সাবেক এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

সাবেক এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন মেয়ের মামা ওবায়দুর রহমান। বর্তমানে তিনি জীবননাশের হুমকির মুখে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মামলাটি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) সংবাদ সম্মেলন করে ওই দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান বলেন, নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল আমার ভাগ্নির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই সম্পর্কের মুখোশ উন্মোচন করতে চাওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আপনাদের সামনে উপস্থিত হইনি। আমি চাই, আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রকৃত সত্য জাতির সামনে প্রকাশিত হোক।
গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক ভিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া মেয়েটি আমার আপন ভাগ্নি। আমরা একই বাসায় বসবাস করতাম। গাজী নজরুল বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৮ জুন আমি প্রথমে আমার ভাগ্নির চেহারায় কিছু অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করি। পরদিন ১৯ জুন মেয়েটির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে একপর্যায়ে সে গাজী নজরুলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে সে জানায়, গাজী নজরুলের কথায় রাজি না হলে তাকে ও তার পরিবারকে ‘পথের ফকির’ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি বোন ও ভগ্নিপতিকে জানালে তারা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি তার মামা হিসেবে বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি।’
পরদিন ২০ জুন রাতে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে যাওয়ার কথা জানিয়ে ওবায়দুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি গাজীকে বললে তিনি অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে মুতা বিবাহ জায়েজ বলে ফতোয়া দেন।
তার দাবি, এ সময় মেয়েটির মাধ্যমে তাকে কিছু টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অর্থ গ্রহণ করেননি। তবে ভাগ্নির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মেয়েটি ও গাজী নজরুলের মধ্যে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয় তার নজরে আসে বলেও দাবি করেন ওবায়দুর।
তিনি বলেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেল পল্লবী স্টেশনের একটি কপি শপে অবস্থানের সময়ে তারা প্রকাশ্যে নোংরামি করে। উপস্থিত স্টাফ ও সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি ট্রেনিং সেন্টারে তাদের অবস্থানের সময়ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করার দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর জানান, ওই সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজেও তার প্রমাণ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানান তিনি।
১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে তাদের অবস্থান-সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন বলে জানান ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, সেখানে একটি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি ডিভাইস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ডিভাইসটি যথাযথভাবে কাজ করেনি বলে তাকে জানানো হয়। এ বিষয়ে তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ওবায়দুর বলেন, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং কিছু লোক সেখানে উপস্থিত হয়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। ১৩ জুলাইয়ের ঘটনার পর ওই রাতেই মেয়েটি তাকে জানায়, সে বাসায় ফিরতে চায় না। তার অনুরোধে তাকে নিয়ে ঢাকার বাইরে এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে যান বলে জানান ওবায়দুর। তিনি বলেন, পরদিন আমরা ঢাকায় ফেরার পথে গাজীপুর এলাকায় এসে গাজী নজরুলকে ফোন করি। তিনি আমাদের এগিয়ে আসতে বলেন এবং লোক পাঠানোর কথা জানান। এরপর খিলক্ষেত এলাকায় মেয়েটির বাবা মাসুম ও আমিনুর নামে একজনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে বাসায় আসেন।
ওবায়দুরের অভিযোগ, ‘রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পরপরই আমার ওপর হামলা চালানো হয়। মাসুম ও আমিনুর আমাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে।’
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে লাঠি ভেঙে গেলে আমিনুর তাকে মেঝেতে ফেলে বুকের ওপর চেপে বসে এবং মাসুম তার মাথায় অনবরত লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করে।
ওবায়দুরের দাবি, তার মা ও ছোট বোনের চিৎকার ও টানাটানির একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বাসা থেকে বের হয়ে ওইদিন রাতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
ওবায়দুর রহমান জানান, গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন দেন বলে জানান তিনি।
ওবায়দুর আরও অভিযোগ করে বলেন, জামিনে থাকা আসামিসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে চলতি আগস্ট মাসের ২ তারিখে তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছে আশা করব, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে তদন্ত করবেন। আমি নির্দোষ হলে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক এবং কেউ মিথ্যা মামলা করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে ওবায়দুর বলেন, আমার প্রতি একের পর এক হুমকির প্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তায় পরিবারসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অসংখ্য অনিয়ম, দুর্নীতি, জমি দখল ও অন্যান্য অভিযোগ থাকলেও তিনি বিভিন্ন সময় পার পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমকে অনুসন্ধান করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় ক্যাপ্টেন (অব.) সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন মেয়ের মামা ওবায়দুর রহমান। বর্তমানে তিনি জীবননাশের হুমকির মুখে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মামলাটি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) সংবাদ সম্মেলন করে ওই দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান বলেন, নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল আমার ভাগ্নির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই সম্পর্কের মুখোশ উন্মোচন করতে চাওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আপনাদের সামনে উপস্থিত হইনি। আমি চাই, আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রকৃত সত্য জাতির সামনে প্রকাশিত হোক।
গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক ভিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া মেয়েটি আমার আপন ভাগ্নি। আমরা একই বাসায় বসবাস করতাম। গাজী নজরুল বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৮ জুন আমি প্রথমে আমার ভাগ্নির চেহারায় কিছু অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করি। পরদিন ১৯ জুন মেয়েটির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে একপর্যায়ে সে গাজী নজরুলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে সে জানায়, গাজী নজরুলের কথায় রাজি না হলে তাকে ও তার পরিবারকে ‘পথের ফকির’ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি বোন ও ভগ্নিপতিকে জানালে তারা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি তার মামা হিসেবে বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি।’
পরদিন ২০ জুন রাতে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে যাওয়ার কথা জানিয়ে ওবায়দুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি গাজীকে বললে তিনি অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে মুতা বিবাহ জায়েজ বলে ফতোয়া দেন।
তার দাবি, এ সময় মেয়েটির মাধ্যমে তাকে কিছু টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অর্থ গ্রহণ করেননি। তবে ভাগ্নির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মেয়েটি ও গাজী নজরুলের মধ্যে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয় তার নজরে আসে বলেও দাবি করেন ওবায়দুর।
তিনি বলেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেল পল্লবী স্টেশনের একটি কপি শপে অবস্থানের সময়ে তারা প্রকাশ্যে নোংরামি করে। উপস্থিত স্টাফ ও সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি ট্রেনিং সেন্টারে তাদের অবস্থানের সময়ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করার দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর জানান, ওই সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজেও তার প্রমাণ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানান তিনি।
১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে তাদের অবস্থান-সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন বলে জানান ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, সেখানে একটি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি ডিভাইস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ডিভাইসটি যথাযথভাবে কাজ করেনি বলে তাকে জানানো হয়। এ বিষয়ে তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ওবায়দুর বলেন, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং কিছু লোক সেখানে উপস্থিত হয়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। ১৩ জুলাইয়ের ঘটনার পর ওই রাতেই মেয়েটি তাকে জানায়, সে বাসায় ফিরতে চায় না। তার অনুরোধে তাকে নিয়ে ঢাকার বাইরে এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে যান বলে জানান ওবায়দুর। তিনি বলেন, পরদিন আমরা ঢাকায় ফেরার পথে গাজীপুর এলাকায় এসে গাজী নজরুলকে ফোন করি। তিনি আমাদের এগিয়ে আসতে বলেন এবং লোক পাঠানোর কথা জানান। এরপর খিলক্ষেত এলাকায় মেয়েটির বাবা মাসুম ও আমিনুর নামে একজনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে বাসায় আসেন।
ওবায়দুরের অভিযোগ, ‘রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পরপরই আমার ওপর হামলা চালানো হয়। মাসুম ও আমিনুর আমাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে।’
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে লাঠি ভেঙে গেলে আমিনুর তাকে মেঝেতে ফেলে বুকের ওপর চেপে বসে এবং মাসুম তার মাথায় অনবরত লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করে।
ওবায়দুরের দাবি, তার মা ও ছোট বোনের চিৎকার ও টানাটানির একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বাসা থেকে বের হয়ে ওইদিন রাতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
ওবায়দুর রহমান জানান, গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন দেন বলে জানান তিনি।
ওবায়দুর আরও অভিযোগ করে বলেন, জামিনে থাকা আসামিসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে চলতি আগস্ট মাসের ২ তারিখে তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছে আশা করব, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে তদন্ত করবেন। আমি নির্দোষ হলে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক এবং কেউ মিথ্যা মামলা করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে ওবায়দুর বলেন, আমার প্রতি একের পর এক হুমকির প্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তায় পরিবারসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অসংখ্য অনিয়ম, দুর্নীতি, জমি দখল ও অন্যান্য অভিযোগ থাকলেও তিনি বিভিন্ন সময় পার পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমকে অনুসন্ধান করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় ক্যাপ্টেন (অব.) সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন মেয়ের মামা ওবায়দুর রহমান। বর্তমানে তিনি জীবননাশের হুমকির মুখে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মামলাটি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) সংবাদ সম্মেলন করে ওই দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান বলেন, নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল আমার ভাগ্নির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই সম্পর্কের মুখোশ উন্মোচন করতে চাওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আপনাদের সামনে উপস্থিত হইনি। আমি চাই, আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রকৃত সত্য জাতির সামনে প্রকাশিত হোক।
গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক ভিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া মেয়েটি আমার আপন ভাগ্নি। আমরা একই বাসায় বসবাস করতাম। গাজী নজরুল বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৮ জুন আমি প্রথমে আমার ভাগ্নির চেহারায় কিছু অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করি। পরদিন ১৯ জুন মেয়েটির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে একপর্যায়ে সে গাজী নজরুলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে সে জানায়, গাজী নজরুলের কথায় রাজি না হলে তাকে ও তার পরিবারকে ‘পথের ফকির’ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি বোন ও ভগ্নিপতিকে জানালে তারা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি তার মামা হিসেবে বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি।’
পরদিন ২০ জুন রাতে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে যাওয়ার কথা জানিয়ে ওবায়দুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি গাজীকে বললে তিনি অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে মুতা বিবাহ জায়েজ বলে ফতোয়া দেন।
তার দাবি, এ সময় মেয়েটির মাধ্যমে তাকে কিছু টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অর্থ গ্রহণ করেননি। তবে ভাগ্নির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মেয়েটি ও গাজী নজরুলের মধ্যে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয় তার নজরে আসে বলেও দাবি করেন ওবায়দুর।
তিনি বলেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেল পল্লবী স্টেশনের একটি কপি শপে অবস্থানের সময়ে তারা প্রকাশ্যে নোংরামি করে। উপস্থিত স্টাফ ও সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি ট্রেনিং সেন্টারে তাদের অবস্থানের সময়ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করার দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর জানান, ওই সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজেও তার প্রমাণ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানান তিনি।
১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে তাদের অবস্থান-সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন বলে জানান ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, সেখানে একটি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি ডিভাইস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ডিভাইসটি যথাযথভাবে কাজ করেনি বলে তাকে জানানো হয়। এ বিষয়ে তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ওবায়দুর বলেন, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং কিছু লোক সেখানে উপস্থিত হয়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। ১৩ জুলাইয়ের ঘটনার পর ওই রাতেই মেয়েটি তাকে জানায়, সে বাসায় ফিরতে চায় না। তার অনুরোধে তাকে নিয়ে ঢাকার বাইরে এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে যান বলে জানান ওবায়দুর। তিনি বলেন, পরদিন আমরা ঢাকায় ফেরার পথে গাজীপুর এলাকায় এসে গাজী নজরুলকে ফোন করি। তিনি আমাদের এগিয়ে আসতে বলেন এবং লোক পাঠানোর কথা জানান। এরপর খিলক্ষেত এলাকায় মেয়েটির বাবা মাসুম ও আমিনুর নামে একজনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে বাসায় আসেন।
ওবায়দুরের অভিযোগ, ‘রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছানোর পরপরই আমার ওপর হামলা চালানো হয়। মাসুম ও আমিনুর আমাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে।’
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে লাঠি ভেঙে গেলে আমিনুর তাকে মেঝেতে ফেলে বুকের ওপর চেপে বসে এবং মাসুম তার মাথায় অনবরত লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করে।
ওবায়দুরের দাবি, তার মা ও ছোট বোনের চিৎকার ও টানাটানির একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বাসা থেকে বের হয়ে ওইদিন রাতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
ওবায়দুর রহমান জানান, গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন দেন বলে জানান তিনি।
ওবায়দুর আরও অভিযোগ করে বলেন, জামিনে থাকা আসামিসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে চলতি আগস্ট মাসের ২ তারিখে তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছে আশা করব, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে তদন্ত করবেন। আমি নির্দোষ হলে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক এবং কেউ মিথ্যা মামলা করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে ওবায়দুর বলেন, আমার প্রতি একের পর এক হুমকির প্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তায় পরিবারসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অসংখ্য অনিয়ম, দুর্নীতি, জমি দখল ও অন্যান্য অভিযোগ থাকলেও তিনি বিভিন্ন সময় পার পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমকে অনুসন্ধান করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় ক্যাপ্টেন (অব.) সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।






