শিরোনাম

রাস্তায় ছটফট করছিলো শিশু, চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে নির্যাতন

সাভার সংবাদদাতা
রাস্তায় ছটফট করছিলো শিশু, চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভার উপজেলায় ৭ বছরের এক শিশুকে নির্যাতন ও দুই চোখে ‘সুপার গ্লু’ লাগিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বংশী নদীর তীরে একটি পার্কের কাছ থেকে পথচারীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আহত শিশু মো. ওয়াহেদ সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় মা ও সৎ বাবার সঙ্গে বসবাস করে।

সাভার মডেল থানার এসআই মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, শিশুটিকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তা ধামরাই থানার অধীনে পড়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বংশী নদীর তীরে একটি পার্কের কাছে রাস্তার পাশে শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে এগিয়ে যান পথচারীরা। এ সময় শিশুটি আর্তনাদ করে বলছিলো, আমাকে বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না। শিশুটির সারা শরীরে মারধরের চিহ্ন এবং তার দুই চোখের পাতা আঠা (সুপার গ্লু) দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। চোখ দিয়ে রক্ত ও পানি ঝরছিলো।

পথচারী শিরিনা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটির আর্তনাদ শুনে আমি তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি জানায়, তার আপন বোন জামাই রাজ্জাক তাকে মারধর করেছে। এক পর্যায়ে তার দুই চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে কী কারণে এ নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শিশুটির রিকশা চালক সৎ বাবা নাজিমুদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি শিশুটিসহ তার মাকে প্রায় ৬ মাস আগে বিয়ে করি। সাত বছরের এ বাচ্চাটিকে নিজের সন্তানের মতোই দেখতেছি। সকালে জানতে পারি শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক তাকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে নির্যাতন করে চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছে।

শিশুটির মা সাহিদা বেগম বলেন, আমি গার্মেন্টসে চাকরি করায় সারাদিন বাড়িতে থাকি না। হঠাৎ জানতে পারি, আমার মেয়ে জামাই রাজ্জাক ছোট ছেলেকে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছে। এখন তার অবস্থা খুব খারাপ।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মো. তৌহিদ আল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার দুই চোখে সুপার গ্লু দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

/এসআর/