পলাশীর যুদ্ধ পরনির্ভরশীলতা সম্পর্কে সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়: জাবি উপাচার্য

পলাশীর যুদ্ধ পরনির্ভরশীলতা সম্পর্কে সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়: জাবি উপাচার্য
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাস আমাদের সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দেয়, তা হলো পরনির্ভরশীলতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা। তিনি বলেন, মীর জাফর, জগতশেঠ ও রায়দুর্লভের মতো তৎকালীন সুবিধাভোগী গোষ্ঠী দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে নিজেদের অর্থনৈতিক লাভের জন্য বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। এর ফলে দেশের কোনো কল্যাণ হয়নি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে এ অঞ্চলের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে জাকসু আয়োজিত ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ১৭ বছরেও দেশ একই ধরনের লুণ্ঠনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ আমলে যেমন এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতেও বাংলাদেশের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। তবে এখন আর কোনো রাষ্ট্র সরাসরি সামরিক শক্তি দিয়ে অন্য দেশ দখল করে না। বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ঋণ এবং তথাকথিত উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে ‘নব্য-উপনিবেশবাদ’ ও পুঁজির আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন উপদলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এ ধরনের কৌশল সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের শক্তিগুলোর মধ্যে যে বিভক্তি ও বিভিন্ন ব্যানারে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই অনৈক্যের মাধ্যমে আমরা কি আবারও নতুন কোনো জগতশেঠ বা রায়দুর্লভের উত্থানের সুযোগ তৈরি করছি না?
তিনি বলেন, আদর্শিক ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে দেশের স্বার্থ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে, জাতীয় পর্যায়েও সেই চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বর্তমান সরকার প্রধানের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উপাচার্য আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়েও সমানভাবে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তরুণরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা এবং অর্জিত স্বাধীনতাকে আরও সুদৃঢ় করা।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, অধ্যাপক ড. খোন্দকার লুৎফুল এলাহী এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. সালাহউদ্দিন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাস আমাদের সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দেয়, তা হলো পরনির্ভরশীলতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা। তিনি বলেন, মীর জাফর, জগতশেঠ ও রায়দুর্লভের মতো তৎকালীন সুবিধাভোগী গোষ্ঠী দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে নিজেদের অর্থনৈতিক লাভের জন্য বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। এর ফলে দেশের কোনো কল্যাণ হয়নি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে এ অঞ্চলের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে জাকসু আয়োজিত ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ১৭ বছরেও দেশ একই ধরনের লুণ্ঠনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ আমলে যেমন এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতেও বাংলাদেশের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। তবে এখন আর কোনো রাষ্ট্র সরাসরি সামরিক শক্তি দিয়ে অন্য দেশ দখল করে না। বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ঋণ এবং তথাকথিত উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে ‘নব্য-উপনিবেশবাদ’ ও পুঁজির আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন উপদলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এ ধরনের কৌশল সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের শক্তিগুলোর মধ্যে যে বিভক্তি ও বিভিন্ন ব্যানারে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই অনৈক্যের মাধ্যমে আমরা কি আবারও নতুন কোনো জগতশেঠ বা রায়দুর্লভের উত্থানের সুযোগ তৈরি করছি না?
তিনি বলেন, আদর্শিক ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে দেশের স্বার্থ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে, জাতীয় পর্যায়েও সেই চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বর্তমান সরকার প্রধানের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উপাচার্য আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়েও সমানভাবে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তরুণরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা এবং অর্জিত স্বাধীনতাকে আরও সুদৃঢ় করা।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, অধ্যাপক ড. খোন্দকার লুৎফুল এলাহী এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. সালাহউদ্দিন।

পলাশীর যুদ্ধ পরনির্ভরশীলতা সম্পর্কে সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়: জাবি উপাচার্য
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাস আমাদের সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দেয়, তা হলো পরনির্ভরশীলতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা। তিনি বলেন, মীর জাফর, জগতশেঠ ও রায়দুর্লভের মতো তৎকালীন সুবিধাভোগী গোষ্ঠী দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে নিজেদের অর্থনৈতিক লাভের জন্য বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। এর ফলে দেশের কোনো কল্যাণ হয়নি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে এ অঞ্চলের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে জাকসু আয়োজিত ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ১৭ বছরেও দেশ একই ধরনের লুণ্ঠনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ আমলে যেমন এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতেও বাংলাদেশের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। তবে এখন আর কোনো রাষ্ট্র সরাসরি সামরিক শক্তি দিয়ে অন্য দেশ দখল করে না। বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ঋণ এবং তথাকথিত উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে ‘নব্য-উপনিবেশবাদ’ ও পুঁজির আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন উপদলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এ ধরনের কৌশল সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের শক্তিগুলোর মধ্যে যে বিভক্তি ও বিভিন্ন ব্যানারে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই অনৈক্যের মাধ্যমে আমরা কি আবারও নতুন কোনো জগতশেঠ বা রায়দুর্লভের উত্থানের সুযোগ তৈরি করছি না?
তিনি বলেন, আদর্শিক ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে দেশের স্বার্থ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে, জাতীয় পর্যায়েও সেই চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বর্তমান সরকার প্রধানের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উপাচার্য আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়েও সমানভাবে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তরুণরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা এবং অর্জিত স্বাধীনতাকে আরও সুদৃঢ় করা।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, অধ্যাপক ড. খোন্দকার লুৎফুল এলাহী এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. সালাহউদ্দিন।




