শিরোনাম

তিন মাস পর সুন্দরবনে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য, দস্যু আতঙ্কে বনজীবীরা

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
তিন মাস পর সুন্দরবনে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য, দস্যু আতঙ্কে বনজীবীরা
সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে নৌকা-জাল নিয়ে জেলের প্রস্তুতি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলেছে সুন্দরবনের দ্বার। এতে উপকূলীয় জনপদে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। জীবিকার টানে আবারও বনে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন জেলে-বাওয়ালীরা। তবে বনদস্যুদের আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের।

অভিযোগ উঠেছে, মাছ ও কাঁকড়া আহরণে সুন্দরবনে প্রবেশের আগেই বনদস্যুদের দিতে হয়েছে অগ্রিম চাঁদা। এ ছাড়া অপহরণের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে জীবিকার তাগিদে বনে গেলেও নিরাপদে ফিরে আসতে পারবেন কি না– সেই শঙ্কা কাটছে না তাদের।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় জেলেরা নৌকায় জ্বালানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে বনে প্রবেশ করছেন। মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

অন্যদিকে, পর্যটকদের জন্যও উন্মুক্ত হয়েছে সুন্দরবন। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে কর্মব্যস্ততা।

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১২ পর্যন্ত জেলেদের জন্য ১৫৫টি পাস ইস্যু করা হয়েছে এবং একটি টুরিস্ট বোটকে পাস দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পাশের সংখ্যা কম। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে সংখ্যা আরও বাড়বে।

মুন্সিগঞ্জের মৌখালী গ্রামের জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তিন মাস পরে আজ সুন্দরবনে যাব ভেবে ভালো লাগছে। মাছ-কাঁকড়া ধরে পরিবার-পরিজনের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবো। তিন মাস খুবই কষ্টে দিন পার করেছি। অনেক টাকা ঋণ হয়েছি। সুন্দরবন থেকে আয় করে ঋণের টাকা শোধ করবো।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালি গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন সুন্দরবন বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে ছিলাম। আজ সুন্দরবন খুলে দিয়েছে। বন বিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করবো। কিন্তু ভয় বনদস্যুদের নিয়ে। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বনদস্যু আতঙ্ক নিয়েই সুন্দরবনের প্রবেশ করতে হচ্ছে।

পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন পর্যটক সুন্দরবনে যেতে পারেনি। এ সময় আমাদের ট্রলারগুলো বসে থাকায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ করে মেরামত করেছি। পর্যটক আসলে এবং তাদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ করিয়ে যে টাকায় আয় করবো– তা দিয়ে সংসার চালাবো এবং ঋণ শোধ করবো।

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী মোকসেদ হোসেন জানান, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসায় মন্দা ছিল। কারণ সুন্দরবন এলাকায় অধিকাংশ মানুষ এই বন থেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সুন্দরবন বন্ধ থাকার কারণে তাদের আয়ের কোন সুযোগ ছিল না। আমাদেরও বেচাকেনা কম ছিল। আজ সুন্দরবন খুলেছে, আশা করি সামনের দিনগুলো ভালো চলবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে সুন্দরবনে ঘুরতে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রহিম জানান, দুর্যোগ উপেক্ষা করে আমরা কয়েকজন বন্ধু ঘুরতে এসেছি। সুন্দরবনের প্রবেশের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখবো।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবাইকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুমতিপত্র নিতে হবে। একই সঙ্গে বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বনজীবীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ ছিল।

/এফআর/