শিরোনাম

কে বেশি কথা বলে, নারী নাকি পুরুষ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
কে বেশি কথা বলে, নারী নাকি পুরুষ

কে বেশি কথা বলে, নারী নাকি পুরুষ? এই প্রশ্ন নিয়ে মানুষের কৌতূহল দীর্ঘদিনের। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, নারী-পুরুষ উভয়েই দিনে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ ব্যবহার করেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি নতুন এক গবেষণায় সেই ধারণায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

আট বছর ধরে ডিজিটাল ভয়েস রেকর্ডার ব্যবহার করে সংগ্রহ করা প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করে নতুন গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি’তে।

আগের গবেষণাটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত। বিপরীতে নতুন গবেষণায় চারটি দেশের ১০ থেকে ৯০ বছর বয়সী ২ হাজার ১৯৭ জন নারী ও পুরুষের কথোপকথনের রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে নারী ও পুরুষের কথার পরিমাণে খুব বড় পার্থক্য নেই। তবে নির্দিষ্ট একটি বয়সপর্বে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি শব্দ ব্যবহার করেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে নারী ও পুরুষের কথার পরিমাণে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এই বয়সের একজন নারী দিনে গড়ে ২১ হাজার ৮৪৫টি শব্দ ব্যবহার করেন। একই বয়সী পুরুষের ক্ষেত্রে দৈনিক শব্দ ব্যবহারের গড় ১৮ হাজার ৫৭০টি।

এতে বলা হয়েছে, মানুষের সামনা-সামনি কথোপকথনের প্রবণতা ক্রমশই কমছে। ২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৫ সালে বিভিন্ন বয়সের মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ ব্যবহার করতেন। ২০১৮ সালে সেই পরিমাণ নেমে আসে প্রায় ১৩ হাজার শব্দে।

গবেষকদের ধারণা, সরাসরি কথাবার্তার জায়গা ক্রমেই দখল করে নিচ্ছে ডিজিটাল যোগাযোগ। মেসেজ, অনলাইন চ্যাটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ায় সরাসরি কথোপকথনের সময় ও প্রবণতা কমে থাকতে পারে। তবে এর পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ সবচেয়ে বেশি কাজ করছে, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।

/এসবি/