শিরোনাম

নবাব সলিমুল্লাহর স্মরণে ডাকসুর স্মারকগ্রন্থ ‘ইশারাত মঞ্জিল’

ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবি সংবাদদাতা
নবাব সলিমুল্লাহর স্মরণে ডাকসুর স্মারকগ্রন্থ ‘ইশারাত মঞ্জিল’
নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারকগ্রন্থ ‘ইশারাত মঞ্জিল’ প্রকাশ করেছে ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারকগ্রন্থ ‘ইশারাত মঞ্জিল’ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এম এম আল মিনহাজ, সদস্য সাবিকুন নাহার তামান্নাসহ হল সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জাতি হিসেবে নিজেদের ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবদান স্মরণে বাংলাদেশ বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব স্যার সলিমুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তার ৬০০ একর জমি ওয়াক্ফ করেছিলেন। তার মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে যাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তাদের ইতিহাস ও অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ডাকসুর উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ইশারাত মঞ্জিল’ গ্রন্থটি ডাকসু সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে গ্রন্থটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, নওয়াব সলিমুল্লাহর অবদান ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ‘ইশরাত মঞ্জিল’ প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে নওয়াব সলিমুল্লাহ ও তার সমসাময়িক মুসলিম নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে নওয়াব সলিমুল্লাহর অবদান নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তেমন কাজ হয়নি। ডাকসুর উদ্যোগে প্রকাশিত বইটি তার অবদানের স্মারক হিসেবে টিকে থাকবে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ডাকসু মেয়েদের জিমনেসিয়াম, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও হলের রিডিং রুম উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।

তরুণ প্রজন্ম নওয়াব সলিমুল্লাহর সংগ্রাম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই বুঝতে পারলেই এ উদ্যোগ সফল হবে বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ। শিক্ষার্থীদের বইটি সংগ্রহ করে পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির সম্পাদক ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মুসাদ্দিক আলী বলেন, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান রয়েছে। তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান স্মরণে ডাকসুর এই উদ্যোগ একটি ছোট প্রচেষ্টা। তার মতে, নবাব সলিমুল্লাহর অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও বেশি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণ এবং হলটির উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও নবাব সলিমুল্লাহর অবদান শিক্ষার্থীদের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ও নবাব আলী চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের অবদান সম্পর্কে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনেকেই যথেষ্ট জানেন না। তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘ইশারাত মঞ্জিল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এম এম আল মিনহাজ বলেন, ‘ইশরাত মঞ্জিল’ স্মারকগ্রন্থটি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গণরুম ও গেস্টরুমকেন্দ্রিক নির্যাতনের ঘটনাগুলোও নথিবদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অতীতের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে।

তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসুকে ২৫ লাখ টাকা ফান্ড দিলেও বিভিন্ন উদ্যোগে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব বাস, মেয়েদের জিমনেসিয়াম, মেডিক্যাল সেন্টারের সংস্কার এবং ১৮টি হলে ছারপোকা নিধন কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।

ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে মিনহাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মতামত প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ডাকসুর কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।

ডাকসুর সদস্য সাবিকুন নাহার তামান্না বলেন, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তার নিজস্ব সম্পত্তি থেকে ৬০০ একর জমি দান করেছিলেন, যা তার শিক্ষার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার প্রমাণ।

তিনি বলেন, ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হলেও নানা প্রতিকূলতার কারণে ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান তাই বিশেষভাবে স্মরণীয়।

/এমআর/