মিথ্যা হত্যা মামলা বাড়ছে, ঠেকানোর উপায় কী
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিথ্যা হত্যা মামলা বাড়ছে, ঠেকানোর উপায় কী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১৩: ৫৬

মিথ্যা মামলা বাংলাদেশে নতুন কোনো সমস্যা নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি নিয়ে ঝামেলা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে গ্রামে বা শহরে অহরহ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রবণতা দেখা যায়। কখনো চুরি, কখনো আবার ধর্ষণ; প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য আগে এ ধরনের মামলাই বেশি হতো। কিন্তু দেশে এখন খুনের মতো গুরুতর অপরাধেও বাড়ছে সাজানো ও মিথ্যা মামলার প্রবণতা।
হয়রানি, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে অনেকে নিরপরাধ মানুষকে মামলায় জড়াচ্ছেন। যদিও মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য ফৌজদারি অপরাধ এবং এ জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে, তবু এ প্রবণতা কমছে না। আবার প্রকৃত মামলার ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না।
পুলিশ সপ্তাহে পিবিআইয়ের উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটি ৭ হাজার ৪২৭টি হত্যা মামলার তদন্ত করেছে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। যার মানে মামলার এজাহার দাখিলের সময় যে অভিযোগ ছিল, তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যান্য ধারায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ৪৯৫টি মামলার। আর মিথ্যা অভিযোগে করা মামলা হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ১১৪টি মামলার। তথ্যগত ভুলের কারণে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি, এমন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৫টি। আইনগত ভুল থাকা মামলা ছিল ২৩টি।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬৮৭টি মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি পিবিআই। যেটা এই ১০ বছরে পিবিআইয়ের তদন্ত করা মোট মামলার ২৩ শতাংশ।
একই সময় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ১৯৫টি মামলার তদন্তে দেখা গেছে, ৭ হাজার ৬৫৪ আসামির মধ্যে ৪ হাজার ৭৯৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি; অর্থাৎ ৬২.৬৫ শতাংশই নির্দোষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া বহু মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে সরকার সিআরপিসিতে ১৭৩(এ) ধারা যুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দোষ ব্যক্তিকে অব্যাহতির সুযোগ রাখে।
পিবিআইপ্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তদন্ত কর্মকর্তার সততা ও দক্ষতার ঘাটতি হলে তদন্ত ভিন্ন পথে যেতে পারে। তিনি জানান, পৃথিবীর কোনো দেশই শতভাগ হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে না। বাংলাদেশেও দেড় হাজারের বেশি মামলার ক্লু পাওয়া যায়নি।
অজ্ঞাত লাশ শনাক্তেও সীমিত সাফল্য পেয়েছে পিবিআই। ২০১৯ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪০টি লাশ শনাক্ত করা গেলেও ৬ হাজার ১১৬টি লাশের পরিচয় মেলেনি। এ সময়ে শনাক্তের হার ২৭.৬৭ শতাংশ।
আইনে মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মিথ্যা মামলা, মিথ্যা অভিযোগ ও মিথ্যা সাক্ষ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এরপরও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা সেভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না।

মিথ্যা মামলা বাংলাদেশে নতুন কোনো সমস্যা নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি নিয়ে ঝামেলা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে গ্রামে বা শহরে অহরহ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রবণতা দেখা যায়। কখনো চুরি, কখনো আবার ধর্ষণ; প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য আগে এ ধরনের মামলাই বেশি হতো। কিন্তু দেশে এখন খুনের মতো গুরুতর অপরাধেও বাড়ছে সাজানো ও মিথ্যা মামলার প্রবণতা।
হয়রানি, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে অনেকে নিরপরাধ মানুষকে মামলায় জড়াচ্ছেন। যদিও মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য ফৌজদারি অপরাধ এবং এ জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে, তবু এ প্রবণতা কমছে না। আবার প্রকৃত মামলার ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না।
পুলিশ সপ্তাহে পিবিআইয়ের উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটি ৭ হাজার ৪২৭টি হত্যা মামলার তদন্ত করেছে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। যার মানে মামলার এজাহার দাখিলের সময় যে অভিযোগ ছিল, তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যান্য ধারায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ৪৯৫টি মামলার। আর মিথ্যা অভিযোগে করা মামলা হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ১১৪টি মামলার। তথ্যগত ভুলের কারণে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি, এমন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৫টি। আইনগত ভুল থাকা মামলা ছিল ২৩টি।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬৮৭টি মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি পিবিআই। যেটা এই ১০ বছরে পিবিআইয়ের তদন্ত করা মোট মামলার ২৩ শতাংশ।
একই সময় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ১৯৫টি মামলার তদন্তে দেখা গেছে, ৭ হাজার ৬৫৪ আসামির মধ্যে ৪ হাজার ৭৯৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি; অর্থাৎ ৬২.৬৫ শতাংশই নির্দোষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া বহু মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে সরকার সিআরপিসিতে ১৭৩(এ) ধারা যুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দোষ ব্যক্তিকে অব্যাহতির সুযোগ রাখে।
পিবিআইপ্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তদন্ত কর্মকর্তার সততা ও দক্ষতার ঘাটতি হলে তদন্ত ভিন্ন পথে যেতে পারে। তিনি জানান, পৃথিবীর কোনো দেশই শতভাগ হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে না। বাংলাদেশেও দেড় হাজারের বেশি মামলার ক্লু পাওয়া যায়নি।
অজ্ঞাত লাশ শনাক্তেও সীমিত সাফল্য পেয়েছে পিবিআই। ২০১৯ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪০টি লাশ শনাক্ত করা গেলেও ৬ হাজার ১১৬টি লাশের পরিচয় মেলেনি। এ সময়ে শনাক্তের হার ২৭.৬৭ শতাংশ।
আইনে মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মিথ্যা মামলা, মিথ্যা অভিযোগ ও মিথ্যা সাক্ষ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এরপরও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা সেভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না।

মিথ্যা হত্যা মামলা বাড়ছে, ঠেকানোর উপায় কী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১৩: ৫৬

মিথ্যা মামলা বাংলাদেশে নতুন কোনো সমস্যা নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি নিয়ে ঝামেলা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে গ্রামে বা শহরে অহরহ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রবণতা দেখা যায়। কখনো চুরি, কখনো আবার ধর্ষণ; প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য আগে এ ধরনের মামলাই বেশি হতো। কিন্তু দেশে এখন খুনের মতো গুরুতর অপরাধেও বাড়ছে সাজানো ও মিথ্যা মামলার প্রবণতা।
হয়রানি, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে অনেকে নিরপরাধ মানুষকে মামলায় জড়াচ্ছেন। যদিও মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য ফৌজদারি অপরাধ এবং এ জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে, তবু এ প্রবণতা কমছে না। আবার প্রকৃত মামলার ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না।
পুলিশ সপ্তাহে পিবিআইয়ের উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটি ৭ হাজার ৪২৭টি হত্যা মামলার তদন্ত করেছে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। যার মানে মামলার এজাহার দাখিলের সময় যে অভিযোগ ছিল, তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যান্য ধারায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ৪৯৫টি মামলার। আর মিথ্যা অভিযোগে করা মামলা হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ১১৪টি মামলার। তথ্যগত ভুলের কারণে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি, এমন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৫টি। আইনগত ভুল থাকা মামলা ছিল ২৩টি।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬৮৭টি মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি পিবিআই। যেটা এই ১০ বছরে পিবিআইয়ের তদন্ত করা মোট মামলার ২৩ শতাংশ।
একই সময় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ১৯৫টি মামলার তদন্তে দেখা গেছে, ৭ হাজার ৬৫৪ আসামির মধ্যে ৪ হাজার ৭৯৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি; অর্থাৎ ৬২.৬৫ শতাংশই নির্দোষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া বহু মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে সরকার সিআরপিসিতে ১৭৩(এ) ধারা যুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দোষ ব্যক্তিকে অব্যাহতির সুযোগ রাখে।
পিবিআইপ্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তদন্ত কর্মকর্তার সততা ও দক্ষতার ঘাটতি হলে তদন্ত ভিন্ন পথে যেতে পারে। তিনি জানান, পৃথিবীর কোনো দেশই শতভাগ হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে না। বাংলাদেশেও দেড় হাজারের বেশি মামলার ক্লু পাওয়া যায়নি।
অজ্ঞাত লাশ শনাক্তেও সীমিত সাফল্য পেয়েছে পিবিআই। ২০১৯ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪০টি লাশ শনাক্ত করা গেলেও ৬ হাজার ১১৬টি লাশের পরিচয় মেলেনি। এ সময়ে শনাক্তের হার ২৭.৬৭ শতাংশ।
আইনে মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মিথ্যা মামলা, মিথ্যা অভিযোগ ও মিথ্যা সাক্ষ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এরপরও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা সেভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না।
/এফসি/

জুলাই আন্দোলনের ‘ভুয়া মামলা’, শেখ হাসিনাসহ সবাইকে অব্যাহতির সুপারিশ


