শিরোনাম

বনানীতে টাস্কফোর্সের ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বনানীতে টাস্কফোর্সের ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
রাজধানীর বনানী এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ অন্যরা।

রাজধানীর বনানী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স। শুক্রবার (২৬ জুন) বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংসে বিশেষ এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে সতর্ক করার পরও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এতে ভবন মালিককে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযানকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবন বাঁচানো এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা। সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিয়মিত অভিযান চললেও এটি সফল করতে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা, পুরোনো টায়ার বা যেকোনো পাত্রে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে। প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

যত্রতত্র ময়লা না ফেলারও আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এখন সময়ের দাবি। যত্রতত্র ময়লা না ফেলে এবং সচেতনতার মাধ্যমে এই লড়াইয়ে নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী ডিএনসিসির আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো থেকে বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করে নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে জমে থাকা পানিতে লার্ভা ধ্বংসের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে নির্মাণাধীন ও আবাসিক ভবনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সদস্যদের নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

অভিযানকালে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তৃগণ উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/