শিরোনাম

আবুল বারকাতকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ

আদালত সংবাদদাতা
আদালত সংবাদদাতা
আবুল বারকাতকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ
আদালত প্রাঙ্গণে অধ্যাপক আবুল বারকাত

অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কারাগারে আটক রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না হয়ে থাকলে তাকে এই আদেশের কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবুল বারকাতের মেয়ে অরনি বারকাতের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরনি বারকাত মঙ্গলবার (৯ জুন) এই রিট দায়ের করেন। তার অভিযোগ, আবুল বারকাতকে হয়রানি, অপদস্থ ও নিপীড়নের উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আটকে রাখা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং সৈয়দ মামুন মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী প্রান্ত বড়ুয়া। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মোমতাজ ও মো. জাসিদুল ইসলাম (জনি)।

আইনজীবী মামুন মাহবুব জানান, রিটের শুনানি শেষে আদালত রুলসহ তাৎক্ষণিক মুক্তির এ আদেশ দিয়েছেন। রিটে বিবাদী স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কেন আদালতের সামনে উপস্থিত করা হবে না যাতে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারে যে তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়নি– রুলে সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনকারীর খরচে বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশ ও রুলের কপি প্রতিপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আদেশও দেওয়া হয়েছে।

গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি। সেদিনই ঢাকার নিউ মার্কেট থানার একটি বিস্ফোরক আইনের পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানান তার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।

আবুল বারকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার সময় এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। ওই বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

/এফসি/