ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোল খেলো বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোল খেলো বাংলাদেশ
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের মুহূর্ত

ফিফা আসিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে নাটকীয় ম্যাচে ইন্দোনেশিয়া ৯-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। এই জয়ের ফলে আসিয়ান কাপের ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মাঠ ছাড়েন হামজা চৌধুরী। কোচিং স্টাপের সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে বড় হারগুলোর একটি এটি। বাংলাদেশ ফুটবল দল এর আগে দু্ইবার ম্যাচে ৯ গোল হজম করেছিল। প্রথমবার ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে, এরপর ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে। দুই ম্যাচেই ফল ছিল ৯-০।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে স্কোর ছিল ৬-১। ৮৯ মিনিট পর্যন্ত আর কোনো গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। তবে নাটকের তখনো ঢের বাকি। একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হয় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। সেই ম্যাচে মালয়েশিয়ার প্রতিটি গোলে চাপ বাড়তে থাকে ইন্দোনেশিয়ার উপর।

৯০ মিনিট থেকে অতিরিক্ত ৮ মিনিট পর্যন্ত হয়েছে চারটি গোল। এর মধ্যে তিনটি গোল দেয় ইন্দোনেশিয়া, একটি বাংলাদেশ। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে ব্যবধান ৭-১ করেন ভিকেরি। পরের মিনিটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফারহান আলী ওয়াহিদ গোল। ইন্দোনেশিয়া শেষ দুটি গোল করেন কেভিন ডিকস ও লে বেকার।

টিভি স্ক্রিনে প্রথমে দেখা যায়, যোগ করা সময় দেওয়া হয়েছে ২ মিনিট। তবে পরবর্তীতে সেটি মোট ৮ মিনিট পর্যন্ত গড়ায়। আইএফএবির নিয়মে অবশ্য বলা আছে, যোগ করা সময় দেওয়ার পর রেফারি সেটি কমাতে পারবেন না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়াতে পারেন।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোল উদযাপন ছাড়াও এক পর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে খানিকটা মারামারির ঘটনা ঘটে। তাতে শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময় বাড়ে।

এর আগে ১১তম মিনিটে প্রথম গোল করে ইন্দোনেশিয়া। ওলে রমনির ব্যাক পাস থেকে পাওয়া বল প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান মিচেল বেকার। ২০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল করে স্বাগতিকরা। প্রথম শট প্রতিহতই করেন বাংলাদেশ গোলকিপার। আবারও গোলমুখে ফিরলে ব্লক করেন জায়ান আহমেদ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। জটলার মধ্য থেকে ব্যাকহিলে বল জালে পাঠান বেকার।

৩১তম মিনিটে ইন্দোনেশিয়াকে তৃতীয় গোল এনে দিয়েছেন রিজকি রিদো। পাঁচ মিনিট পর এক গোল শোধ করে বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন সুকি। বাইলাইনের কাছে গিয়ে কাট ব্যাক করেছেন গোলমুখে, প্রায় ফাঁকায় থাকা ইমন হেডে বল জালে পাঠান।

৩৭ মিনিটে রমনির কাট ব্যাক থেকে পাওয়া বলে বেকার গোল করেন। তাতে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় বেকারের। ৪২ মিনিটে আবার গোল করেন মিচেল বেকার। এবার তিনি বল জালে পাঠান হেডে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইন্দোনেশিয়া করে ম্যাচে নিজেদের ষষ্ঠ গোলটি। গোলকিপার মেহেদীর সেভের পর কর্নার পায় ইন্দোনেশিয়া। সেই কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করেন জাস্টিন হাবনার।

/টিই/