শিরোনাম

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির নির্দেশ
রিজওয়ানা সিদ্দিকী টিউলিপ। ছবি: ইউকে বিজনেস

রাজধানীর গুলশানে ‘ঘুষ হিসেবে’ একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের মামলায় ব্রিটিশ এমপি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর রেড নোটিস জারির আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলা দায়েরের আগেই টিউলিপ সিদ্দিক দেশত্যাগ করেছেন এবং তদন্তে সহায়ক প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন হলেও তিনি দেশে না থাকায় ইন্টারপোলের সহায়তায় রেড নোটিস জারি করা দরকার।

অভিযোগের বিবরণ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের ১৫ এপ্রিল গুলশানের একটি প্লট ভেঙে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরে অনিয়মের অভিযোগে মামলা করে। মামলায় টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সরদার মোশাররফ হোসেনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরী গুলশানে ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট বরাদ্দ পান। সরকারি লিজ চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে প্লটটি হস্তান্তর বা ভাগ করে বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে আমমোক্তারনামার মাধ্যমে প্লটটি হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে একাধিক হাতবদল হয়ে প্লটটি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের সংশ্লিষ্টদের কাছে যায়। পরে প্লটটি দুই ভাগে বিভক্ত করে ছয়তলা ভবন নির্মাণ এবং মোট ৩৬টি ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়।

দুদকের ভাষ্য, লিজের শর্ত ভেঙে প্লট বিভাজন ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড প্লটের মালিক না হওয়া সত্ত্বেও অবৈধভাবে ফ্ল্যাট বিক্রির সুযোগ পায়।

‘অবৈধ পারিতোষিক’ হিসেবে ফ্ল্যাট

দুদকের অভিযোগ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে এ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে টিউলিপ সিদ্দিক প্রভাব খাটান। এর বিনিময়ে তিনি ‘অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে’ বিনা মূল্যে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেন।

দুদক বলছে, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি চিঠিতে রিজওয়ানা সিদ্দিকী টিউলিপকে বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি রাজউকে পাঠানো ফ্ল্যাট মালিকদের তালিকায় পাঁচ নম্বরে টিউলিপের নাম ছিল, যা ‘অবৈধ সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও আগের দণ্ড

মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই দিন রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়।

এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির তিন মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়।

/এসএ/