শিরোনাম

এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে যা করবেন

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে যা করবেন
এআইয়ের প্রতীকী ছবি

এআইয়ের দ্রুত বিকাশে বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন, শিক্ষাব্যবস্থা ও মানুষের জীবন। আগামী এক দশকে অনেক চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে, আবার অনেক পেশার ধরনও আমূল বদলে যেতে পারে। কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মতো একসময় নিরাপদ বলে বিবেচিত পেশাও এই পরিবর্তনের বাইরে থাকবে না। এমন বাস্তবতায় তরুণদের কীভাবে প্রস্তুত হওয়া উচিত তার কিছু দিক তুলে ধরেছেন কম্পিউটারবিজ্ঞানী মাইকেল আরউইন জর্ডান।

২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কম্পিউটারবিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পাওয়া জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। গত মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন।

জর্ডানের মতে, এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে দুই ধরনের চরম ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ মনে করেন, এই প্রযুক্তি মানবজাতির সবচেয়ে কঠিন সমস্যার সমাধান করে দেবে। আবার কেউ আশঙ্কা করেন, এআই একসময় মানুষকেই নিয়ন্ত্রণ করবে। বাস্তবতা সম্ভবত এর মাঝামাঝি।

তবে ঝুঁকিগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থাকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। প্রযুক্তির সুবিধা সবাই সমানভাবে না পাওয়ায় সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্যও বাড়তে পারে। পাশাপাশি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া লেখা, ছবি ও তথ্য সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এর প্রভাব গণতন্ত্রেও পড়তে পারে।

তারপরও প্রযুক্তির অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়ার পক্ষে নন জর্ডান। তার মতে, এআইয়ের যুগে মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হবে এমন কিছু গুণ, যা প্রযুক্তি সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

মানুষের গভীর আবেগ ও সৃষ্টিশীলতার পেছনে থাকে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা সাফল্য, ব্যর্থতা, আনন্দ, কষ্ট, ভালোবাসা ও সম্পর্ক। জেনারেটিভ এআই এসবের অনুকরণ করতে পারে, কিন্তু নিজে কোনো জীবন্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় না। তাই মানুষের সঙ্গে মানুষের সত্যিকারের সম্পর্কের প্রয়োজন ভবিষ্যতেও থাকবে।

তরুণদের জন্য তার পরামর্শ, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের প্রস্তুত করা। এখনই সব সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমনটা ভাবার কারণ নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে নিজেকে চিন্তাশীল ও বহুমুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এর জন্য শুধু প্রযুক্তি শেখাই যথেষ্ট নয়। উপন্যাস পড়া, ইতিহাস চর্চা, নতুন ভাষা শেখা, ভ্রমণ করা কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজও মানুষের চিন্তা ও অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে।

জর্ডানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, বড় কোনো অর্জন সাধারণত একা একজন মানুষের কারণে হয় না। পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ সবার সম্মিলিত ভূমিকা থাকে।

এআইয়ের যুগে তাই শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা নয়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, দলবদ্ধভাবে কাজ করা, গভীরভাবে চিন্তা করা এবং নতুন কিছু শেখার ক্ষমতাই ভবিষ্যতের বড় শক্তি হতে পারে।

প্রযুক্তি বদলাবে, অনেক কাজের ধরনও বদলাবে। কিন্তু মানুষের প্রয়োজন মানুষের কাছেই থাকবে।

/এমআর/