শিরোনাম

মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে ধর্ষণের শিকার মা

নাটোর সংবাদদাতা
মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে ধর্ষণের শিকার মা
গ্রেপ্তার অমিত, অনিল ও অঙ্গন

মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসে নাটোর সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মা। মঙ্গলবার (৯ জুন) এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা। পরে হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তাররা হলেন– নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আউটসোর্সিং সুইপার অমিত, অনিল ও অঙ্গন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন মেয়েকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন ওই মা। এরপর গত ৭ জুন রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত আসামি অমিত ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে ডেকে নেন। পরে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার সিঁড়ি ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এসময় ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন অমিতের দুই সহযোগী।

পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ওই নারীকে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেন অভিযুক্তরা। এসময় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুটি তার মাকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। এতে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সরা নারীর খোঁজ শুরু করেন। খোঁজ না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষায় ষষ্ঠ তলায় ওই নারীর অবস্থান শনাক্ত করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ষষ্ঠ তলায় গিয়ে হাতেনাতে অভিযুক্তদের আটক এবং ওই নারীকে উদ্ধার করে।

নাটোর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আল আমিন ইসলাম বলেন, শহরের বাসিন্দা ওই নারী তার মেয়ের সর্দি-জ্বর নিয়ে শুক্রবার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করান। রবিবার রাত ১০টার দিকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে শিশুটির মাকে ডেকে নেন অমিত। পরে হাসপাতালের লিফটে ছয়তলার সিঁড়িঘরে ওই নারীকে নিয়ে ধর্ষণ করেন অমিত। বিষয়টি বুঝতে পেরে অনিল ও অঙ্গন গোপনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ওই নারীকে ভিডিও দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। রাজি না হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

/এসআর/