দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের, স্বস্তিতে চাষিরা

দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের, স্বস্তিতে চাষিরা
পাবনা সংবাদদাতা

‘গত তিন চারদিন হাটে ১৫ টেকা কেজি দরে মরিচ বেচিছি। এরম থাকলি লোকসান হলোনে। ক্ষেতে থেনে এক কেজি মরিচ তুলতিই কামলাগারে দেওয়া লাগে ১০ টেকা। আবার হাটে লেওয়া খরচ আছে, খাজনা আছে। কয়েকদিন লোকসান হইছে। তবে গত দুইদিন হইলো ৩০ টেকা কেজি মরিচ বেচতিছি। এরম দাম থাকলি কিছুটা পুষাবিনি।’
কথাগুলো বলছিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার শামুকজানি গ্রামের কৃষক আবেদ আলী। লোকসানের পর কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ায় তার মতো স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার মরিচ চাষিদের মধ্যে।
কাঁচা মরিচ উৎপাদনের অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলাটিতে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে শুরুতে মরিচের দাম কম থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন চাষিরা। এখন দাম বাড়ায় খুশি চাষিরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাঁথিয়া উপজেলার ছেঁচানিয়া, ঘুঘুদহ, শামুকজানি সহ কয়েকটি গ্রামের মরিচের খেত ঘুরে দেখা গেছে, গাছ থেকে মরিচ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রতিটি খেতেই প্রচুর মরিচ ধরেছে।
কৃষকরা জানান, মরিচ না তুললে গাছের ক্ষতি হয় এবং পরবর্তী ফলন কমে যায়। তাই বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েই মরিচ তুলছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকের পাশাপাশি বাড়ির নারী সদস্য ও শিক্ষার্থীরাও মরিচ তোলার কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
ঘুঘুদহ গ্রামের মরিচ চাষি আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ফলন তো অনেক ভালো হইছে। দুই একদিন পরপরই মরিচ তোলা লাগে। না হলি গাছ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন দাম পাই নাই। তবে দুইদিন হইলো দাম বাড়িছে। এহন মনে শান্তি লাগতিছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর ধরেই মরিচের বাজার নিয়ে চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কোনো বছর ফলন কম হলে দাম বাড়ে, আবার উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যায়। গত বছরের এ সময়ে কাঁচা মরিচের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছিল।
সাঁথিয়ায় সাধারণত মে মাস থেকে কাঁচা মরিচের ফলন শুরু হয়। মে থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত খেত থেকে মরিচ তোলা যায়। সেই হিসাবে বর্তমানে উপজেলায় কাঁচা মরিচের ভরা মৌসুম চলছে। আরও দুই মাস উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।
সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুরহাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ উঠছে। মরিচ চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগেও এই হাটে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গিয়েছিল। গত দুই-তিন দিন ১৫ টাকা কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে। এখন আবার দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। এ বছর মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৩৫ টন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। যে কারণে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছেন। এখন সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে সামনে আবার দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘গত তিন চারদিন হাটে ১৫ টেকা কেজি দরে মরিচ বেচিছি। এরম থাকলি লোকসান হলোনে। ক্ষেতে থেনে এক কেজি মরিচ তুলতিই কামলাগারে দেওয়া লাগে ১০ টেকা। আবার হাটে লেওয়া খরচ আছে, খাজনা আছে। কয়েকদিন লোকসান হইছে। তবে গত দুইদিন হইলো ৩০ টেকা কেজি মরিচ বেচতিছি। এরম দাম থাকলি কিছুটা পুষাবিনি।’
কথাগুলো বলছিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার শামুকজানি গ্রামের কৃষক আবেদ আলী। লোকসানের পর কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ায় তার মতো স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার মরিচ চাষিদের মধ্যে।
কাঁচা মরিচ উৎপাদনের অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলাটিতে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে শুরুতে মরিচের দাম কম থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন চাষিরা। এখন দাম বাড়ায় খুশি চাষিরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাঁথিয়া উপজেলার ছেঁচানিয়া, ঘুঘুদহ, শামুকজানি সহ কয়েকটি গ্রামের মরিচের খেত ঘুরে দেখা গেছে, গাছ থেকে মরিচ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রতিটি খেতেই প্রচুর মরিচ ধরেছে।
কৃষকরা জানান, মরিচ না তুললে গাছের ক্ষতি হয় এবং পরবর্তী ফলন কমে যায়। তাই বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েই মরিচ তুলছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকের পাশাপাশি বাড়ির নারী সদস্য ও শিক্ষার্থীরাও মরিচ তোলার কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
ঘুঘুদহ গ্রামের মরিচ চাষি আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ফলন তো অনেক ভালো হইছে। দুই একদিন পরপরই মরিচ তোলা লাগে। না হলি গাছ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন দাম পাই নাই। তবে দুইদিন হইলো দাম বাড়িছে। এহন মনে শান্তি লাগতিছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর ধরেই মরিচের বাজার নিয়ে চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কোনো বছর ফলন কম হলে দাম বাড়ে, আবার উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যায়। গত বছরের এ সময়ে কাঁচা মরিচের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছিল।
সাঁথিয়ায় সাধারণত মে মাস থেকে কাঁচা মরিচের ফলন শুরু হয়। মে থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত খেত থেকে মরিচ তোলা যায়। সেই হিসাবে বর্তমানে উপজেলায় কাঁচা মরিচের ভরা মৌসুম চলছে। আরও দুই মাস উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।
সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুরহাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ উঠছে। মরিচ চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগেও এই হাটে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গিয়েছিল। গত দুই-তিন দিন ১৫ টাকা কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে। এখন আবার দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। এ বছর মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৩৫ টন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। যে কারণে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছেন। এখন সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে সামনে আবার দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের, স্বস্তিতে চাষিরা
পাবনা সংবাদদাতা

‘গত তিন চারদিন হাটে ১৫ টেকা কেজি দরে মরিচ বেচিছি। এরম থাকলি লোকসান হলোনে। ক্ষেতে থেনে এক কেজি মরিচ তুলতিই কামলাগারে দেওয়া লাগে ১০ টেকা। আবার হাটে লেওয়া খরচ আছে, খাজনা আছে। কয়েকদিন লোকসান হইছে। তবে গত দুইদিন হইলো ৩০ টেকা কেজি মরিচ বেচতিছি। এরম দাম থাকলি কিছুটা পুষাবিনি।’
কথাগুলো বলছিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার শামুকজানি গ্রামের কৃষক আবেদ আলী। লোকসানের পর কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ায় তার মতো স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার মরিচ চাষিদের মধ্যে।
কাঁচা মরিচ উৎপাদনের অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলাটিতে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে শুরুতে মরিচের দাম কম থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন চাষিরা। এখন দাম বাড়ায় খুশি চাষিরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাঁথিয়া উপজেলার ছেঁচানিয়া, ঘুঘুদহ, শামুকজানি সহ কয়েকটি গ্রামের মরিচের খেত ঘুরে দেখা গেছে, গাছ থেকে মরিচ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রতিটি খেতেই প্রচুর মরিচ ধরেছে।
কৃষকরা জানান, মরিচ না তুললে গাছের ক্ষতি হয় এবং পরবর্তী ফলন কমে যায়। তাই বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েই মরিচ তুলছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকের পাশাপাশি বাড়ির নারী সদস্য ও শিক্ষার্থীরাও মরিচ তোলার কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
ঘুঘুদহ গ্রামের মরিচ চাষি আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ফলন তো অনেক ভালো হইছে। দুই একদিন পরপরই মরিচ তোলা লাগে। না হলি গাছ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন দাম পাই নাই। তবে দুইদিন হইলো দাম বাড়িছে। এহন মনে শান্তি লাগতিছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর ধরেই মরিচের বাজার নিয়ে চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কোনো বছর ফলন কম হলে দাম বাড়ে, আবার উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যায়। গত বছরের এ সময়ে কাঁচা মরিচের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছিল।
সাঁথিয়ায় সাধারণত মে মাস থেকে কাঁচা মরিচের ফলন শুরু হয়। মে থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত খেত থেকে মরিচ তোলা যায়। সেই হিসাবে বর্তমানে উপজেলায় কাঁচা মরিচের ভরা মৌসুম চলছে। আরও দুই মাস উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।
সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুরহাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ উঠছে। মরিচ চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগেও এই হাটে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গিয়েছিল। গত দুই-তিন দিন ১৫ টাকা কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে। এখন আবার দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। এ বছর মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৩৫ টন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। যে কারণে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছেন। এখন সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে সামনে আবার দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




