শিরোনাম

মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে ‘কান ধরে উঠবস’ ছেলের

রংপুর সংবাদদাতা
রংপুর সংবাদদাতা
মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে ‘কান ধরে উঠবস’ ছেলের
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে রিফাত হোসেনকে কান ধরে উঠবস করানো হয়

রোগীর মৃত্যু ঘিরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিনভর চলে বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টির অভিযোগ। চিকিৎসকদের সঙ্গে হাতাহাতির অভিযোগের পর মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেনকে কান ধরে উঠবস করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর নিজেদের অবহেলার অভিযোগ এড়াতে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা মরদেহ আটকে রাখেন। শুধু তাই নয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা নানা অজুহাত আর দাবি তুলে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব করে। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেন উপস্থিত হলে তাকে কান ধরে উঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছোট ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী ও ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নূর নাহার বেগমের মৃত্যুর পর তার মরদেহ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাউকে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বাধা দেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামিয়ে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। তবে কোনো মরদেহ আটকে রাখা হয়নি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। এটি অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় সেখানে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহটি মরচুয়ারিতে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলেকে পুলিশের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর পরিবারের কারো কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

/এসআর/