মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বর্জ্যে আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্ভোগ

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বর্জ্যে আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্ভোগ
মো. ইমরান হোসেন

ময়লা-আবর্জনা ভর্তি পলিথিনের ব্যাগ, চিপসের প্যাকেট, হাসপাতালের বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অপসারণ না করায় বিভিন্ন স্থানে বর্জ্যের স্তূপ জমে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে আছে। এসব ময়লার পাহাড় থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ধোঁয়া এবং ময়লার দুর্গন্ধে সেখানে টেকা মুশকিল।
গত ২৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বেলাা ২টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে (ময়লা ফেলার স্থায়ী জায়গা) গিয়ে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল মৃধাকান্দি বাস স্টপেজ ঘেঁষে ল্যান্ডফিল। এখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এখানে রাখা বর্জ্যে আগুন লেগে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে ময়লা-অবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ। এতে মাতুয়াইল ছাড়াও জুরাইন, কোনাপাড়া, ডেমরা, শনির আখড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনার কারণে এসব এলাকার মানুষ চর্ম, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গত ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দি বাস স্টপেজের কাছ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন এক নারী । তিনি তার নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। অপর পাশ দিয়ে রিকশায় করে যাওয়া আরও দু্ইজন হাতে থাকা ব্যাগ দিয়ে তাদের মুখ ঢেকে রেখেছেন।
ল্যান্ডফিলের ভেতরে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বড় একটা পুকুর খনন করা হয়েছে। এর পাশের এলাকা কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আশপাশের কৃষি জমি এখন অনুর্বর হয়ে পড়েছে। জুরাইন, কোনাপাড়া, ডেমরা, মাতুয়াইল এসব এলাকায় ধান চাষ হতো। এলাকাটি নিচু হওয়ায় একসময় এখানে মাছের খামার ছিল। কিন্তু বর্তমানে পানি দূষিত হয়ে পড়ায় এখন আর মাছ চাষ করা যাচ্ছে না।
মোমিনা নামের এক নারী ময়লা-আবর্জনার ভেতর থেকে লোহার টুকরা, বাচ্চাদের খেলনা, প্লাস্টিকের পণ্য সংগ্রহ করছিল। তিনি বলেন, ‘সারাদিন কষ্ট করে ১/২ বস্তা বোতল ও ভাঙারি সংগ্রহ করি। মাঝেমধ্যে হাত কেটে যায়। গত সপ্তাহে হাতে একটা সুই ঢুকে। এতে অনেকদিন কাজ করতে পারিনি।’

ল্যান্ডফিলের নিরাপত্তাকর্মী জামাল বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টে এখানে দায়িত্ব পালন করি। অনেক দুর্গন্ধ, দূষিত এলাকা। তবুও সরকারের কাজ করি। প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো। প্রায়ই শ্বাসকষ্ট ও এলার্জি সমস্যা হতো। আমরা এখন এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
ল্যান্ডফিলের পাশের ভাঙারি দোকানদার সজীব ভূইয়া বলেন, ‘আগে আমরা এখানে চাষাবাদ করতাম। ল্যান্ডফিল হওয়ার পরে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এখানে এখন ছোট একটা ভাঙারির দোকান দিয়ে টিকে আছি। মাঝেমধ্যে ময়লার ভাগাড়ের বর্জ্যে আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ার সঙ্গে তীব্র দুর্গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরের এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের একদল গবেষক ‘ঢাকা ল্যান্ডফিল ওয়াস্ট প্র্যাকটিস: অ্যাড্রেসিং আরবান পলিউশন অ্যান্ড হেলথ হেজার্ডস’ শিরোনামের গবেষণা করেন। ২০২১ সালে এটি ‘বিল্ডিংস অ্যান্ড সিটিস জার্নালে’ প্রকাশিত হয়। এতে মাতুয়াইল ও আমিনবাজার ল্যান্ডফিল দুটি জনবসতি, জলাশয় এবং কৃষিভূমির অত্যন্ত কাছে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়। আর এ কারণে স্থানীয় লোকজন শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ এবং পেটের পীড়ার সমস্যায় ভুগছেন বলে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত তরল ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটি দূষিত করছে, যা মৎস্য চাষ এবং কৃষিকাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া এবং তীব্র দুর্গন্ধ ও বায়ুদূষণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
এ বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য ও জীবন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ল্যান্ডফিলের বর্জ্যের মধ্যে সালফার ডাই অক্সাইড রাসায়নকি যৌগ থাকে, যা বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন করছে। এগুলো আমাদের নাক ও মুখ দিয়ে শরীরে ভেতরে ঢুকছে। এতে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, ভেতরের কোষগুলো ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। এতে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া খুবই খারাপ। এই ধোঁয়া শরীরে ঢুকলে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা হতে পারে। অনেকের জীবনধারায় পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি ঘুমও কমে যেতে পারে। এই ধোঁয়ার কারণে দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডজনিত রোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে প্রায় ৩ হাজার টনের বেশি ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ১৯৮৯ সালে প্রথমে ল্যান্ডফিলটি ৫০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করা হয়েছিল। যার সক্ষমতা ২০০৬ সালে শেষ হয়ে গেছে। পরে এই ল্যান্ডফিলের আয়তন বাড়ানো হয়। এজন্য আশপাশের আরও ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এখন ল্যান্ডফিলের আয়তন ১৮১ একর। ল্যান্ডফিলের নতুন জায়গায় বর্তমানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ল্যান্ডফিলে ফেলা পুরোনো বর্জ্যের যে স্তূপ ছিল, সেই স্তূপ থেকে বর্জ্য রিসাইক্লিং করে গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্প চলমান রয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জন্য একটা পরিকল্পনার এখনই নেওয়া দরকার। এভাবে একটা শহর চলতে পারে না।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বর্জ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

ময়লা-আবর্জনা ভর্তি পলিথিনের ব্যাগ, চিপসের প্যাকেট, হাসপাতালের বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অপসারণ না করায় বিভিন্ন স্থানে বর্জ্যের স্তূপ জমে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে আছে। এসব ময়লার পাহাড় থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ধোঁয়া এবং ময়লার দুর্গন্ধে সেখানে টেকা মুশকিল।
গত ২৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বেলাা ২টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে (ময়লা ফেলার স্থায়ী জায়গা) গিয়ে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল মৃধাকান্দি বাস স্টপেজ ঘেঁষে ল্যান্ডফিল। এখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এখানে রাখা বর্জ্যে আগুন লেগে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে ময়লা-অবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ। এতে মাতুয়াইল ছাড়াও জুরাইন, কোনাপাড়া, ডেমরা, শনির আখড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনার কারণে এসব এলাকার মানুষ চর্ম, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গত ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দি বাস স্টপেজের কাছ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন এক নারী । তিনি তার নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। অপর পাশ দিয়ে রিকশায় করে যাওয়া আরও দু্ইজন হাতে থাকা ব্যাগ দিয়ে তাদের মুখ ঢেকে রেখেছেন।
ল্যান্ডফিলের ভেতরে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বড় একটা পুকুর খনন করা হয়েছে। এর পাশের এলাকা কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আশপাশের কৃষি জমি এখন অনুর্বর হয়ে পড়েছে। জুরাইন, কোনাপাড়া, ডেমরা, মাতুয়াইল এসব এলাকায় ধান চাষ হতো। এলাকাটি নিচু হওয়ায় একসময় এখানে মাছের খামার ছিল। কিন্তু বর্তমানে পানি দূষিত হয়ে পড়ায় এখন আর মাছ চাষ করা যাচ্ছে না।
মোমিনা নামের এক নারী ময়লা-আবর্জনার ভেতর থেকে লোহার টুকরা, বাচ্চাদের খেলনা, প্লাস্টিকের পণ্য সংগ্রহ করছিল। তিনি বলেন, ‘সারাদিন কষ্ট করে ১/২ বস্তা বোতল ও ভাঙারি সংগ্রহ করি। মাঝেমধ্যে হাত কেটে যায়। গত সপ্তাহে হাতে একটা সুই ঢুকে। এতে অনেকদিন কাজ করতে পারিনি।’

ল্যান্ডফিলের নিরাপত্তাকর্মী জামাল বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টে এখানে দায়িত্ব পালন করি। অনেক দুর্গন্ধ, দূষিত এলাকা। তবুও সরকারের কাজ করি। প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো। প্রায়ই শ্বাসকষ্ট ও এলার্জি সমস্যা হতো। আমরা এখন এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
ল্যান্ডফিলের পাশের ভাঙারি দোকানদার সজীব ভূইয়া বলেন, ‘আগে আমরা এখানে চাষাবাদ করতাম। ল্যান্ডফিল হওয়ার পরে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এখানে এখন ছোট একটা ভাঙারির দোকান দিয়ে টিকে আছি। মাঝেমধ্যে ময়লার ভাগাড়ের বর্জ্যে আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ার সঙ্গে তীব্র দুর্গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরের এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের একদল গবেষক ‘ঢাকা ল্যান্ডফিল ওয়াস্ট প্র্যাকটিস: অ্যাড্রেসিং আরবান পলিউশন অ্যান্ড হেলথ হেজার্ডস’ শিরোনামের গবেষণা করেন। ২০২১ সালে এটি ‘বিল্ডিংস অ্যান্ড সিটিস জার্নালে’ প্রকাশিত হয়। এতে মাতুয়াইল ও আমিনবাজার ল্যান্ডফিল দুটি জনবসতি, জলাশয় এবং কৃষিভূমির অত্যন্ত কাছে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়। আর এ কারণে স্থানীয় লোকজন শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ এবং পেটের পীড়ার সমস্যায় ভুগছেন বলে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত তরল ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটি দূষিত করছে, যা মৎস্য চাষ এবং কৃষিকাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া এবং তীব্র দুর্গন্ধ ও বায়ুদূষণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
এ বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য ও জীবন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ল্যান্ডফিলের বর্জ্যের মধ্যে সালফার ডাই অক্সাইড রাসায়নকি যৌগ থাকে, যা বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন করছে। এগুলো আমাদের নাক ও মুখ দিয়ে শরীরে ভেতরে ঢুকছে। এতে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, ভেতরের কোষগুলো ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। এতে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া খুবই খারাপ। এই ধোঁয়া শরীরে ঢুকলে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা হতে পারে। অনেকের জীবনধারায় পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি ঘুমও কমে যেতে পারে। এই ধোঁয়ার কারণে দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডজনিত রোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে প্রায় ৩ হাজার টনের বেশি ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ১৯৮৯ সালে প্রথমে ল্যান্ডফিলটি ৫০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করা হয়েছিল। যার সক্ষমতা ২০০৬ সালে শেষ হয়ে গেছে। পরে এই ল্যান্ডফিলের আয়তন বাড়ানো হয়। এজন্য আশপাশের আরও ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এখন ল্যান্ডফিলের আয়তন ১৮১ একর। ল্যান্ডফিলের নতুন জায়গায় বর্তমানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ল্যান্ডফিলে ফেলা পুরোনো বর্জ্যের যে স্তূপ ছিল, সেই স্তূপ থেকে বর্জ্য রিসাইক্লিং করে গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্প চলমান রয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জন্য একটা পরিকল্পনার এখনই নেওয়া দরকার। এভাবে একটা শহর চলতে পারে না।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বর্জ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বর্জ্যে আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্ভোগ
মো. ইমরান হোসেন

ময়লা-আবর্জনা ভর্তি পলিথিনের ব্যাগ, চিপসের প্যাকেট, হাসপাতালের বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অপসারণ না করায় বিভিন্ন স্থানে বর্জ্যের স্তূপ জমে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে আছে। এসব ময়লার পাহাড় থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ধোঁয়া এবং ময়লার দুর্গন্ধে সেখানে টেকা মুশকিল।
গত ২৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বেলাা ২টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে (ময়লা ফেলার স্থায়ী জায়গা) গিয়ে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল মৃধাকান্দি বাস স্টপেজ ঘেঁষে ল্যান্ডফিল। এখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এখানে রাখা বর্জ্যে আগুন লেগে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে ময়লা-অবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ। এতে মাতুয়াইল ছাড়াও জুরাইন, কোনাপাড়া, ডেমরা, শনির আখড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনার কারণে এসব এলাকার মানুষ চর্ম, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গত ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দি বাস স্টপেজের কাছ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন এক নারী । তিনি তার নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। অপর পাশ দিয়ে রিকশায় করে যাওয়া আরও দু্ইজন হাতে থাকা ব্যাগ দিয়ে তাদের মুখ ঢেকে রেখেছেন।
ল্যান্ডফিলের ভেতরে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বড় একটা পুকুর খনন করা হয়েছে। এর পাশের এলাকা কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আশপাশের কৃষি জমি এখন অনুর্বর হয়ে পড়েছে। জুরাইন, কোনাপাড়া, ডেমরা, মাতুয়াইল এসব এলাকায় ধান চাষ হতো। এলাকাটি নিচু হওয়ায় একসময় এখানে মাছের খামার ছিল। কিন্তু বর্তমানে পানি দূষিত হয়ে পড়ায় এখন আর মাছ চাষ করা যাচ্ছে না।
মোমিনা নামের এক নারী ময়লা-আবর্জনার ভেতর থেকে লোহার টুকরা, বাচ্চাদের খেলনা, প্লাস্টিকের পণ্য সংগ্রহ করছিল। তিনি বলেন, ‘সারাদিন কষ্ট করে ১/২ বস্তা বোতল ও ভাঙারি সংগ্রহ করি। মাঝেমধ্যে হাত কেটে যায়। গত সপ্তাহে হাতে একটা সুই ঢুকে। এতে অনেকদিন কাজ করতে পারিনি।’

ল্যান্ডফিলের নিরাপত্তাকর্মী জামাল বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টে এখানে দায়িত্ব পালন করি। অনেক দুর্গন্ধ, দূষিত এলাকা। তবুও সরকারের কাজ করি। প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো। প্রায়ই শ্বাসকষ্ট ও এলার্জি সমস্যা হতো। আমরা এখন এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
ল্যান্ডফিলের পাশের ভাঙারি দোকানদার সজীব ভূইয়া বলেন, ‘আগে আমরা এখানে চাষাবাদ করতাম। ল্যান্ডফিল হওয়ার পরে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এখানে এখন ছোট একটা ভাঙারির দোকান দিয়ে টিকে আছি। মাঝেমধ্যে ময়লার ভাগাড়ের বর্জ্যে আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ার সঙ্গে তীব্র দুর্গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরের এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের একদল গবেষক ‘ঢাকা ল্যান্ডফিল ওয়াস্ট প্র্যাকটিস: অ্যাড্রেসিং আরবান পলিউশন অ্যান্ড হেলথ হেজার্ডস’ শিরোনামের গবেষণা করেন। ২০২১ সালে এটি ‘বিল্ডিংস অ্যান্ড সিটিস জার্নালে’ প্রকাশিত হয়। এতে মাতুয়াইল ও আমিনবাজার ল্যান্ডফিল দুটি জনবসতি, জলাশয় এবং কৃষিভূমির অত্যন্ত কাছে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়। আর এ কারণে স্থানীয় লোকজন শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ এবং পেটের পীড়ার সমস্যায় ভুগছেন বলে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত তরল ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটি দূষিত করছে, যা মৎস্য চাষ এবং কৃষিকাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া এবং তীব্র দুর্গন্ধ ও বায়ুদূষণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
এ বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য ও জীবন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ল্যান্ডফিলের বর্জ্যের মধ্যে সালফার ডাই অক্সাইড রাসায়নকি যৌগ থাকে, যা বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন করছে। এগুলো আমাদের নাক ও মুখ দিয়ে শরীরে ভেতরে ঢুকছে। এতে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, ভেতরের কোষগুলো ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। এতে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া খুবই খারাপ। এই ধোঁয়া শরীরে ঢুকলে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা হতে পারে। অনেকের জীবনধারায় পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি ঘুমও কমে যেতে পারে। এই ধোঁয়ার কারণে দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডজনিত রোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে প্রায় ৩ হাজার টনের বেশি ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ১৯৮৯ সালে প্রথমে ল্যান্ডফিলটি ৫০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করা হয়েছিল। যার সক্ষমতা ২০০৬ সালে শেষ হয়ে গেছে। পরে এই ল্যান্ডফিলের আয়তন বাড়ানো হয়। এজন্য আশপাশের আরও ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এখন ল্যান্ডফিলের আয়তন ১৮১ একর। ল্যান্ডফিলের নতুন জায়গায় বর্তমানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ল্যান্ডফিলে ফেলা পুরোনো বর্জ্যের যে স্তূপ ছিল, সেই স্তূপ থেকে বর্জ্য রিসাইক্লিং করে গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্প চলমান রয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জন্য একটা পরিকল্পনার এখনই নেওয়া দরকার। এভাবে একটা শহর চলতে পারে না।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বর্জ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন
আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে তীব্র বায়ুদূষণ,
দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ কয়েক লাখ মানুষ







