শিরোনাম

শিগগিরই উপসচিব পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন আড়াই শতাধিক কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিগগিরই উপসচিব পদে পদোন্নতি 
পাচ্ছেন আড়াই শতাধিক কর্মকর্তা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

শিগগিরই প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সভা করে সুপারিশপ্রাপ্তদের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এজন্য পদোন্নতিপ্রত্যাশী অন্তত ৪৫০ কর্মকর্তার কর্মদক্ষতাসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেছে পদোন্নতির সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার রাতে অথবা আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকেই প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ২৫০ জনের বেশি কর্মকর্তার ভাগ্য খুলতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, উপসচিব পদে এবারের পদোন্নতিতে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ৩১তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে উপসচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন এই ব্যাচের ২৫২ কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে পদোন্নতি পাবেন অন্য ক্যাডারের ২৫ শতাংশ কর্মকর্তাও। অন্য ক্যাডার থেকে উপসচিব হতে আবেদন করেছেন আরও দুই শতাধিক কর্মকর্তা।

এ ছাড়া বিসিএস ৩০তম ব্যাচের বঞ্চিত ৭৯ কর্মকর্তার মধ্যে অন্তত ৫০-৫৫ জনকে বিবেচনায় নেওয়ার আভাসও পাওয়া গেছে। সব মিলে কমবেশি ২৬৫-২৭০ কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেতে পারেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৩১তম বিসিএসের নিয়োগের প্রথম গেজেট হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি বিসিএস ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। এই ব্যাচে আওয়ামী লীগের আস্থাভাজনদের নিয়োগ দিতে এসআরও জারি করতেন শেখ হাসিনার জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ শেষ করার পর ৩১তম ব্যাচে অবৈধভাবে ২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ১১, পুলিশ ক্যাডারে ৬, ইকোনমিক ক্যাডারে ৩, তথ্য ক্যাডারে ১, পরিবার পরিকল্পনায় ১ এবং কর ক্যাডারে ১ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছিলেন, ‘তোমরা শুধু লিখিত পরীক্ষায় পাস করো, বাকিটা আমরা দেখব।’ এ কারণে এই ব্যাচটির প্রতি বর্তমান সরকার সংশ্লিষ্টদের আলাদা নজর রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসনে সুপারনিউমারারি পদসহ উপসচিবের অনুমোদিত পদসংখ্যা ১ হাজার ৪২০। বিপরীতে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৪৮১ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের চেয়ে অন্তত ৬০ জন কর্মকর্তা বেশি আছেন। পদ খালি না থাকায় নতুন করে আরও পদোন্নতি হলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগের পদেই (ইনসিটু) কাজ করে যেতে হবে।

সরকারের উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা-২০০২ অনুযায়ী উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ২৫ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নিতে হবে। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পাঁচ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মূল্যায়ন নম্বরের অন্তত ৮৩ নম্বর পেতে হবে। সে অনুযায়ী বিসিএস ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা যোগ্যতা অর্জন করেছেন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর প্রায় সাড়ে তিন বছর হতে চলেছে, কিন্তু তাদের আজও পদোন্নতি হয়নি।

/বিবি/