শিরোনাম

সাময়িক রক্ষা পেলো প্রিমিয়ার লিজিং

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
সাময়িক রক্ষা পেলো প্রিমিয়ার লিজিং
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

অকার্যকর ঘোষণা থেকে বাঁচতে ৩ মাস সময় পেলো ব্যাংক বহির্ভূত চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই)। এর মধ্যে প্রথমবার তিন মাস দেওয়া হলো অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সকে।

সবগুলোই দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

প্রিমিয়ার লিজিং ছাড়া অবশিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠানকে এর আগেও তিন মাস সময় দেওয়া হয়। আর গত জানুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিজিংকে অবসায়ন করতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

তিন মাসের মধ্যে সম্পদ ও সম্পত্তি বিক্রয়, বকেয়া ঋণ আদায় ও খেলাপি ঋণসমূহ পুনঃতফসিল বা সেটেলমেন্টের মাধ্যমে শ্রেণীকৃত ঋণের হার সুনির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে এনে সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের আমানত দায় পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে-এমন শর্ত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এই তিন মাসের মধ্যে এক বা একাধিক শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিধান অনুসারে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় রেজল্যুশন কার্যক্রম আরম্ভ করবে, বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (১ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চার ফাইন্যান্স কোম্পানিকে অকার্যকর অবস্থা থেকে পুনরায় কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তাদের পরিচালনা পর্ষদের অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে আশু সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে তিন মাস সময় প্রদান করা হয়েছে।’

নতুন করে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচালনা পর্ষদ ও উদ্যোক্তা শেয়ার ধারকের মাধ্যমে নতুন মূলধন জোগান ও প্রয়োজনীয় তারল্য সংস্থান করতে হবে।

বর্তমানে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ্র মল্লিক বলেন, ‘অবসায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করে কোম্পানি সচল করার আগ্রহ জানিয়ে আবেদন করেছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের সময় দিয়েছে। সব শর্ত পূরণ করতে তিন মাস সময় যথেষ্ট না হলেও আমাদের চেষ্টা থাকবে। মূলধন জোগানের জন্য পরিচালক পর্ষদ চেষ্টা করছে। আমাদের কিছু জায়গায় আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।’

আর্থিক অনিয়মে জেরবার হওয়া ছয় এনবিএফআই প্রতিষ্ঠান এফএএস ফিন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফিন্যান্স, আভিভা ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ (অবসায়ন) করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

ছয় প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রিমিয়ার লিজিংকে আপাতত বাদ রাখলো।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়নে নেওয়ার পাশাপাশি গত জানুয়ারিতে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) কে তিন মাস সময় দেওয়া দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত এপ্রিলে সেই সময় শেষ হয়।

গত মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ‘তিন এনবিএফআই সময় চেয়েছিল, সেই সময়ের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে সময় বাড়ানো হয়নি।’

অবসায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, সরকার অর্থ দিলে ৯ এনবিএফআইকে অবসায়নে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। গভর্নর পদেও নতুন নেতৃত্ব আসে। সদ্য পাশ হওয়া বাজেটে আর্থিক খাতের সংস্কারে ৪০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু সেখানে স্পষ্ট করা হয়নি এর মধ্যে কতো টাকা অবসায়নে ব্যবহার করা হবে।

/এমআর/