চট্টগ্রামে রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

চট্টগ্রামে রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে ৩ শিশুসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য সবাইকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩১ মিনিটে নগরীর হালিশহর এইচ ব্লকে হালিম মঞ্জিল নামের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাখাওয়াত (৪৬), শিপন (৩২), সুমন (৪০), রানী (৪০), পাখি (৩৫), ), শাওন (১৭), উম্মে আয়ন (১০), আনাস (৭) ও আয়েশা (৪)। তাদের মধ্যে রানী, পাখি ও সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া শিপনের ৮০, সুমন ও শাওনের ৪৫, আইমান ও আনাছের ২৫, আয়েশার শরীরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন সবাই।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে হালিশহর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
হালিশহর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের পর দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, আহত সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাদের শরীরের ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
পরে দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ জনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান বার্ন ইউনিটের রেজিস্ট্রার আশফাকুল আতিক।
প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়
আলমগীর হোসেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।
এছাড়া বিস্ফোরণে ছয়তলা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা ভেঙে গেছে।
সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা ভবনটির নিচ তলায় গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। অন্য তলাগুলোতে চারটি করে ইউনিট আছে। তৃতীয় তলায় যে ফ্ল্যাটটিতে আগুন ধরে যায় সেটি ছাড়াও ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। তৃতীয় তলায় লিফটের দরজা ভেঙে গেছে আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় লিফটের দরজা বাঁকা হয়ে গেছে।

তৃতীয় তলায় সাখাওয়াত হোসেনের যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেটি ছাড়াও আরও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে সেখানে। একটিতে পরিবার নিয়ে থাকেন জসীম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তার ফ্ল্যাটটি সাখাওয়াতের ফ্ল্যাটের ঠিক মুখোমুখি।
পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন শামীমা আক্তার তমা নামে একজন। সেখানে তিনি একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করেন। অপর ফ্ল্যাটটির বাসিন্দারা সবাই ঢাকায় থাকার করার কারণে সেটি ছিল তালাবদ্ধ।
ওই তলার প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ভেঙে যাওয়াসহ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জসীম উদ্দিন বলেন, সেহেরির জন্য ভোরে আমরা উঠেছিলাম। আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বিকট শব্দে আমাদের ঘরের মূল দরজাসহ জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে যায়। এমনকি ঘরের সিলিং ফ্যান বাঁকা হয়ে যায় ও ফ্রিজ পড়ে যায়।
বিউটি পার্লারের কর্ণধার শামীমা আক্তার তমা জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। এরপর তিনি দেখেন ঘরের দরজা উড়ে গিয়ে তার পার্লারের আলমারি ও শোকেসের গ্লাস ভেঙেছে।
ভবনটির মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দিদারুল আলম, তবে তার পরিবার থাকে হালিশহর জি ব্লকে।
দিদারুল বলেন, ১৬ বছর আগে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে মোট ২২টি ইউনিট আছে।
দিদারুলের দাবি, ভবনের গ্যাস লাইনে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না। সব সময় তারা সেগুলো মেরামত করে রাখেন।
ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. সম্রাট বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ বিকট ছিল। মনে হচ্ছে ভবনটি ভেঙে পড়ে যাবে।
তিনি বলেন, মূল ফটকের পকেট গেট খুলে সেহরি খেয়ে শুতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের পর দেখি উপরের থেকে ওই ঘরের লোকজন নেমে আসছে। তাদের সবাই দগ্ধ হয়েছেন।
দেড় বছর আগে হালিশহর এলাকার গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। সেখানে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান এবং গ্যারেজের এক কর্মচারীসহ পাঁচজন থাকতেন।

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে ৩ শিশুসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য সবাইকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩১ মিনিটে নগরীর হালিশহর এইচ ব্লকে হালিম মঞ্জিল নামের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাখাওয়াত (৪৬), শিপন (৩২), সুমন (৪০), রানী (৪০), পাখি (৩৫), ), শাওন (১৭), উম্মে আয়ন (১০), আনাস (৭) ও আয়েশা (৪)। তাদের মধ্যে রানী, পাখি ও সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া শিপনের ৮০, সুমন ও শাওনের ৪৫, আইমান ও আনাছের ২৫, আয়েশার শরীরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন সবাই।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে হালিশহর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
হালিশহর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের পর দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, আহত সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাদের শরীরের ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
পরে দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ জনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান বার্ন ইউনিটের রেজিস্ট্রার আশফাকুল আতিক।
প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়
আলমগীর হোসেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।
এছাড়া বিস্ফোরণে ছয়তলা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা ভেঙে গেছে।
সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা ভবনটির নিচ তলায় গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। অন্য তলাগুলোতে চারটি করে ইউনিট আছে। তৃতীয় তলায় যে ফ্ল্যাটটিতে আগুন ধরে যায় সেটি ছাড়াও ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। তৃতীয় তলায় লিফটের দরজা ভেঙে গেছে আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় লিফটের দরজা বাঁকা হয়ে গেছে।

তৃতীয় তলায় সাখাওয়াত হোসেনের যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেটি ছাড়াও আরও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে সেখানে। একটিতে পরিবার নিয়ে থাকেন জসীম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তার ফ্ল্যাটটি সাখাওয়াতের ফ্ল্যাটের ঠিক মুখোমুখি।
পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন শামীমা আক্তার তমা নামে একজন। সেখানে তিনি একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করেন। অপর ফ্ল্যাটটির বাসিন্দারা সবাই ঢাকায় থাকার করার কারণে সেটি ছিল তালাবদ্ধ।
ওই তলার প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ভেঙে যাওয়াসহ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জসীম উদ্দিন বলেন, সেহেরির জন্য ভোরে আমরা উঠেছিলাম। আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বিকট শব্দে আমাদের ঘরের মূল দরজাসহ জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে যায়। এমনকি ঘরের সিলিং ফ্যান বাঁকা হয়ে যায় ও ফ্রিজ পড়ে যায়।
বিউটি পার্লারের কর্ণধার শামীমা আক্তার তমা জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। এরপর তিনি দেখেন ঘরের দরজা উড়ে গিয়ে তার পার্লারের আলমারি ও শোকেসের গ্লাস ভেঙেছে।
ভবনটির মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দিদারুল আলম, তবে তার পরিবার থাকে হালিশহর জি ব্লকে।
দিদারুল বলেন, ১৬ বছর আগে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে মোট ২২টি ইউনিট আছে।
দিদারুলের দাবি, ভবনের গ্যাস লাইনে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না। সব সময় তারা সেগুলো মেরামত করে রাখেন।
ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. সম্রাট বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ বিকট ছিল। মনে হচ্ছে ভবনটি ভেঙে পড়ে যাবে।
তিনি বলেন, মূল ফটকের পকেট গেট খুলে সেহরি খেয়ে শুতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের পর দেখি উপরের থেকে ওই ঘরের লোকজন নেমে আসছে। তাদের সবাই দগ্ধ হয়েছেন।
দেড় বছর আগে হালিশহর এলাকার গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। সেখানে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান এবং গ্যারেজের এক কর্মচারীসহ পাঁচজন থাকতেন।

চট্টগ্রামে রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে ৩ শিশুসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য সবাইকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩১ মিনিটে নগরীর হালিশহর এইচ ব্লকে হালিম মঞ্জিল নামের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাখাওয়াত (৪৬), শিপন (৩২), সুমন (৪০), রানী (৪০), পাখি (৩৫), ), শাওন (১৭), উম্মে আয়ন (১০), আনাস (৭) ও আয়েশা (৪)। তাদের মধ্যে রানী, পাখি ও সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া শিপনের ৮০, সুমন ও শাওনের ৪৫, আইমান ও আনাছের ২৫, আয়েশার শরীরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন সবাই।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে হালিশহর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
হালিশহর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের পর দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, আহত সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাদের শরীরের ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
পরে দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ জনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান বার্ন ইউনিটের রেজিস্ট্রার আশফাকুল আতিক।
প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়
আলমগীর হোসেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।
এছাড়া বিস্ফোরণে ছয়তলা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা ভেঙে গেছে।
সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা ভবনটির নিচ তলায় গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। অন্য তলাগুলোতে চারটি করে ইউনিট আছে। তৃতীয় তলায় যে ফ্ল্যাটটিতে আগুন ধরে যায় সেটি ছাড়াও ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। তৃতীয় তলায় লিফটের দরজা ভেঙে গেছে আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় লিফটের দরজা বাঁকা হয়ে গেছে।

তৃতীয় তলায় সাখাওয়াত হোসেনের যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেটি ছাড়াও আরও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে সেখানে। একটিতে পরিবার নিয়ে থাকেন জসীম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তার ফ্ল্যাটটি সাখাওয়াতের ফ্ল্যাটের ঠিক মুখোমুখি।
পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন শামীমা আক্তার তমা নামে একজন। সেখানে তিনি একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করেন। অপর ফ্ল্যাটটির বাসিন্দারা সবাই ঢাকায় থাকার করার কারণে সেটি ছিল তালাবদ্ধ।
ওই তলার প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ভেঙে যাওয়াসহ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জসীম উদ্দিন বলেন, সেহেরির জন্য ভোরে আমরা উঠেছিলাম। আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বিকট শব্দে আমাদের ঘরের মূল দরজাসহ জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে যায়। এমনকি ঘরের সিলিং ফ্যান বাঁকা হয়ে যায় ও ফ্রিজ পড়ে যায়।
বিউটি পার্লারের কর্ণধার শামীমা আক্তার তমা জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। এরপর তিনি দেখেন ঘরের দরজা উড়ে গিয়ে তার পার্লারের আলমারি ও শোকেসের গ্লাস ভেঙেছে।
ভবনটির মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দিদারুল আলম, তবে তার পরিবার থাকে হালিশহর জি ব্লকে।
দিদারুল বলেন, ১৬ বছর আগে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে মোট ২২টি ইউনিট আছে।
দিদারুলের দাবি, ভবনের গ্যাস লাইনে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না। সব সময় তারা সেগুলো মেরামত করে রাখেন।
ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. সম্রাট বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ বিকট ছিল। মনে হচ্ছে ভবনটি ভেঙে পড়ে যাবে।
তিনি বলেন, মূল ফটকের পকেট গেট খুলে সেহরি খেয়ে শুতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের পর দেখি উপরের থেকে ওই ঘরের লোকজন নেমে আসছে। তাদের সবাই দগ্ধ হয়েছেন।
দেড় বছর আগে হালিশহর এলাকার গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। সেখানে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান এবং গ্যারেজের এক কর্মচারীসহ পাঁচজন থাকতেন।



