শিরোনাম

ঢাবির হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন

ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবির হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রভোস্টের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে ডাকসু। একই সঙ্গে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) নেতারা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ের গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং আইন সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য ডাকসু প্রতিনিধিরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরা।

এসময় তারা ‘১,২,৩,৪ নিপীড়ক প্রভোস্ট গদি ছাড়’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিপীড়কের পাহারাদার’, ‘নিপীড়কদের বাঁচাতে ছাত্রদল মরিয়া কেন?’ ইত্যাদি প্লাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে হত্যার পর ফ্যাসিবাদী সময়ে হল প্রশাসন যেভাবে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেছিল, আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর ওপর নিপীড়নের পরও আমরা একই চিত্র দেখতে পাচ্ছি। হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরিয়াল টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে যৌক্তিক আন্দোলন করছিলাম, তখন বিগত হাসিনা আমলের মতো প্রক্টররা আমাদের হুমকি দিয়েছেন। এরপর ওই প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধনে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা করা হয়। এতে হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আবু নাঈম ও জিএস ইমামের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। জিএস এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’

মানববন্ধনে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যখন হলের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে প্রভোস্ট অফিসে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলাম, তখন প্রশাসন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কালক্ষেপণ করেছে। রাত পার হয়ে গেলেও তারা ফুটেজ দেখানোর সৎ সাহস দেখাতে পারেনি। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের ভাই ইব্রাহিমকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তার অসুস্থ মাকে ফোন করে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়া হয়েছে– তার প্রতিটি কথাই সঠিক।’

‎অভিযুক্ত প্রভোস্টকে বিগত ছাত্রলীগের সাথে তুলনা করে আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘হাসিনার আমলে প্রশাসন যেভাবে ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করে গণরুম-গেস্টরুম কালচার কায়েম করেছিল, আমরা দেখতে পাচ্ছি– এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনও তেমনিভাবে সিঙ্গেল গেস্টরুম বানিয়ে শিক্ষার্থীদের টর্চার করছেন। বুয়েটে আবরার ফাহাদকে যেভাবে নির্যাতন করে শহীদ করা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও সেই দিন আসতে বেশি দেরি নেই।’

‎​অবিলম্বে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি উপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনকে পদচ্যুত করে বিচার নিশ্চিত না করা হবে এবং তাকে সহায়তাকারী স্টাফদের বিচারের মুখোমুখি না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ডাকসু ও হলের শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে না। আমরা ভিসি স্যারকে আহ্বান জানাই, আপনি গণরুম-গেস্টরুম বিরোধী আপনার অতীত অবস্থান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে অতি দ্রুত এর সমাধান করবেন।’

এর আগে, গত ১৬ আগস্ট ফেসবুকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম। এর জের ধরে প্রভোস্ট তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন বলে ইব্রাহিম অভিযোগ তোলেন।

/এফআর/