বিয়ে অস্বীকার কনেপক্ষের, ধর্ষণ মামলায় কারাগারে যুবক

বিয়ে অস্বীকার কনেপক্ষের, ধর্ষণ মামলায় কারাগারে যুবক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

গায়ে হলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয়েছিলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় রীতিতে পড়ানো হয় বিয়ে। অথচ বিয়েই হয়নি বলে দাবি করেন কনে ও তার পরিবার। উল্টো অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন বরের বিরুদ্ধে। এখন এই মামলায় রুমন খন্দকার নামের ওই যুবক কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায়৷ ওই যুবক উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রী। গত দেড় মাস যাবৎ ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ।
ছেলের পরিবারের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতে ২২ মে ওই কিশোরীর সঙ্গে তাদের ছেলের বিয়ে হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিয়ের আগে কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কার্য সম্পন্ন হয়।
পরে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়। কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়।
রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, 'আমার ভাগনের সঙ্গে বাসর রাত থেকে ওই মেয়ের মনোমালিন্য হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর বাড়িতে ফিরে গেলে আর আসেনি, মেয়েটির পরিবারও আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।’
তিনি আরও জানান, এর প্রায় একমাস পর গত ২ জুলাই রাতে তার ভাগনে রুমনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরেরদিন থানায় গিয়ে জানতে পারেন, একটি ধর্ষণ মামলায় তার ভাগনেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ২ জুলাই থানায় ওই মামলাটি করেন জহুরন খাতুন নামে এক নারী। তিনি বিয়ে হওয়া কিশোরীর দাদি।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টায় বাড়ির পাশ থেকে নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরের দিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ওই কিশোরী ও বাদী জহুরন খাতুনের সঙ্গে। তারা দাবি করেন, কোনো বিয়ে হয়নি। তবে, বিয়ের ছবি ও ভিডিও বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতিকে নিয়ে থানায় আসে এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের চিকিৎসার ছাড়পত্র দেখান। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
তবে ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে ওসি দাবি করেন। তিনি বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিয়ের নিবন্ধনের কোনো সুযোগই নেই। সামাজিক বিয়ে আইনগত স্বতঃসিদ্ধ নয়। এছাড়া কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে সেই ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিয়ে থাকি। এক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে।
ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, 'আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতি অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর তাদের সংসার হয়েছে। তবে আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। ছেলেটির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে- যা আসলেই অমানবিক।’
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটা ব্যবহার করছেন। এখানে কোনো বিয়ে নিবন্ধক (কাজী) যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গায়ে হলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয়েছিলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় রীতিতে পড়ানো হয় বিয়ে। অথচ বিয়েই হয়নি বলে দাবি করেন কনে ও তার পরিবার। উল্টো অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন বরের বিরুদ্ধে। এখন এই মামলায় রুমন খন্দকার নামের ওই যুবক কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায়৷ ওই যুবক উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রী। গত দেড় মাস যাবৎ ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ।
ছেলের পরিবারের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতে ২২ মে ওই কিশোরীর সঙ্গে তাদের ছেলের বিয়ে হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিয়ের আগে কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কার্য সম্পন্ন হয়।
পরে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়। কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়।
রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, 'আমার ভাগনের সঙ্গে বাসর রাত থেকে ওই মেয়ের মনোমালিন্য হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর বাড়িতে ফিরে গেলে আর আসেনি, মেয়েটির পরিবারও আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।’
তিনি আরও জানান, এর প্রায় একমাস পর গত ২ জুলাই রাতে তার ভাগনে রুমনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরেরদিন থানায় গিয়ে জানতে পারেন, একটি ধর্ষণ মামলায় তার ভাগনেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ২ জুলাই থানায় ওই মামলাটি করেন জহুরন খাতুন নামে এক নারী। তিনি বিয়ে হওয়া কিশোরীর দাদি।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টায় বাড়ির পাশ থেকে নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরের দিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ওই কিশোরী ও বাদী জহুরন খাতুনের সঙ্গে। তারা দাবি করেন, কোনো বিয়ে হয়নি। তবে, বিয়ের ছবি ও ভিডিও বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতিকে নিয়ে থানায় আসে এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের চিকিৎসার ছাড়পত্র দেখান। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
তবে ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে ওসি দাবি করেন। তিনি বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিয়ের নিবন্ধনের কোনো সুযোগই নেই। সামাজিক বিয়ে আইনগত স্বতঃসিদ্ধ নয়। এছাড়া কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে সেই ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিয়ে থাকি। এক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে।
ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, 'আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতি অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর তাদের সংসার হয়েছে। তবে আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। ছেলেটির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে- যা আসলেই অমানবিক।’
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটা ব্যবহার করছেন। এখানে কোনো বিয়ে নিবন্ধক (কাজী) যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিয়ে অস্বীকার কনেপক্ষের, ধর্ষণ মামলায় কারাগারে যুবক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

গায়ে হলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয়েছিলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় রীতিতে পড়ানো হয় বিয়ে। অথচ বিয়েই হয়নি বলে দাবি করেন কনে ও তার পরিবার। উল্টো অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন বরের বিরুদ্ধে। এখন এই মামলায় রুমন খন্দকার নামের ওই যুবক কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায়৷ ওই যুবক উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রী। গত দেড় মাস যাবৎ ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ।
ছেলের পরিবারের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতে ২২ মে ওই কিশোরীর সঙ্গে তাদের ছেলের বিয়ে হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিয়ের আগে কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কার্য সম্পন্ন হয়।
পরে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়। কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়।
রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, 'আমার ভাগনের সঙ্গে বাসর রাত থেকে ওই মেয়ের মনোমালিন্য হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর বাড়িতে ফিরে গেলে আর আসেনি, মেয়েটির পরিবারও আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।’
তিনি আরও জানান, এর প্রায় একমাস পর গত ২ জুলাই রাতে তার ভাগনে রুমনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরেরদিন থানায় গিয়ে জানতে পারেন, একটি ধর্ষণ মামলায় তার ভাগনেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ২ জুলাই থানায় ওই মামলাটি করেন জহুরন খাতুন নামে এক নারী। তিনি বিয়ে হওয়া কিশোরীর দাদি।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টায় বাড়ির পাশ থেকে নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরের দিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ওই কিশোরী ও বাদী জহুরন খাতুনের সঙ্গে। তারা দাবি করেন, কোনো বিয়ে হয়নি। তবে, বিয়ের ছবি ও ভিডিও বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতিকে নিয়ে থানায় আসে এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের চিকিৎসার ছাড়পত্র দেখান। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
তবে ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে ওসি দাবি করেন। তিনি বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিয়ের নিবন্ধনের কোনো সুযোগই নেই। সামাজিক বিয়ে আইনগত স্বতঃসিদ্ধ নয়। এছাড়া কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে সেই ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিয়ে থাকি। এক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে।
ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, 'আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতি অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর তাদের সংসার হয়েছে। তবে আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। ছেলেটির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে- যা আসলেই অমানবিক।’
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটা ব্যবহার করছেন। এখানে কোনো বিয়ে নিবন্ধক (কাজী) যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









