তিন মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ

তিন মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদের লাগাম টানতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
কমিশনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের সাম্প্রতিক বেশ কিছু প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির দেশ-বিদেশে থাকা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের কথা জানিয়েছে দুদক। দুর্নীতি ও অবেধভাবে অর্জনের অভিযোগ থাকায় এসব সম্পদ চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে দুদক।
এ প্রসঙ্গে দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে জানান, গত তিন মাসে দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করেছে দুদক। তিনি আরও বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর এসব সম্পদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানুয়ারিতে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান
জানুয়ারি মাসেই দুদক বড় ধরনের অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদের হদিস পায়। বিজ্ঞ আদালতের ২২টি আদেশের মাধ্যমে দেশে ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হ্ওয়া প্রায় ২২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞ আদালতের ১১টি আদেশের মাধ্যমে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার দেশিয় সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বিদেশে পাচার হ্ওয়া সম্পদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৪৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩৭ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ফিলিপাইনে ৮ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট, ভারতে ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের ৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
জানুয়ারিতে দুদক মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, কম্বোডিয়ায় ১২৭টি, থাইল্যান্ডে ২৩টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি বাণিজ্যিক স্পেসের সন্ধান পেয়েছে। এসব সম্পদ অর্জনে ডলার, রিংগিত, বাথ ও দিরহামের মতো বিদেশি মুদ্রার বিশাল লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ১৪২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক
ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের তৎপরতা অব্যাহত ছিল। এই মাসে আদালতের ২০টি আদেশের মাধ্যমে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে এবং ১৫টি আদেশে আরও ৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এই সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫৬.৫৮ একর জমি, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট এবং ১২টি বাণিজ্যিক প্লট। পাশাপাশি ১৪৪টি ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগকৃত শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রও আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মার্চে ধারাবাহিকতা
মার্চ মাসেও আদালতের ১২টি আদেশের প্রেক্ষিতে ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ দুদকের নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক এবং ১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ১৭ একর জমি, ৪টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, ৭৪টি ব্যাংক হিসাব এবং একাধিক এফডিআর।
প্রশাসনিক তৎপরতা
দুদকের উপপরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কমিশনের সিস্টেম এনালিস্টকে এই তথ্যগুলো দুদকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। দুদকের এই সাঁড়াশি অভিযান দুর্নীতি প্রতিরোধে এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দুদকের প্রতিবেদনগুলো ইতিমধ্যে কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত এসব সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া জনগণের তথ্যের জন্য এসব বিবরণী নিয়মিত দুদকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদের লাগাম টানতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
কমিশনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের সাম্প্রতিক বেশ কিছু প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির দেশ-বিদেশে থাকা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের কথা জানিয়েছে দুদক। দুর্নীতি ও অবেধভাবে অর্জনের অভিযোগ থাকায় এসব সম্পদ চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে দুদক।
এ প্রসঙ্গে দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে জানান, গত তিন মাসে দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করেছে দুদক। তিনি আরও বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর এসব সম্পদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানুয়ারিতে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান
জানুয়ারি মাসেই দুদক বড় ধরনের অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদের হদিস পায়। বিজ্ঞ আদালতের ২২টি আদেশের মাধ্যমে দেশে ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হ্ওয়া প্রায় ২২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞ আদালতের ১১টি আদেশের মাধ্যমে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার দেশিয় সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বিদেশে পাচার হ্ওয়া সম্পদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৪৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩৭ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ফিলিপাইনে ৮ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট, ভারতে ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের ৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
জানুয়ারিতে দুদক মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, কম্বোডিয়ায় ১২৭টি, থাইল্যান্ডে ২৩টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি বাণিজ্যিক স্পেসের সন্ধান পেয়েছে। এসব সম্পদ অর্জনে ডলার, রিংগিত, বাথ ও দিরহামের মতো বিদেশি মুদ্রার বিশাল লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ১৪২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক
ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের তৎপরতা অব্যাহত ছিল। এই মাসে আদালতের ২০টি আদেশের মাধ্যমে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে এবং ১৫টি আদেশে আরও ৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এই সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫৬.৫৮ একর জমি, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট এবং ১২টি বাণিজ্যিক প্লট। পাশাপাশি ১৪৪টি ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগকৃত শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রও আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মার্চে ধারাবাহিকতা
মার্চ মাসেও আদালতের ১২টি আদেশের প্রেক্ষিতে ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ দুদকের নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক এবং ১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ১৭ একর জমি, ৪টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, ৭৪টি ব্যাংক হিসাব এবং একাধিক এফডিআর।
প্রশাসনিক তৎপরতা
দুদকের উপপরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কমিশনের সিস্টেম এনালিস্টকে এই তথ্যগুলো দুদকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। দুদকের এই সাঁড়াশি অভিযান দুর্নীতি প্রতিরোধে এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দুদকের প্রতিবেদনগুলো ইতিমধ্যে কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত এসব সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া জনগণের তথ্যের জন্য এসব বিবরণী নিয়মিত দুদকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিন মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদের লাগাম টানতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
কমিশনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের সাম্প্রতিক বেশ কিছু প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির দেশ-বিদেশে থাকা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের কথা জানিয়েছে দুদক। দুর্নীতি ও অবেধভাবে অর্জনের অভিযোগ থাকায় এসব সম্পদ চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে দুদক।
এ প্রসঙ্গে দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে জানান, গত তিন মাসে দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করেছে দুদক। তিনি আরও বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর এসব সম্পদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানুয়ারিতে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান
জানুয়ারি মাসেই দুদক বড় ধরনের অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদের হদিস পায়। বিজ্ঞ আদালতের ২২টি আদেশের মাধ্যমে দেশে ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হ্ওয়া প্রায় ২২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞ আদালতের ১১টি আদেশের মাধ্যমে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার দেশিয় সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বিদেশে পাচার হ্ওয়া সম্পদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৪৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩৭ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ফিলিপাইনে ৮ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট, ভারতে ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের ৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
জানুয়ারিতে দুদক মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, কম্বোডিয়ায় ১২৭টি, থাইল্যান্ডে ২৩টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি বাণিজ্যিক স্পেসের সন্ধান পেয়েছে। এসব সম্পদ অর্জনে ডলার, রিংগিত, বাথ ও দিরহামের মতো বিদেশি মুদ্রার বিশাল লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ১৪২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক
ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের তৎপরতা অব্যাহত ছিল। এই মাসে আদালতের ২০টি আদেশের মাধ্যমে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে এবং ১৫টি আদেশে আরও ৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এই সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫৬.৫৮ একর জমি, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট এবং ১২টি বাণিজ্যিক প্লট। পাশাপাশি ১৪৪টি ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগকৃত শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রও আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মার্চে ধারাবাহিকতা
মার্চ মাসেও আদালতের ১২টি আদেশের প্রেক্ষিতে ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ দুদকের নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক এবং ১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ১৭ একর জমি, ৪টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, ৭৪টি ব্যাংক হিসাব এবং একাধিক এফডিআর।
প্রশাসনিক তৎপরতা
দুদকের উপপরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কমিশনের সিস্টেম এনালিস্টকে এই তথ্যগুলো দুদকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। দুদকের এই সাঁড়াশি অভিযান দুর্নীতি প্রতিরোধে এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দুদকের প্রতিবেদনগুলো ইতিমধ্যে কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত এসব সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া জনগণের তথ্যের জন্য এসব বিবরণী নিয়মিত দুদকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



