মাছের দাম বেড়েছে।
বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেট চক্র জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষে তদারকি নেই বললেই চলে। সিন্ডিকেট চক্র কয়েক মাসে মুরগী, ডিম, আদা নিয়ে ব্যাপক কারসাজি করেছে। তবে মসলা নিয়ে তারা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। প্রশাসনের সায় না থাকলে এমন সিন্ডিকেট করতে পারে না কেউ।
তবে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ খানের মতে বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল কথিত ‘সিন্ডিকেট’ নয়, বরং প্রতিকূল আবহাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ। টানা বৃষ্টিতে সবজি সংগ্রহ ব্যাহত হওয়া এবং পোল্ট্রি খাতে রোগবালাই ও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রির ফলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। যা ঈদ কেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদার মুখে দামকে আরও উসকে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মনে করে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেবল খুচরা বাজারে অভিযান যথেষ্ট নয়। এজন্য কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করা, ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

সিন্ডিকেটের কবলে চিনিগুড়া চাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ভোজ্যতেলে খরচ বেড়েছে আরও ২৫ টাকা। নিন্মবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও হিমসিম খাচ্ছে রান্নার জোগানে। এদিকে সপ্তাহের শেষে দাম বেড়েছে চিনিগুড়া চাল, গাজর, টমেটো ও গ্যাস সিলেন্ডারের। তবে গত সপ্তাহ থেকে সবজির দাম প্রতি কেজি ১০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও এখনো ৬০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে গাজর ১৬০ টাকা ও টমেটো ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।
আগুন জ্বলছে ভোজ্যতেল, ডিম ও গ্যাস সিলেন্ডারের বাজারেও। ডিমের ডজন খুচরা বাজারে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে কোথাও কোথাও। চায়না রসুন খুচরা বাজারে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশিটা পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকায় । তবে আদার দাম ২০০ টাকার বেশি হলেও, ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি কেজি ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। ঈদ উপলক্ষে চিনিগুড়া চালের দাম আগের থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন মাতুয়াইল ফ্রেস চয়েজ এর খুচরা মুদি দোকানদার তাসিন আহমেদ। তিনি বলেন, আগে ভোজ্যতেলের ৫ কেজি বোতল ৯৫৫ টাকা থাকলেও এখন তা ৯৭৫ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মাতুইল ও নিউটাউন আবাসিক এলাকায় বাজার পর্যালোচনা করে জানা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর চিনিগুড়া চাল, আটা, ময়দা, তেল ও চিনির দাম বেড়েছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাদশা মিয়া রোডের মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, নতুন সব ধরনের সিদ্ধ চাল ৫০ কেজির বস্তা ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পুরোনো মোটা আঠাশ চালের দাম আগের মতো ২৯০০ টাকাই রয়েছে। মিনিকেট সব ধরনের চালে বস্তা প্রতি ২০০ টাকার বেশি কমেছে। তবে চিনিগুড়া চালের দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। মুদি পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
ডিম বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম বাড়তি রয়েছে। ডিমের দাম বেড়ে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ডেমরার নিউটাউন আবাসিক এলাকার ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা মোঃ রাকিব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, হাওরাঞ্চলে পানি বাড়ার কারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে সবজির দাম অনেক বেশি। তবে আগের থেকে চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা কমলেও, এটাকে আসলে কম বলা যায় না। কারণ এখনও বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।
তবে যাত্রাবাড়ীর আড়ৎ ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, মরিচ, লেবু ও শসার দাম তুলনামূলক কম। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার বেশি দামে।
এদিকে, ডিমের দামের পাশাপাশি মুরগির বাজার আগের চেয়ে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে কিছুটা কমে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান যাত্রাবাড়ীর মিন্টু মিয়া কাঁচা বাজারের দোকানদার ইব্রাহিম।
নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা শরিফ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতি নেই। সমস্যা বাজার সিন্ডিকেটের কারণে। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, তবে কৃষক ২০ থেকে ৪০ টাকাও দাম পাচ্ছে না। আমরা ক্রেতারা মধ্যসত্বভোগী সিন্ডিকেটের খপ্পরে নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছি।
এদিকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে নদীর মাছের দাম। তবে খুচরা বাজারে চাষের প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১৯০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, ৪০০ গ্রাম আকারের ইলিশের কেজি ১৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী মিন্টু মিয়া কাঁচা বাজারের মাছ বিক্রেতা মোতাহের হোসেন বলেন, সাগরে মাছ ধরার ওপর আগামী ১১ জুন প্রর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারে সাগরের মাছের যোগান নেই। এতে বাজারে মাছের দাম বেড়েছে।
বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেট চক্র জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষে তদারকি নেই বললেই চলে। সিন্ডিকেট চক্র কয়েক মাসে মুরগী, ডিম, আদা নিয়ে ব্যাপক কারসাজি করেছে। তবে মসলা নিয়ে তারা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। প্রশাসনের সায় না থাকলে এমন সিন্ডিকেট করতে পারে না কেউ।
তবে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ খানের মতে বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল কথিত ‘সিন্ডিকেট’ নয়, বরং প্রতিকূল আবহাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ। টানা বৃষ্টিতে সবজি সংগ্রহ ব্যাহত হওয়া এবং পোল্ট্রি খাতে রোগবালাই ও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রির ফলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। যা ঈদ কেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদার মুখে দামকে আরও উসকে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মনে করে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেবল খুচরা বাজারে অভিযান যথেষ্ট নয়। এজন্য কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করা, ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।




