শিরোনাম

মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভৈরবে ভয়াবহ সংঘর্ষ

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভৈরবে ভয়াবহ সংঘর্ষ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

বুধবার (১০ জুন) রাত সোয়া আটটার দিকে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভৈরবের গুরুত্বপূর্ণ দুর্জয় মোড় ও আশপাশের এলাকায়। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

সংঘর্ষে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ, এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিশোরগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভৈরব মাইক্রোস্ট্যান্ড বর্তমানে পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সিয়ামের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি কমলপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, ভৈরবপুর এলাকার একটি পক্ষ স্ট্যান্ডে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। কয়েক দিন আগে স্ট্যান্ডে একজন নির্দিষ্ট চালককে নিয়োগ দেওয়ার দাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

বুধবার সন্ধ্যার পর ভৈরবপুর এলাকার কিছু লোক মাইক্রোস্ট্যান্ডে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে কমলপুর এলাকার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একপর্যায়ে দা, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ মহাসড়কের ওপর মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একদিকে যানজট নরসিংদীর নারায়ণপুর পর্যন্ত এবং অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সংঘর্ষের কিছু সময় পর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারের সুযোগে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে জড়িতরা টর্চলাইট ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয় করছিল এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়।

পুলিশ শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সংঘর্ষ থামাতে বারবার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।

সংঘর্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। আরিফুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের ওপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং সংঘর্ষ বন্ধ করতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, এর মাত্র ছয় দিন আগে, ৪ জুন ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটসহ পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তখন ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষের বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভা

বিক হতে শুরু করেছে।

/এমআর/