নাট-বল্টু থেকে ইঞ্জিন সবই মিলবে ধোলাইখালে

নাট-বল্টু থেকে ইঞ্জিন সবই মিলবে ধোলাইখালে
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

‘দেশের যেইহান থেইকাই আইসুক না ক্যান, গাড়ির যন্ত্রাংশ লাগলে ধোলাইখাল থেইকা খালি হাতে ফিরা যাইতে অইব না। ছোট্ট একটা নাট-বল্টু থেইকা লইয়া পুরা ইঞ্জিন, যা লাগে, সবই এইহান পাইবা’ কথাগুলো বলছিলেন প্রায় তিন দশক ধরে ধোলাইখালে ব্যবসা করা এক প্রবীণ ব্যবসায়ী সাদিক আলী।
তার ভাষায়, এই বাজার শুধু একটি ব্যবসাকেন্দ্র নয়, বরং দেশের পরিবহন খাতের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী, গ্যারেজ মালিক ও মেকানিকদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই এলাকা।
ইতিহাসের পাতায় ধোলাইখালের নাম রয়েছে বহু আগে থেকেই। মুঘল আমলে ঢাকার প্রতিরক্ষা ও নৌ-যোগাযোগ সহজ করতে যে খাল খনন করা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেলেও তার নাম ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে পরিচিত মোটরযান যন্ত্রাংশের বাজার। আজ ধোলাইখাল মানেই গাড়ির যেকোনো যন্ত্রাংশের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
সকালের প্রথম আলো ফুটতেই বাজারের দোকানগুলো খুলতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় জমে যায় সরু সড়কজুড়ে। কোথাও ট্রাক থেকে যন্ত্রাংশ নামানো হচ্ছে, কোথাও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে পণ্য কিনছেন। আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়ির একটি ছোট যন্ত্রাংশের খোঁজে দোকান থেকে দোকানে ঘুরছেন। পুরো এলাকা যেন এক বিশাল কর্মচঞ্চল বাণিজ্যকেন্দ্র।
ধোলাইখালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে প্রায় সব ধরনের মোটরযানের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত কার, জিপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, ক্লাচ, ব্রেক সিস্টেম, সাসপেনশন, স্টিয়ারিং, অল্টারনেটর, স্টার্টার, এসি কম্প্রেসার, বডি পার্টস, হেডলাইট, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ— সবকিছুই একই এলাকায় পাওয়া যায়। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এখানে আসেন।
প্রবীণ ব্যবসায়ী মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘ধোলাইখালের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এখানে সব ধরনের যন্ত্রাংশ এক জায়গায় পাওয়া যায়। একজন ক্রেতা যদি কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ না-ও পান, আমরা অন্য দোকানের খোঁজ দিয়ে সাহায্য করি। তবে এখানে পাওয়া যায় না এমন কিছুই নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক গ্রাহক ২০–২৫ বছর ধরে একই দোকান থেকে যন্ত্রাংশ কিনছেন। বিশ্বাস আর সম্পর্কের ওপরই এই বাজার দাঁড়িয়ে আছে। নতুন প্রজন্মও এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা করছে।’
শুধু ব্যবসা নয়, কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ধোলাইখাল। শত শত দোকান, গুদাম, ওয়ার্কশপ, পরিবহন কার্যক্রম, ওয়েল্ডিং, লেদ মেশিন, রঙের কাজ ও মেরামত সেবার মাধ্যমে হাজারো মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছে এই বাজারকে ঘিরে। অনেক তরুণ এখানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করে পরে দক্ষ মেকানিক কিংবা সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।
খুলনা থেকে যন্ত্রাংশ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রায় প্রতি মাসেই ধোলাইখালে আসি। এক জায়গায় এত বৈচিত্র্যের যন্ত্রাংশ দেশের অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। সময়ও বাঁচে, খরচও তুলনামূলক কম হয়।’
ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ির কোনো যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হলে প্রথমেই ধোলাইখালের কথা মনে হয়। এখানে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা সঠিক পরামর্শ দেন, তাই আস্থা তৈরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোলাইখালের গুরুত্বও বেড়েছে। বর্তমানে শুধু রাজধানী নয়, উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত এখান থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। ফলে দেশের অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এই বাজারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত পার্কিং, ডিজিটাল ইনভেন্টরি এবং অনলাইন বিক্রয় ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে ধোলাইখাল আন্তর্জাতিক মানের মোটরযান যন্ত্রাংশের বাজার হিসেবে আরও এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিকাশেও এই বাজার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

‘দেশের যেইহান থেইকাই আইসুক না ক্যান, গাড়ির যন্ত্রাংশ লাগলে ধোলাইখাল থেইকা খালি হাতে ফিরা যাইতে অইব না। ছোট্ট একটা নাট-বল্টু থেইকা লইয়া পুরা ইঞ্জিন, যা লাগে, সবই এইহান পাইবা’ কথাগুলো বলছিলেন প্রায় তিন দশক ধরে ধোলাইখালে ব্যবসা করা এক প্রবীণ ব্যবসায়ী সাদিক আলী।
তার ভাষায়, এই বাজার শুধু একটি ব্যবসাকেন্দ্র নয়, বরং দেশের পরিবহন খাতের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী, গ্যারেজ মালিক ও মেকানিকদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই এলাকা।
ইতিহাসের পাতায় ধোলাইখালের নাম রয়েছে বহু আগে থেকেই। মুঘল আমলে ঢাকার প্রতিরক্ষা ও নৌ-যোগাযোগ সহজ করতে যে খাল খনন করা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেলেও তার নাম ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে পরিচিত মোটরযান যন্ত্রাংশের বাজার। আজ ধোলাইখাল মানেই গাড়ির যেকোনো যন্ত্রাংশের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
সকালের প্রথম আলো ফুটতেই বাজারের দোকানগুলো খুলতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় জমে যায় সরু সড়কজুড়ে। কোথাও ট্রাক থেকে যন্ত্রাংশ নামানো হচ্ছে, কোথাও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে পণ্য কিনছেন। আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়ির একটি ছোট যন্ত্রাংশের খোঁজে দোকান থেকে দোকানে ঘুরছেন। পুরো এলাকা যেন এক বিশাল কর্মচঞ্চল বাণিজ্যকেন্দ্র।
ধোলাইখালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে প্রায় সব ধরনের মোটরযানের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত কার, জিপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, ক্লাচ, ব্রেক সিস্টেম, সাসপেনশন, স্টিয়ারিং, অল্টারনেটর, স্টার্টার, এসি কম্প্রেসার, বডি পার্টস, হেডলাইট, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ— সবকিছুই একই এলাকায় পাওয়া যায়। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এখানে আসেন।
প্রবীণ ব্যবসায়ী মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘ধোলাইখালের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এখানে সব ধরনের যন্ত্রাংশ এক জায়গায় পাওয়া যায়। একজন ক্রেতা যদি কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ না-ও পান, আমরা অন্য দোকানের খোঁজ দিয়ে সাহায্য করি। তবে এখানে পাওয়া যায় না এমন কিছুই নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক গ্রাহক ২০–২৫ বছর ধরে একই দোকান থেকে যন্ত্রাংশ কিনছেন। বিশ্বাস আর সম্পর্কের ওপরই এই বাজার দাঁড়িয়ে আছে। নতুন প্রজন্মও এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা করছে।’
শুধু ব্যবসা নয়, কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ধোলাইখাল। শত শত দোকান, গুদাম, ওয়ার্কশপ, পরিবহন কার্যক্রম, ওয়েল্ডিং, লেদ মেশিন, রঙের কাজ ও মেরামত সেবার মাধ্যমে হাজারো মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছে এই বাজারকে ঘিরে। অনেক তরুণ এখানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করে পরে দক্ষ মেকানিক কিংবা সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।
খুলনা থেকে যন্ত্রাংশ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রায় প্রতি মাসেই ধোলাইখালে আসি। এক জায়গায় এত বৈচিত্র্যের যন্ত্রাংশ দেশের অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। সময়ও বাঁচে, খরচও তুলনামূলক কম হয়।’
ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ির কোনো যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হলে প্রথমেই ধোলাইখালের কথা মনে হয়। এখানে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা সঠিক পরামর্শ দেন, তাই আস্থা তৈরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোলাইখালের গুরুত্বও বেড়েছে। বর্তমানে শুধু রাজধানী নয়, উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত এখান থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। ফলে দেশের অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এই বাজারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত পার্কিং, ডিজিটাল ইনভেন্টরি এবং অনলাইন বিক্রয় ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে ধোলাইখাল আন্তর্জাতিক মানের মোটরযান যন্ত্রাংশের বাজার হিসেবে আরও এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিকাশেও এই বাজার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

নাট-বল্টু থেকে ইঞ্জিন সবই মিলবে ধোলাইখালে
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

‘দেশের যেইহান থেইকাই আইসুক না ক্যান, গাড়ির যন্ত্রাংশ লাগলে ধোলাইখাল থেইকা খালি হাতে ফিরা যাইতে অইব না। ছোট্ট একটা নাট-বল্টু থেইকা লইয়া পুরা ইঞ্জিন, যা লাগে, সবই এইহান পাইবা’ কথাগুলো বলছিলেন প্রায় তিন দশক ধরে ধোলাইখালে ব্যবসা করা এক প্রবীণ ব্যবসায়ী সাদিক আলী।
তার ভাষায়, এই বাজার শুধু একটি ব্যবসাকেন্দ্র নয়, বরং দেশের পরিবহন খাতের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী, গ্যারেজ মালিক ও মেকানিকদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই এলাকা।
ইতিহাসের পাতায় ধোলাইখালের নাম রয়েছে বহু আগে থেকেই। মুঘল আমলে ঢাকার প্রতিরক্ষা ও নৌ-যোগাযোগ সহজ করতে যে খাল খনন করা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেলেও তার নাম ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে পরিচিত মোটরযান যন্ত্রাংশের বাজার। আজ ধোলাইখাল মানেই গাড়ির যেকোনো যন্ত্রাংশের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
সকালের প্রথম আলো ফুটতেই বাজারের দোকানগুলো খুলতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় জমে যায় সরু সড়কজুড়ে। কোথাও ট্রাক থেকে যন্ত্রাংশ নামানো হচ্ছে, কোথাও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে পণ্য কিনছেন। আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়ির একটি ছোট যন্ত্রাংশের খোঁজে দোকান থেকে দোকানে ঘুরছেন। পুরো এলাকা যেন এক বিশাল কর্মচঞ্চল বাণিজ্যকেন্দ্র।
ধোলাইখালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে প্রায় সব ধরনের মোটরযানের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত কার, জিপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, ক্লাচ, ব্রেক সিস্টেম, সাসপেনশন, স্টিয়ারিং, অল্টারনেটর, স্টার্টার, এসি কম্প্রেসার, বডি পার্টস, হেডলাইট, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ— সবকিছুই একই এলাকায় পাওয়া যায়। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এখানে আসেন।
প্রবীণ ব্যবসায়ী মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘ধোলাইখালের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এখানে সব ধরনের যন্ত্রাংশ এক জায়গায় পাওয়া যায়। একজন ক্রেতা যদি কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ না-ও পান, আমরা অন্য দোকানের খোঁজ দিয়ে সাহায্য করি। তবে এখানে পাওয়া যায় না এমন কিছুই নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক গ্রাহক ২০–২৫ বছর ধরে একই দোকান থেকে যন্ত্রাংশ কিনছেন। বিশ্বাস আর সম্পর্কের ওপরই এই বাজার দাঁড়িয়ে আছে। নতুন প্রজন্মও এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা করছে।’
শুধু ব্যবসা নয়, কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ধোলাইখাল। শত শত দোকান, গুদাম, ওয়ার্কশপ, পরিবহন কার্যক্রম, ওয়েল্ডিং, লেদ মেশিন, রঙের কাজ ও মেরামত সেবার মাধ্যমে হাজারো মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছে এই বাজারকে ঘিরে। অনেক তরুণ এখানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করে পরে দক্ষ মেকানিক কিংবা সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।
খুলনা থেকে যন্ত্রাংশ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রায় প্রতি মাসেই ধোলাইখালে আসি। এক জায়গায় এত বৈচিত্র্যের যন্ত্রাংশ দেশের অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। সময়ও বাঁচে, খরচও তুলনামূলক কম হয়।’
ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ির কোনো যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হলে প্রথমেই ধোলাইখালের কথা মনে হয়। এখানে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা সঠিক পরামর্শ দেন, তাই আস্থা তৈরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোলাইখালের গুরুত্বও বেড়েছে। বর্তমানে শুধু রাজধানী নয়, উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত এখান থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। ফলে দেশের অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এই বাজারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত পার্কিং, ডিজিটাল ইনভেন্টরি এবং অনলাইন বিক্রয় ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে ধোলাইখাল আন্তর্জাতিক মানের মোটরযান যন্ত্রাংশের বাজার হিসেবে আরও এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিকাশেও এই বাজার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।




