ইসলামী ব্যাংকে সভা করেছেন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, এমডির পদত্যাগ

ইসলামী ব্যাংকে সভা করেছেন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, এমডির পদত্যাগ
মরিয়ম সেঁজুতি

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগ ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে বহাল রাখার দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সারাদিন বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’। তাদের এই আন্দোলনের পরও ইসলামী ব্যাংকে বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই সভায় অংশও নিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সিটিজেন জার্নালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলম ব্যাংক পরিচালনা করবেন। ওই সভায় সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। ব্যাংকটিতে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আলতাফ হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, কোনো চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করবে না।
এ বিষয়ে চেষ্টা করেও সিটিজেন জার্নালের পক্ষ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোর্ড সভায় অংশ নেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে খুরশীদ আলম সিটিজেন জার্নালকে বলেন ‘নিয়মিত পর্ষদ সভার মতোই কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। রাত ৯ টায় মিটিং শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে ৯টা ৪০ মিনিটে। মিটিংয়ের এজেন্ডায় থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে পর্ষদ।"
তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, খুরশীদ আলম সরাসরি অফিসে এসে বা অনলাইনে বোর্ড মিটিং করতে পারেননি। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেন রাতে পুলিশ পাহারায় বের হয়ে যান।
তারেক নামের ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বোর্ড সভার মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে সোমবার যোগদানের কথা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের। কিন্তু ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ চলায় তিনি সেখানে আসতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে রাতে ভার্চুয়াল বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ও চার স্বতন্ত্র পরিচালক অংশ নেন।
এদিকে বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে না সরানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পর মঙ্গলবার 'সচেতন গ্রাহক ফোরামের' ব্যানারে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।
চেয়ারম্যানকে নিয়ে কেন আপত্তি
ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে খুরশীদ আলম ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। ওইদিনই খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার এই পদায়নে বিক্ষোভকারীরা এস আলমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তারা মনে করেন, খুরশিদ আলম চেয়ারম্যান হলে এস আলম আাবারও ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, এস আলমের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
গ্রাহক দাবি করে আসলে কারা আন্দোলন করছেন
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকে নিজেকে গ্রাহক বলছেন, আবার অনেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারী দাবি করছেন। তবে তাদের নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কারো কারো দাবি, এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা থাকতে পারে।
খুরশীদ আলমের নিয়োগ কতটা আইনসম্মত
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ আইনসম্মত।
আইনি ভিত্তি: ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে এই নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। এই ধারাগুলোতে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষমতার প্রয়োগ: যেহেতু ইসলামী ব্যাংকের পূর্বের বোর্ড বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দিয়েছে সেহেতু আলাদাভাবে অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ।
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা: আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে গেলে প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের আইনি অধিকার বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। সব মিলিয়ে খুরশীদ আলমের চেয়ারম্যান পদটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ আইনি কর্তৃত্বের মাধ্যমেই কার্যকর হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের যোগদানকে ঘিরে সোমবার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ কারণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি হারুনুর রশীদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ইসলামী ব্যাংকের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ যথার্থ হয়েছে। বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের মালিকানায় অনেক রাজনৈতিক দলের লোকজন সম্পৃক্ত রয়েছে। তাই কোনো দলের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগকে দলীয় ভাবার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। তবে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর পদ থেকে ‘মব’ করে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগ ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে বহাল রাখার দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সারাদিন বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’। তাদের এই আন্দোলনের পরও ইসলামী ব্যাংকে বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই সভায় অংশও নিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সিটিজেন জার্নালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলম ব্যাংক পরিচালনা করবেন। ওই সভায় সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। ব্যাংকটিতে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আলতাফ হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, কোনো চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করবে না।
এ বিষয়ে চেষ্টা করেও সিটিজেন জার্নালের পক্ষ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোর্ড সভায় অংশ নেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে খুরশীদ আলম সিটিজেন জার্নালকে বলেন ‘নিয়মিত পর্ষদ সভার মতোই কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। রাত ৯ টায় মিটিং শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে ৯টা ৪০ মিনিটে। মিটিংয়ের এজেন্ডায় থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে পর্ষদ।"
তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, খুরশীদ আলম সরাসরি অফিসে এসে বা অনলাইনে বোর্ড মিটিং করতে পারেননি। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেন রাতে পুলিশ পাহারায় বের হয়ে যান।
তারেক নামের ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বোর্ড সভার মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে সোমবার যোগদানের কথা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের। কিন্তু ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ চলায় তিনি সেখানে আসতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে রাতে ভার্চুয়াল বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ও চার স্বতন্ত্র পরিচালক অংশ নেন।
এদিকে বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে না সরানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পর মঙ্গলবার 'সচেতন গ্রাহক ফোরামের' ব্যানারে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।
চেয়ারম্যানকে নিয়ে কেন আপত্তি
ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে খুরশীদ আলম ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। ওইদিনই খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার এই পদায়নে বিক্ষোভকারীরা এস আলমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তারা মনে করেন, খুরশিদ আলম চেয়ারম্যান হলে এস আলম আাবারও ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, এস আলমের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
গ্রাহক দাবি করে আসলে কারা আন্দোলন করছেন
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকে নিজেকে গ্রাহক বলছেন, আবার অনেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারী দাবি করছেন। তবে তাদের নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কারো কারো দাবি, এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা থাকতে পারে।
খুরশীদ আলমের নিয়োগ কতটা আইনসম্মত
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ আইনসম্মত।
আইনি ভিত্তি: ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে এই নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। এই ধারাগুলোতে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষমতার প্রয়োগ: যেহেতু ইসলামী ব্যাংকের পূর্বের বোর্ড বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দিয়েছে সেহেতু আলাদাভাবে অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ।
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা: আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে গেলে প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের আইনি অধিকার বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। সব মিলিয়ে খুরশীদ আলমের চেয়ারম্যান পদটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ আইনি কর্তৃত্বের মাধ্যমেই কার্যকর হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের যোগদানকে ঘিরে সোমবার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ কারণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি হারুনুর রশীদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ইসলামী ব্যাংকের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ যথার্থ হয়েছে। বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের মালিকানায় অনেক রাজনৈতিক দলের লোকজন সম্পৃক্ত রয়েছে। তাই কোনো দলের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগকে দলীয় ভাবার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। তবে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর পদ থেকে ‘মব’ করে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

ইসলামী ব্যাংকে সভা করেছেন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, এমডির পদত্যাগ
মরিয়ম সেঁজুতি

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগ ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে বহাল রাখার দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সারাদিন বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’। তাদের এই আন্দোলনের পরও ইসলামী ব্যাংকে বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই সভায় অংশও নিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সিটিজেন জার্নালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলম ব্যাংক পরিচালনা করবেন। ওই সভায় সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। ব্যাংকটিতে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আলতাফ হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, কোনো চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করবে না।
এ বিষয়ে চেষ্টা করেও সিটিজেন জার্নালের পক্ষ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোর্ড সভায় অংশ নেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে খুরশীদ আলম সিটিজেন জার্নালকে বলেন ‘নিয়মিত পর্ষদ সভার মতোই কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। রাত ৯ টায় মিটিং শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে ৯টা ৪০ মিনিটে। মিটিংয়ের এজেন্ডায় থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে পর্ষদ।"
তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, খুরশীদ আলম সরাসরি অফিসে এসে বা অনলাইনে বোর্ড মিটিং করতে পারেননি। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেন রাতে পুলিশ পাহারায় বের হয়ে যান।
তারেক নামের ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বোর্ড সভার মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে সোমবার যোগদানের কথা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের। কিন্তু ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ চলায় তিনি সেখানে আসতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে রাতে ভার্চুয়াল বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ও চার স্বতন্ত্র পরিচালক অংশ নেন।
এদিকে বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে না সরানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পর মঙ্গলবার 'সচেতন গ্রাহক ফোরামের' ব্যানারে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।
চেয়ারম্যানকে নিয়ে কেন আপত্তি
ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে খুরশীদ আলম ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। ওইদিনই খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার এই পদায়নে বিক্ষোভকারীরা এস আলমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তারা মনে করেন, খুরশিদ আলম চেয়ারম্যান হলে এস আলম আাবারও ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, এস আলমের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
গ্রাহক দাবি করে আসলে কারা আন্দোলন করছেন
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকে নিজেকে গ্রাহক বলছেন, আবার অনেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারী দাবি করছেন। তবে তাদের নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কারো কারো দাবি, এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা থাকতে পারে।
খুরশীদ আলমের নিয়োগ কতটা আইনসম্মত
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ আইনসম্মত।
আইনি ভিত্তি: ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে এই নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। এই ধারাগুলোতে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষমতার প্রয়োগ: যেহেতু ইসলামী ব্যাংকের পূর্বের বোর্ড বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দিয়েছে সেহেতু আলাদাভাবে অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ।
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা: আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে গেলে প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের আইনি অধিকার বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। সব মিলিয়ে খুরশীদ আলমের চেয়ারম্যান পদটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ আইনি কর্তৃত্বের মাধ্যমেই কার্যকর হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের যোগদানকে ঘিরে সোমবার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ কারণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি হারুনুর রশীদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ইসলামী ব্যাংকের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ যথার্থ হয়েছে। বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের মালিকানায় অনেক রাজনৈতিক দলের লোকজন সম্পৃক্ত রয়েছে। তাই কোনো দলের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগকে দলীয় ভাবার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। তবে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর পদ থেকে ‘মব’ করে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’




