বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে: রয়টার্স

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে: রয়টার্স
সিজেডএন ডেস্ক

একসময় হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিতভাবে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অস্বাভাবিক ভিড়। চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
রাজনীতি ও টিকাদান ব্যবস্থার ধস
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ছেদ পড়েছিল। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে শিশু টিকাদান বিঘ্নিত হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় ঘাটতি তৈরি হয়। পরবর্তীকালে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু হলেও ততক্ষণে সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।
সরকারি হিসেবে, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় প্রায় ২০ হাজার জনের দেহে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে। টিকাদানের ঘাটতির কারণে বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা, যারা নিয়মিত টিকা পাওয়ার উপযোগী হয়নি, তারা সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে।

নীতির পরিবর্তন ও কর্মসূচির স্থবিরতা
সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের আমলে সরঞ্জাম কেনাকাটার নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে টিকার সার্বিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত সংসদে জানান, ক্রয় প্রক্রিয়ায় নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মসূচি স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। শুরুর দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, বাংলাদেশে হামে এত বেশি শিশুর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি। এক বছরে এত বিপুল সংখ্যক রোগীও আমরা কখনো দেখিনি। এটি সত্যিই একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, এবং সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগীরা শিশু।’

হাসপাতালে দ্বিগুণ চাপ, নিঃস্ব পরিবার
একদিকে হামের বিধ্বংসী আক্রমণ, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু রোগীর চাপ দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে চরম সংকটে ফেলেছে। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মূল ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। মূল শয্যা ছাপিয়ে অনেককে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা বলেন, ‘রোগীর ঢল নেমেছে এবং সবাইকে জায়গা দেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’ উপরন্তু, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইনের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কারখানা শ্রমিক মোহাম্মদ রিপন তার আট মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে ঘুরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করছি। আমরা মোটেও সঠিক তথ্য পাচ্ছি না।’
একইভাবে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন গৃহকর্মী নাসিমা বেগম। চার হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ১৩ মাসের অসুস্থ ছেলেকে ভর্তি করাতে পেরেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব, চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারি না। আমি শুধু প্রার্থনা করি আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। আমি চাই না অন্য কোনো মা তার সন্তানকে এই রোগে কষ্ট পেতে বা মারা যেতে দেখুক।’
উত্তরণের চ্যালেঞ্জ
পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় দেড় কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা যায়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও ধারাবাহিক নজরদারির অভাবেই আজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। দ্রুত টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা না বাড়ালে এই সংকট দ্রুত কাটানো সম্ভব নয়।
সূত্র: রয়টার্স

একসময় হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিতভাবে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অস্বাভাবিক ভিড়। চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
রাজনীতি ও টিকাদান ব্যবস্থার ধস
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ছেদ পড়েছিল। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে শিশু টিকাদান বিঘ্নিত হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় ঘাটতি তৈরি হয়। পরবর্তীকালে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু হলেও ততক্ষণে সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।
সরকারি হিসেবে, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় প্রায় ২০ হাজার জনের দেহে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে। টিকাদানের ঘাটতির কারণে বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা, যারা নিয়মিত টিকা পাওয়ার উপযোগী হয়নি, তারা সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে।

নীতির পরিবর্তন ও কর্মসূচির স্থবিরতা
সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের আমলে সরঞ্জাম কেনাকাটার নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে টিকার সার্বিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত সংসদে জানান, ক্রয় প্রক্রিয়ায় নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মসূচি স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। শুরুর দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, বাংলাদেশে হামে এত বেশি শিশুর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি। এক বছরে এত বিপুল সংখ্যক রোগীও আমরা কখনো দেখিনি। এটি সত্যিই একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, এবং সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগীরা শিশু।’

হাসপাতালে দ্বিগুণ চাপ, নিঃস্ব পরিবার
একদিকে হামের বিধ্বংসী আক্রমণ, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু রোগীর চাপ দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে চরম সংকটে ফেলেছে। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মূল ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। মূল শয্যা ছাপিয়ে অনেককে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা বলেন, ‘রোগীর ঢল নেমেছে এবং সবাইকে জায়গা দেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’ উপরন্তু, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইনের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কারখানা শ্রমিক মোহাম্মদ রিপন তার আট মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে ঘুরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করছি। আমরা মোটেও সঠিক তথ্য পাচ্ছি না।’
একইভাবে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন গৃহকর্মী নাসিমা বেগম। চার হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ১৩ মাসের অসুস্থ ছেলেকে ভর্তি করাতে পেরেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব, চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারি না। আমি শুধু প্রার্থনা করি আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। আমি চাই না অন্য কোনো মা তার সন্তানকে এই রোগে কষ্ট পেতে বা মারা যেতে দেখুক।’
উত্তরণের চ্যালেঞ্জ
পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় দেড় কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা যায়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও ধারাবাহিক নজরদারির অভাবেই আজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। দ্রুত টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা না বাড়ালে এই সংকট দ্রুত কাটানো সম্ভব নয়।
সূত্র: রয়টার্স

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে: রয়টার্স
সিজেডএন ডেস্ক

একসময় হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিতভাবে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অস্বাভাবিক ভিড়। চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
রাজনীতি ও টিকাদান ব্যবস্থার ধস
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ছেদ পড়েছিল। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে শিশু টিকাদান বিঘ্নিত হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় ঘাটতি তৈরি হয়। পরবর্তীকালে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু হলেও ততক্ষণে সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।
সরকারি হিসেবে, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় প্রায় ২০ হাজার জনের দেহে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে। টিকাদানের ঘাটতির কারণে বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা, যারা নিয়মিত টিকা পাওয়ার উপযোগী হয়নি, তারা সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে।

নীতির পরিবর্তন ও কর্মসূচির স্থবিরতা
সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের আমলে সরঞ্জাম কেনাকাটার নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে টিকার সার্বিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত সংসদে জানান, ক্রয় প্রক্রিয়ায় নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মসূচি স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। শুরুর দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, বাংলাদেশে হামে এত বেশি শিশুর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি। এক বছরে এত বিপুল সংখ্যক রোগীও আমরা কখনো দেখিনি। এটি সত্যিই একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, এবং সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগীরা শিশু।’

হাসপাতালে দ্বিগুণ চাপ, নিঃস্ব পরিবার
একদিকে হামের বিধ্বংসী আক্রমণ, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু রোগীর চাপ দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে চরম সংকটে ফেলেছে। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মূল ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। মূল শয্যা ছাপিয়ে অনেককে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা বলেন, ‘রোগীর ঢল নেমেছে এবং সবাইকে জায়গা দেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’ উপরন্তু, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইনের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কারখানা শ্রমিক মোহাম্মদ রিপন তার আট মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে ঘুরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করছি। আমরা মোটেও সঠিক তথ্য পাচ্ছি না।’
একইভাবে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন গৃহকর্মী নাসিমা বেগম। চার হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ১৩ মাসের অসুস্থ ছেলেকে ভর্তি করাতে পেরেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব, চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারি না। আমি শুধু প্রার্থনা করি আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। আমি চাই না অন্য কোনো মা তার সন্তানকে এই রোগে কষ্ট পেতে বা মারা যেতে দেখুক।’
উত্তরণের চ্যালেঞ্জ
পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় দেড় কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা যায়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও ধারাবাহিক নজরদারির অভাবেই আজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। দ্রুত টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা না বাড়ালে এই সংকট দ্রুত কাটানো সম্ভব নয়।
সূত্র: রয়টার্স









