শিরোনাম

ডিবি হেফাজতে আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি ‘আত্মহত্যা’

বগুড়া সংবাদদাতা
বগুড়া সংবাদদাতা
ডিবি হেফাজতে আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি ‘আত্মহত্যা’
আসাদুজ্জামান আসাদ।

বগুড়ায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় ডিবি হেফাজতে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগেই হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গির ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত আসাদুজ্জামান আসাদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি একই উপজেলার অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নান মোল্লা (৪৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।

এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল বগুড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করেছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে সিএনজি অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে নিহত আসাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ডিবি বগুড়ার (ওসি) মো. ইকবাল বাহার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসাদ জানিয়েছিল, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর সে আরও দুজনকে নিয়ে যাত্রী সেজে ওই অটোরিকশা ভাড়া করে। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মরদেহ একটি বিলে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁ যায়। পরে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সেখানেই অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

নিহত মান্নান মোল্লা গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে। এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় মামলার করা হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, আজ (রবিবার) বেলা ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ অবস্থায় সকাল ১০টা ১১ মিনিটের দিকে সে ডিবির হাজতখানার টয়লেটে প্রবেশ করে। প্রায় ১০ মিনিট পরও বের না হলে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে। এরপর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে বাথরুমের টয়লেটে প্রবেশ করে।

ডিবির ওসি মো. ইকবাল বাহার বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকের কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

/এফআর/