শিরোনাম

ইউস্টাকিওর গোলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন ভঙ্গ, শেষ ষোলোতে কানাডা

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
ইউস্টাকিওর গোলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন ভঙ্গ, শেষ ষোলোতে কানাডা
ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন স্টিভেন ইউস্টাকিও

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল কানাডা ফুটবল দল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর উত্তেজনাপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর নকআউট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে তারা। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে চলেছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯২ মিনিটে) স্টিভেন ইউস্টাকিওর করা নাটকীয় গোলটি কানাডাকে এনে দেয় ঐতিহাসিক জয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো কানাডিয়ান সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয় কানাডার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় এক অধ্যায়।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খেলতে শুরু করে। এটি ছিল দুদেশের জন্যই বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার বাঁচা-মরার লড়াই। প্রথমার্ধে বল দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে কোনো দলই কাউকে একচুল ছাড় দেয়নি। খেলার ১৪ মিনিটে কানাডার একটি আক্রমণ এবং ৩৬ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আক্রমণকে কেন্দ্র করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর রিভিউ নেওয়া হলেও প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের মুখ দেখতে পায়নি। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

বিরতির পর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের গতি বাড়াতে দুই দলেই কৌশলগত পরিবর্তন আসতে শুরু করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার রেলেবোহিল মোফোকেংয়ের পরিবর্তে মাঠে নামেন থালেন্তে এমবাথা। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে কানাডার মিডফিল্ডার নাথান সালিবা হলুদ কার্ড দেখার পর ৫৮ মিনিটে তাকে তুলে নিকো সিগুরকে মাঠে নামানো হয়। একই সময়ে ডিফেন্ডার মইসে বোম্বিতোর জায়গায় মাঠে আসেন লাক ডি ফুগারোলেস। খেলার ৬৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় নিকো সিগুরও হলুদ কার্ড দেখেন। ম্যাচের সময় যত গড়াচ্ছিল, দুই দলের ডাগআউটেই তত উত্তেজনা বাড়ছিল। কানাডার কোচ আক্রমণের ধার বাড়াতে ৬৯ মিনিটে লিয়াম মিলার ও তানি ওলুয়াসেয়ির পরিবর্তে মাঠে নামান জ্যাকব শ্যাফেলবুর্গ এবং প্রমিজ ডেভিডকে। এর ঠিক পরেই ৭৪ মিনিটে মাঠে নামানো হয় দলের অন্যতম তারকা আলফোনসো ডেভিসকে, যিনি তাজুয়ান বুকাননের স্থলাভিষিক্ত হন। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও ম্যাচের ৮৫ মিনিটে এভিডেন্স মাকগোপা এবং থাপেলো মাসেকোকে উঠিয়ে মাঠে নামায় ইকরাম রেইনার্স ও সেপাং মোরেমিকে।

যখন স্টেডিয়ামের সবাই ধরে নিয়েছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। খেলার ৯০ মিনিট পার হওয়ার পর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান কানাডার নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার স্টিভেন ইউস্টাকিও। শেষ মুহূর্তের গোলটি পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত সময় আর দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ছিল না। ফলে ১-০ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কানাডা এবং বিশ্বকাপ থেকে অশ্রুসিক্ত বিদায় ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকার।

/এমএকে/