শিরোনাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট

আদালত প্রতিবেদক
আদালত প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ। তিনি বাংলাদেশ মুসলিম লীগের একাংশের সভাপতি।

বুধবার (২৪ জুন) দায়ের করা এ রিট আবেদনে আইনটিকে ‘অবৈধ’ দাবি করে এই ট্রাইব্যুনালকে ‘জুডিশিয়াল মার্ডারের ইন্সট্রুমেন্ট’ বা বিচারিক হত্যার হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

রিটে আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীদের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন সরকারকে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন বাতিল বা রহিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না।

আইনজীবী মহসিন রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যমান আইসিটি আইনটি অবৈধ। এর কোনো পারপাস (উদ্দেশ্য) ছিল না। এর একটাই পারপাস ছিল, আর তা হলো– ২০০৯ সালে একে সংশোধন ও ব্যবহার করে জুডিশিয়াল মার্ডার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট’ করা হয়। এ ট্রাইব্যুনালে ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনা এবং স্বাধীনভাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনার বিধান যুক্ত করে ২০০৯ সালে আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়।

এর ভিত্তিতেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের যুদ্ধাপাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর ৫ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়।

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালকেই বেছে নেয়। সেখানে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনে আরেক দফা সংশোধনী আনা হয়।

ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর এরইমধ্যে ৪টি মামলার রায় এসেছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

/এফসি/