শিরোনাম

মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে বোমা, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে বোমা, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে বোমাটি উদ্ধার করা হয়

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া বোমার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের অংশ কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মতিঝিলের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বোমার সঙ্গে কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও কুমিল্লার সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাতে মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি করেন। মামলায় বেআইনিভাবে বিস্ফোরক তৈরি, সংরক্ষণ, বহন ও ব্যবহারের পাশাপাশি নাশকতার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত করছে মতিঝিল থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, বোমা রাখার ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটি কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা বের করতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর কক্ষের কাছে একটি ছাতার ভেতরে বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পান দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। উদ্ধার করা বস্তুটি ছিল একটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)।

বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণের স্প্লিন্টার চোখে লেগে আহত হন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী মিরাজ হোসেন নামে এক পথচারী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শুক্রবার উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। এটি মতিঝিলের শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট কাওছার হোসেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে খবর দেন, মেট্রোস্টেশনের নিচে একটি ছাতা পড়ে আছে এবং সেটির ভেতরে আলো জ্বলছে। পরে পুলিশ গিয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হোসেন মোহাম্মদ ফারাবী জানান, বোমাটি কে বা কারা, কখন সেখানে রেখেছে—সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তা স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। ওই এলাকার কিছু ক্যামেরা অকার্যকর রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উল্টো রথযাত্রার সময় নাশকতার উদ্দেশ্যে এটি রাখা হয়ে থাকতে পারে।

আগের চার বিস্ফোরণের যোগসূত্র খুঁজছে সিটিটিসি

মতিঝিলের বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আগের কয়েকটি বিস্ফোরণের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বাড়িটি উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং নয়টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া উপকরণের মধ্যে ছিল হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, অ্যাসিটোন, নাইট্রিক অ্যাসিডসহ প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বোমা তৈরির সময় অসতর্কতার কারণে কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় শেখ আল আমিন, তার স্ত্রী ও সন্তান আহত হন। পরে আল আমিন পালিয়ে যান। পুলিশ তাকে নব্য জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করে।

কেরানীগঞ্জের ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের সঙ্গে একই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় পুলিশের তল্লাশির সময় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে কয়েকটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এসব বোমার সঙ্গে কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মিল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

এরপর মার্চে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় পুলিশের তল্লাশির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। একই মাসে কুমিল্লা শহরের একটি শিবমন্দিরেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শেখ আল আমিনের ঘনিষ্ঠ নাজমুল হাসান মামুন ও মোহাম্মদ আরিফ নামে দুজনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বোমা তৈরিতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, অ্যাসিটোন ও নাইট্রিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়েছিল। আর মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে পাওয়া আইইডিটি জিআই পাইপের মধ্যে তৈরি করা হয়। এতে সার্কিট ও ব্যাটারি সংযুক্ত ছিল।

আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সর্বশেষ বোমা উদ্ধারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

/এমআর/