শিরোনাম

সূর্যের আলো ছাড়াই বাঁচতে পারে ডেভিল ফ্লাওয়ার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সূর্যের আলো ছাড়াই বাঁচতে পারে ডেভিল ফ্লাওয়ার

উদ্ভিদের জীবন মানেই যেন সূর্যের আলো। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরির জন্য অধিকাংশ উদ্ভিদেরই প্রয়োজন হয় সূর্যের আলোর। কিন্তু প্রকৃতির এই পরিচিত নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে থাইল্যান্ডের একটি ঘন ছায়ায় ঢাকা পাহাড়ি বনে টিকে আছে ক্ষুদ্রাকৃতির এক অদ্ভুত উদ্ভিদ। ভয়ংকর চেহারার কারণে যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেভিল ফ্লাওয়ার’।

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম থিসমিয়া ডেমোনা। থাইল্যান্ডের থং ফা ফুম ন্যাশনাল পার্কের মাটির নিচে ও পাতার স্তূপের আড়ালে থাকা এই বিরল উদ্ভিদটির সন্ধান পেয়েছেন চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটি ও প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। গত বছরের মে মাসে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে এর অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়।

দেখতে ছোট হলেও ডেভিল ফ্লাওয়ারের গঠন বেশ অস্বাভাবিক। ফুলের উপরের অংশে রয়েছে তিনটি লম্বা শিংয়ের মতো গঠন। লালচে-কমলা অংশগুলো দূর থেকে অনেকটা জ্বলন্ত চোখের মতো দেখায়। তবে এর সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো-সাধারণ সবুজ উদ্ভিদের মতো এতে ক্লোরোফিল নেই। ফলে সূর্যের আলো ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাবার তৈরি করার ক্ষমতাও নেই।

গবেষকদের মতে, ডেভিল ফ্লাওয়ারের জীবনধারণ মাটির নিচে থাকা ছত্রাকের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ‘মাইকোহেটারোট্রফি’ নামের বিশেষ প্রক্রিয়ায় ডেভিল ফ্লাওয়ার ছত্রাকের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মাটি থেকে প্রয়োজনীয় কার্বন ও অন্যান্য পুষ্টি সংগ্রহ করে। অর্থাৎ অন্য উদ্ভিদের মতো সূর্যের আলো থেকে শক্তি নেওয়ার পরিবর্তে এটি মাটির নিচে বিস্তৃত ছত্রাকের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে জীবন চালায়।এই কারণেই বছরের অধিকাংশ সময় উদ্ভিদটি মাটির ওপরে দেখা যায় না। এটি শুকনো পাতা ও মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে। কেবল ফুল ও ফল ধরার সময় অল্প সময়ের জন্য মাটির ওপরে উঠে আসে।

থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি বনাঞ্চলে এই প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯৩০ থেকে ৯৭০ মিটার উচ্চতায় এর আবাস। সাধারণত এ ধরনের উদ্ভিদ আর্দ্র রেইনফরেস্টে জন্মাতে দেখা যায়। তাই পাহাড়ি পরিবেশে থিসমিয়া ডেমোনার উপস্থিতি গবেষকদের কাছেও বেশ চমকপ্রদ।

প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিদ সাহুত চান্তানওররাপিন্টের মতে, উদ্ভিদটির আবিষ্কার গবেষকদের জন্য বড় ধরনের বিস্ময় ছিল। ফুলসহ এর সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় সাড়ে ১২ সেন্টিমিটার। শিকড়গুলো দেখতে লোমশ এবং অনেকটা প্রবালের মতো। ফুলের বাইরের অংশ প্রায় কালো হলেও ভেতরে রয়েছে আধা-স্বচ্ছ নীল পুংকেশর। যা উদ্ভিদটির চেহারাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

/এসবি/