শিরোনাম

মূর্তি-কাণ্ডে আলোচিত হরিদাস মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
গাইবান্ধা সংবাদদাতা
মূর্তি-কাণ্ডে আলোচিত হরিদাস মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মূর্তি-কাণ্ডে আলোচিত ব্যক্তি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রবিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম বলেন, ঢাকার উত্তরার পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি মানি লন্ডারিং মামলা রয়েছে। সেই মামলায় পলাশবাড়ী পুলিশের সহযোগিতায় রাতে তাকে গ্রেপ্তার ঢাকায় নিয়ে যায় সিআইডি পুলিশ।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র তরণী ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাওহীদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকলও প্রদর্শন করতেন।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তের বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যক্তি তার হিসাবে অর্থ জমা দিয়েছেন, যা তার পেশা ও পরিচয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও জানা যায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গসহ বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা রয়েছে।

২০২২ সালে ৮ নভেম্বর বিভিন্ন অফিসার, মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয়ে বদলি-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন হরিদাস। সেই মামলা থেকে জামিন নিয়ে তিনি অবৈধভাবে পালিয়ে যান। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে আসেন। এরইমধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিশালাকৃতির রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর আগে একই এলাকায় ২৮ ফুট উঁচু শিবমূর্তি এবং ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণের পর এবার ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন মহলের নজর কাড়ে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত ১১ জুন নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।

হরিদাস এক সময় সুমি ইসলাম নামে একজনকে বিয়ে করেন। ধর্ম পরিবর্তন করে তিনি তাওহীদ ইসলাম নাম রাখেন।

/এফসি/