৫ বছরেও ভর্তি নেই ৬২১ ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে

৫ বছরেও ভর্তি নেই ৬২১ ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে গত তিন দশকে হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেলেও একটি বড় অংশ এখন কার্যত নিষ্ক্রিয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৪৪০টি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২১টিতে টানা পাঁচ বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমই পরিচালিত হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪৩টিতে এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টিতে দাখিল (ভোকেশনাল) পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানেও বিপুলসংখ্যক আসন বছরের পর বছর খালি থাকায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ, শিক্ষকসংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং তদারকির অভাব এ সংকটের প্রধান কারণ। গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, প্রথমে যেসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে বা রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পরে তারা যদি বোর্ডের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে যারা তা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ৪৪০টি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে, সরকারি ১৬১টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মধ্যে ১৩৫টিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভোকেশনাল শিক্ষার অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা শিক্ষক সংকট। অনেক সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এছাড়া, বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পর সেখানে কর্মরত ভোকেশনাল শিক্ষকদের সাধারণ শাখায় অন্তর্ভুক্ত করায় এ সংকট আরও বেড়ে যায়। এসব সমস্যার প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গত বছরও এক ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখায় একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ১২ হাজার ৯৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু হলেও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোতে এসএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০টি। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭১৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় চার লাখ আসনই খালি থেকেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, ল্যাবরেটরি কিংবা শিক্ষা উপকরণ নেই। ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সমন্বিত ‘স্কুল ম্যাপিং’ করে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদন, শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, যেসব এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে না, তাদের বিরুদ্ধে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফায় গত ২২ জুন নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান জবাব দিলেও অনেকেই কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। পরে ২৩ জুলাই দ্বিতীয় দফায় আরও সাত দিনের সময় দিয়ে পুনরায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত জবাব মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। তবে শুধু প্রতিষ্ঠান বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না করলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। তাই অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের পরিবর্তে গুণগত মান নিশ্চিত করে সরকার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তবমুখী কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পায় না, ফলে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহও কমছে। শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়ে কারিগরি শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কোর্স শেষ করে দ্রুত চাকরিতে যুক্ত হতে পারে। দেশের কারিগরি শিক্ষার অনেক ক্ষেত্র এখনও পুরোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেলাই, ওয়েল্ডিংসহ প্রচলিত ট্রেডের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, রোবটিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগও সীমিত। বর্তমানে ডুয়েট ছাড়া এ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তাই উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফার কর্মসূচিতে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের কথা থাকলেও বাস্তবে সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ দেখা যায়নি। এর পেছনে সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা একটি কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব ও শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীশূন্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে গত তিন দশকে হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেলেও একটি বড় অংশ এখন কার্যত নিষ্ক্রিয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৪৪০টি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২১টিতে টানা পাঁচ বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমই পরিচালিত হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪৩টিতে এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টিতে দাখিল (ভোকেশনাল) পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানেও বিপুলসংখ্যক আসন বছরের পর বছর খালি থাকায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ, শিক্ষকসংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং তদারকির অভাব এ সংকটের প্রধান কারণ। গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, প্রথমে যেসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে বা রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পরে তারা যদি বোর্ডের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে যারা তা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ৪৪০টি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে, সরকারি ১৬১টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মধ্যে ১৩৫টিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভোকেশনাল শিক্ষার অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা শিক্ষক সংকট। অনেক সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এছাড়া, বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পর সেখানে কর্মরত ভোকেশনাল শিক্ষকদের সাধারণ শাখায় অন্তর্ভুক্ত করায় এ সংকট আরও বেড়ে যায়। এসব সমস্যার প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গত বছরও এক ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখায় একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ১২ হাজার ৯৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু হলেও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোতে এসএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০টি। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭১৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় চার লাখ আসনই খালি থেকেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, ল্যাবরেটরি কিংবা শিক্ষা উপকরণ নেই। ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সমন্বিত ‘স্কুল ম্যাপিং’ করে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদন, শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, যেসব এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে না, তাদের বিরুদ্ধে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফায় গত ২২ জুন নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান জবাব দিলেও অনেকেই কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। পরে ২৩ জুলাই দ্বিতীয় দফায় আরও সাত দিনের সময় দিয়ে পুনরায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত জবাব মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। তবে শুধু প্রতিষ্ঠান বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না করলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। তাই অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের পরিবর্তে গুণগত মান নিশ্চিত করে সরকার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তবমুখী কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পায় না, ফলে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহও কমছে। শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়ে কারিগরি শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কোর্স শেষ করে দ্রুত চাকরিতে যুক্ত হতে পারে। দেশের কারিগরি শিক্ষার অনেক ক্ষেত্র এখনও পুরোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেলাই, ওয়েল্ডিংসহ প্রচলিত ট্রেডের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, রোবটিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগও সীমিত। বর্তমানে ডুয়েট ছাড়া এ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তাই উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফার কর্মসূচিতে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের কথা থাকলেও বাস্তবে সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ দেখা যায়নি। এর পেছনে সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা একটি কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব ও শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীশূন্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

৫ বছরেও ভর্তি নেই ৬২১ ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে গত তিন দশকে হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেলেও একটি বড় অংশ এখন কার্যত নিষ্ক্রিয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৪৪০টি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২১টিতে টানা পাঁচ বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমই পরিচালিত হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪৩টিতে এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টিতে দাখিল (ভোকেশনাল) পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানেও বিপুলসংখ্যক আসন বছরের পর বছর খালি থাকায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ, শিক্ষকসংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং তদারকির অভাব এ সংকটের প্রধান কারণ। গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, প্রথমে যেসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে বা রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পরে তারা যদি বোর্ডের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে যারা তা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ৪৪০টি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে, সরকারি ১৬১টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মধ্যে ১৩৫টিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভোকেশনাল শিক্ষার অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা শিক্ষক সংকট। অনেক সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এছাড়া, বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পর সেখানে কর্মরত ভোকেশনাল শিক্ষকদের সাধারণ শাখায় অন্তর্ভুক্ত করায় এ সংকট আরও বেড়ে যায়। এসব সমস্যার প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গত বছরও এক ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখায় একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ১২ হাজার ৯৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু হলেও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোতে এসএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০টি। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭১৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় চার লাখ আসনই খালি থেকেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, ল্যাবরেটরি কিংবা শিক্ষা উপকরণ নেই। ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সমন্বিত ‘স্কুল ম্যাপিং’ করে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদন, শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, যেসব এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে না, তাদের বিরুদ্ধে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফায় গত ২২ জুন নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান জবাব দিলেও অনেকেই কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। পরে ২৩ জুলাই দ্বিতীয় দফায় আরও সাত দিনের সময় দিয়ে পুনরায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত জবাব মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। তবে শুধু প্রতিষ্ঠান বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না করলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। তাই অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের পরিবর্তে গুণগত মান নিশ্চিত করে সরকার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তবমুখী কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পায় না, ফলে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহও কমছে। শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়ে কারিগরি শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কোর্স শেষ করে দ্রুত চাকরিতে যুক্ত হতে পারে। দেশের কারিগরি শিক্ষার অনেক ক্ষেত্র এখনও পুরোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেলাই, ওয়েল্ডিংসহ প্রচলিত ট্রেডের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, রোবটিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগও সীমিত। বর্তমানে ডুয়েট ছাড়া এ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তাই উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফার কর্মসূচিতে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের কথা থাকলেও বাস্তবে সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ দেখা যায়নি। এর পেছনে সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা একটি কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব ও শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীশূন্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি







