মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী
আয়নাল হোসেন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সর্বত্রই মশার উপদ্রব ব্যাপক বেড়েছে। মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও মশক নিধনে কার্যকর কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ছে না বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। তবে সরকারি দপ্তরগুলো বলছে মশক নিধন তাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা, বিমানবন্দর, উত্তরা, মিরপুর, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, শাহবাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, মতিঝিল, কমলাপুর, খিলগাঁও, বাসাবো, বনশ্রী, আবতাবনগর, পুরান ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মৌলভীবাজার, মিটফোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি অনেক মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। যদিও সম্প্রতি দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা নতুন হওয়ায় সব কিছু বুঝে উঠতে সময় লাগছে হয়তো
জাভেদ জাহান পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম সদস্যসচিব
পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব জাভেদ জাহান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সম্প্রতি অনেক মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। যদিও সম্প্রতি দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা নতুন হওয়ায় সবকিছু বুঝে উঠতে সময় লাগছে।’
মশার ওষুধ কার্যকর হচ্ছে কিনা–তা নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রশ্ন তুলেছে। এজন্য মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা তৃতীয় কোনো এক্সপার্ট ল্যাবের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সভায় আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে অব্যবহৃত মেয়াদউত্তীর্ণ কীটনাশক যথাযথভাবে ডিসপোসাল করতে হবে। যাতে তা পরিবেশে মিশে না যায়। এছাড়া কীটনাশক সংরক্ষণাগারের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। যাতে ডেঙ্গু রোগের জন্য দায়ী এডিস মশার পাশাপাশি উপদ্রবকারী কিউলেক্স মশার বিস্তার ও উপদ্রব হতে জনগণ রক্ষা পায়। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া মশক নিধনের কাজে নিয়োজিত স্প্রে ম্যানসহ সব কর্মীদের নিয়মিত রিফ্রেসার্স কোর্সের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মশার ওষুধ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমাদের ওষুধ নিয়মিত পরীক্ষা–নিরিক্ষা করেই ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন নর্দমায় ময়লা–আবর্জনা থাকায় সেখানে মশার জন্ম হচ্ছে। এগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিধি অনুযায়ী লোকবল নেই।’
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশক নিধনে দায়িত্ব পালন করে ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর। এছাড়া দুই সিটিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্পে ম্যানসহ বিভিন্ন লোকজন কর্মরত রয়েছে। মশক নিবারণী দপ্তরে সর্বমোট ক্রু পদ রয়েছে ৩৪০টি। এরমধ্যে ১৬৪টি পদ শূন্য। অর্থাৎ ৪৮ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া পোকামাড়ক ধরার কাজে নিয়োজিত ছয়টি পদও খালি রয়েছে। সব মিলে এই দপ্তরে ৩৯৬টি পদের মধ্যে ২০২ টি বা ৫১ শতাংশ পদ শূন্য পড়ে আছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ মশক নিধন কার্যক্রম রুটি অনুযায়ী চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীতে যেসব নর্দমা, ডোবা রয়েছে সেখানে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির কারণে কিউলেক্স মশার কিছুটা কমেছে। তবে এডিস মশা বাড়বে। এজন্য যেসব পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেগুলো অপসারণ করতে হবে
কবিরুল বাশার অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (কীটতত্ববিদ বিভাগ)
মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ববিদ বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘রাজধানীতে যেসব নর্দমা, ডোবা রয়েছে সেখানে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির কারণে কিউলেক্স মশার কিছুটা কমেছে। তবে এডিস মশা বাড়বে। এজন্য যেসব পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেগুলো অপসারণ করতে হবে।’
রাজধানীসহ দেশব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কমিটির সভা নিয়মিত করা, লিপলেট বিতরণ ও র্যালি করা, নিয়মিত পরিস্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো, দুই সিটিতে নিয়মিত ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ওষুধ পরীক্ষা এবয়ং সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ওষুধ পরীক্ষা এবং তাদের সভা জরুরীভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন যে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে তার ২৮ শতংশ ঢাকার এবং ৭২ শতাংশ ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় লার্ভিসাইডিং ও এডাল্টিসাইডিং প্রয়োগসহ নিয়মিত মনিটরিং এবং সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সর্বত্রই মশার উপদ্রব ব্যাপক বেড়েছে। মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও মশক নিধনে কার্যকর কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ছে না বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। তবে সরকারি দপ্তরগুলো বলছে মশক নিধন তাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা, বিমানবন্দর, উত্তরা, মিরপুর, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, শাহবাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, মতিঝিল, কমলাপুর, খিলগাঁও, বাসাবো, বনশ্রী, আবতাবনগর, পুরান ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মৌলভীবাজার, মিটফোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি অনেক মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। যদিও সম্প্রতি দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা নতুন হওয়ায় সব কিছু বুঝে উঠতে সময় লাগছে হয়তো
জাভেদ জাহান পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম সদস্যসচিব
পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব জাভেদ জাহান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সম্প্রতি অনেক মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। যদিও সম্প্রতি দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা নতুন হওয়ায় সবকিছু বুঝে উঠতে সময় লাগছে।’
মশার ওষুধ কার্যকর হচ্ছে কিনা–তা নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রশ্ন তুলেছে। এজন্য মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা তৃতীয় কোনো এক্সপার্ট ল্যাবের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সভায় আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে অব্যবহৃত মেয়াদউত্তীর্ণ কীটনাশক যথাযথভাবে ডিসপোসাল করতে হবে। যাতে তা পরিবেশে মিশে না যায়। এছাড়া কীটনাশক সংরক্ষণাগারের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। যাতে ডেঙ্গু রোগের জন্য দায়ী এডিস মশার পাশাপাশি উপদ্রবকারী কিউলেক্স মশার বিস্তার ও উপদ্রব হতে জনগণ রক্ষা পায়। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া মশক নিধনের কাজে নিয়োজিত স্প্রে ম্যানসহ সব কর্মীদের নিয়মিত রিফ্রেসার্স কোর্সের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মশার ওষুধ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমাদের ওষুধ নিয়মিত পরীক্ষা–নিরিক্ষা করেই ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন নর্দমায় ময়লা–আবর্জনা থাকায় সেখানে মশার জন্ম হচ্ছে। এগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিধি অনুযায়ী লোকবল নেই।’
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশক নিধনে দায়িত্ব পালন করে ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর। এছাড়া দুই সিটিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্পে ম্যানসহ বিভিন্ন লোকজন কর্মরত রয়েছে। মশক নিবারণী দপ্তরে সর্বমোট ক্রু পদ রয়েছে ৩৪০টি। এরমধ্যে ১৬৪টি পদ শূন্য। অর্থাৎ ৪৮ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া পোকামাড়ক ধরার কাজে নিয়োজিত ছয়টি পদও খালি রয়েছে। সব মিলে এই দপ্তরে ৩৯৬টি পদের মধ্যে ২০২ টি বা ৫১ শতাংশ পদ শূন্য পড়ে আছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ মশক নিধন কার্যক্রম রুটি অনুযায়ী চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীতে যেসব নর্দমা, ডোবা রয়েছে সেখানে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির কারণে কিউলেক্স মশার কিছুটা কমেছে। তবে এডিস মশা বাড়বে। এজন্য যেসব পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেগুলো অপসারণ করতে হবে
কবিরুল বাশার অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (কীটতত্ববিদ বিভাগ)
মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ববিদ বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘রাজধানীতে যেসব নর্দমা, ডোবা রয়েছে সেখানে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির কারণে কিউলেক্স মশার কিছুটা কমেছে। তবে এডিস মশা বাড়বে। এজন্য যেসব পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেগুলো অপসারণ করতে হবে।’
রাজধানীসহ দেশব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কমিটির সভা নিয়মিত করা, লিপলেট বিতরণ ও র্যালি করা, নিয়মিত পরিস্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো, দুই সিটিতে নিয়মিত ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ওষুধ পরীক্ষা এবয়ং সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ওষুধ পরীক্ষা এবং তাদের সভা জরুরীভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন যে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে তার ২৮ শতংশ ঢাকার এবং ৭২ শতাংশ ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় লার্ভিসাইডিং ও এডাল্টিসাইডিং প্রয়োগসহ নিয়মিত মনিটরিং এবং সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী
আয়নাল হোসেন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সর্বত্রই মশার উপদ্রব ব্যাপক বেড়েছে। মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও মশক নিধনে কার্যকর কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ছে না বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। তবে সরকারি দপ্তরগুলো বলছে মশক নিধন তাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা, বিমানবন্দর, উত্তরা, মিরপুর, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, শাহবাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, মতিঝিল, কমলাপুর, খিলগাঁও, বাসাবো, বনশ্রী, আবতাবনগর, পুরান ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মৌলভীবাজার, মিটফোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি অনেক মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। যদিও সম্প্রতি দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা নতুন হওয়ায় সব কিছু বুঝে উঠতে সময় লাগছে হয়তো
জাভেদ জাহান পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম সদস্যসচিব
পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব জাভেদ জাহান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সম্প্রতি অনেক মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। যদিও সম্প্রতি দুই সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা নতুন হওয়ায় সবকিছু বুঝে উঠতে সময় লাগছে।’
মশার ওষুধ কার্যকর হচ্ছে কিনা–তা নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রশ্ন তুলেছে। এজন্য মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা তৃতীয় কোনো এক্সপার্ট ল্যাবের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সভায় আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে অব্যবহৃত মেয়াদউত্তীর্ণ কীটনাশক যথাযথভাবে ডিসপোসাল করতে হবে। যাতে তা পরিবেশে মিশে না যায়। এছাড়া কীটনাশক সংরক্ষণাগারের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। যাতে ডেঙ্গু রোগের জন্য দায়ী এডিস মশার পাশাপাশি উপদ্রবকারী কিউলেক্স মশার বিস্তার ও উপদ্রব হতে জনগণ রক্ষা পায়। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া মশক নিধনের কাজে নিয়োজিত স্প্রে ম্যানসহ সব কর্মীদের নিয়মিত রিফ্রেসার্স কোর্সের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মশার ওষুধ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমাদের ওষুধ নিয়মিত পরীক্ষা–নিরিক্ষা করেই ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন নর্দমায় ময়লা–আবর্জনা থাকায় সেখানে মশার জন্ম হচ্ছে। এগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিধি অনুযায়ী লোকবল নেই।’
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশক নিধনে দায়িত্ব পালন করে ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর। এছাড়া দুই সিটিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্পে ম্যানসহ বিভিন্ন লোকজন কর্মরত রয়েছে। মশক নিবারণী দপ্তরে সর্বমোট ক্রু পদ রয়েছে ৩৪০টি। এরমধ্যে ১৬৪টি পদ শূন্য। অর্থাৎ ৪৮ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া পোকামাড়ক ধরার কাজে নিয়োজিত ছয়টি পদও খালি রয়েছে। সব মিলে এই দপ্তরে ৩৯৬টি পদের মধ্যে ২০২ টি বা ৫১ শতাংশ পদ শূন্য পড়ে আছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ মশক নিধন কার্যক্রম রুটি অনুযায়ী চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীতে যেসব নর্দমা, ডোবা রয়েছে সেখানে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির কারণে কিউলেক্স মশার কিছুটা কমেছে। তবে এডিস মশা বাড়বে। এজন্য যেসব পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেগুলো অপসারণ করতে হবে
কবিরুল বাশার অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (কীটতত্ববিদ বিভাগ)
মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ববিদ বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘রাজধানীতে যেসব নর্দমা, ডোবা রয়েছে সেখানে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির কারণে কিউলেক্স মশার কিছুটা কমেছে। তবে এডিস মশা বাড়বে। এজন্য যেসব পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেগুলো অপসারণ করতে হবে।’
রাজধানীসহ দেশব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কমিটির সভা নিয়মিত করা, লিপলেট বিতরণ ও র্যালি করা, নিয়মিত পরিস্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো, দুই সিটিতে নিয়মিত ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ওষুধ পরীক্ষা এবয়ং সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ওষুধ পরীক্ষা এবং তাদের সভা জরুরীভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন যে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে তার ২৮ শতংশ ঢাকার এবং ৭২ শতাংশ ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় লার্ভিসাইডিং ও এডাল্টিসাইডিং প্রয়োগসহ নিয়মিত মনিটরিং এবং সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




