শিরোনাম

৮ বছরেও কাজ শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

বরিশাল সংবাদদাতা
বরিশাল সংবাদদাতা
৮ বছরেও কাজ শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ও চন্দ্রমোহন এলাকায় নির্মাণাধীন নেহালগঞ্জ সেতু

বরিশালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো বাকেরগঞ্জের নেহালগঞ্জ সেতু। দীর্ঘ ৮ বছরেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। একই সময়ে শুরু হওয়া গোমা সেতু দিয়ে ইতোমধ্যে যানবাহন চলাচল শুরু করেছে। তবে নেহালগঞ্জ সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মাণাধীন এ সেতু বরিশাল, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, বাউফল, দুমকি, ও ভোলা অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে সংযোগ সড়কের কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। তবে মাঝ নদীতে স্প্যান নির্মাণ এবং কিছু জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পুরো প্রকল্প এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প শুরুর সময় কয়েক বছরের মধ্যেই সেতুটি চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে মানুষের প্রত্যাশা ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে অনুমোদন পাওয়া এ সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ মিটার। প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। পরবর্তীতে নকশা সংশোধন, নির্মাণ বিলম্ব এবং অতিরিক্ত কাজের কারণে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ কোটিরও বেশি টাকায় পৌঁছেছে। নির্মাণ কাজে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় নৌযান চলাচল সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতা। সেতুর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি ওঠার পর কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে হয়। পরে নতুন করে নকশা প্রণয়ন করা হয় এবং মাঝখানের অংশে ইস্পাত কাঠামো সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর সময় ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে সেতুর অধিকাংশ পিয়ার, স্প্যান এবং অন্যান্য কাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হলেও শেষ ধাপের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম হাওলাদার নামের একজন বলেছেন, সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়ও। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকলে প্রকল্পটি অনেক আগেই শেষ করা সম্ভব হতো।

বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর কাজ এখন চলমান রয়েছে।

/এসআর/