শিরোনাম

জলবায়ু খাতে একশ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু খাতে একশ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। তাও দেশের অর্থনীতির এক ক্রান্তিকালে। স্বাভাবিকভাবেই এবারের বাজেক নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সব মহলের মানুষেরই বাড়তি আগ্রহ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হয়েছিল, এবারের বাজেট হবে সৃজনশীল। স্বাস্থ্য, কারগরি শিক্ষাসব বেশ কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে করা হবে বাজেট। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবারের বাজেটে জলবায়ু খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আসন্ন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অভিঘাতে জর্জরিত। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ উদ্দেশ্য পূরণে আমাদের সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার চারা রোপণ, ৩ দশমিক ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার চারা রোপণ, ৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার চারা রোপণ, বসতবাড়ি বনায়নে ৫৬ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ বলেন, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচি'-এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিজ বাসায় বা আঙিনায় ১ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘বৃত্তাকার ভবিষ্যৎ মডেল' বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে আগামী অর্থবছরে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

কার্যক্রমগুলো হলো-

  • বায়ু দূষণ কমাতে ১৫টি সিএমএএস এবং ১৬টি সি-সিএমএএসের মাধ্যমে নিয়মিত বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা।
  • যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ-এর মাধ্যমে ১০টি আধুনিকযানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন গাইডলাইন ও হালনাগাদ বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
  • হ্রাস করুন, পুনঃব্যবহার করুন, পুনর্ব্যবহার করুন (৩আর) নীতির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের গভীরতা ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

/এসবি/