শিরোনাম

এশিয়ান হাতি রক্ষায় জাবিতে ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
এশিয়ান হাতি রক্ষায় জাবিতে ডায়ালগ অনুষ্ঠিত
ডায়ালগ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতি সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং মানুষ ও হাতির মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দ্য কো-এক্সিস্টেন্স ডায়ালগ: পিপল, এলিফ্যান্ট অ্যান্ড শেয়ার্ড ল্যান্ডস্কেপস’ শীর্ষক সংলাপ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাংবাদিকতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি শাহরিয়ার অনির্বাণ এবং প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোস্তফা ইউসুফকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম এবং মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা প্রমুখ। এতে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনবসতি সম্প্রসারণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এশিয়ান হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে হাতির স্বাভাবিক বিচরণ ও খাদ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ ও হাতির সংঘাতও বাড়ছে, যা একদিকে মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে, অন্যদিকে মহাবিপন্ন এ প্রাণীর অস্তিত্বকে আরও সংকটের মধ্যে ফেলছে।

বক্তারা আরও বলেন, মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না; এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। হাতির চলাচলের করিডোর চিহ্নিত করে সেগুলো সুরক্ষিত রাখা, প্রাকৃতিক বনভূমি সংরক্ষণ, হাতির আবাসস্থলে অনিয়ন্ত্রিত দখল ও উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক শাহরিয়ার অনির্বাণের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী বিষয়ক সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। তিনি ২০০৯ সাল থেকে পরিবেশ, বন, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ নিয়ে সাংবাদিকতা করে আসছেন। সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণী পাচার, হাতি-সংক্রান্ত অপরাধ, বন ধ্বংস এবং পরিবেশগত সংকট নিয়ে তার একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রয়েছে।

অন্যদিকে সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক মোস্তফা ইউসুফ এক দশকের বেশি সময় ধরে পরিবেশ, বন, জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও খাদ্য বিষয় নিয়ে সাংবাদিকতা করছেন। সুন্দরবন ও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চল, কক্সবাজারে এশিয়ান হাতির আবাসস্থল দখল, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব এবং পরিবেশগত সংকট নিয়ে তিনি একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করা, হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ রক্ষা এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাতি সংরক্ষণে গবেষক, নীতিনির্ধারক, পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

/এফআর/