বছর ঘুরে এলো খুশির ঈদ

বছর ঘুরে এলো খুশির ঈদ
মোসাদ্দেকুর রহমান

‘এই ঈদ বিধাতার কি যে শুভ উদ্দেশ্য মহান,
হয় সিদ্ধ, বুঝে না তা স্বার্থপর মানব সন্তান।
এ ত নহে শুধু ভবে আনন্দ উৎসব ধুলা খেলা।
এ শুধু জাতীয় পুণ্যমিলনের এক মহামেলা।’
মহাকবি কায়কোবাদের ‘ঈদ আবাহন’ কবিতার এই লাইনগুলোতেই ধরা পড়ে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আবারও আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। তবে ঈদের আনন্দ কেবল নতুন পোশাক, ভালো খাবার বা উল্লাসে সীমাবদ্ধ নয়; এর আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে।
গতকাল সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আকাশে মেঘ ফুঁড়ে দেখা দেয় ঈদের চাঁদ। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর এই একফালি চাঁদ যেনো বাঁধভাঙা আনন্দের দরজা খুলে দিয়ে ঈদের আগমন ঘোষণা করে।
ঢাকাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আবহ। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরপরই রেডিও-টেলিভিশনে শোনা যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...।’ এই গানটি শুনলেই যেনো মনে হয় বছর ঘুরে আবার খুশির ঈদ এসেছে।
ঈদ সামনে রেখে বাজারে এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ব্যস্ততা। নতুন কাপড়ের গন্ধ, আতরের সুবাস আর সেমাই-চিনির কেনাকাটায় জমে উঠেছে উৎসবের প্রস্তুতি।
ঘরে ঘরে এখন চলছে প্রস্তুতির শেষ ধাপ। রান্নাঘরে ব্যস্ততা, ফ্রিজে সাজানো দুধ-সেমাই, আর পরিবারের সদস্যদের তালিকা মিলিয়ে দেখা—কিছু বাদ পড়ল কিনা। পাশাপাশি অনেকে জাকাত ও ফিতরা হিসাব করছেন, যাতে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়। কারণ এই উৎসব কেবল নিজের জন্য নয়, সবার জন্য।
এক মাসের রোজা মানুষকে সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষারই প্রতিফলন ঈদ। তাই ঈদের আনন্দ শুধু বাহ্যিক নয়— এটি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার এক অনন্য প্রকাশ।

চাঁদ দেখার পর থেকেই মসজিদে মসজিদে শোনা যায় তাকবির ধ্বনি। টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঈদের খবর। মুহূর্তেই বদলে যায় চারপাশের পরিবেশ—নীরবতার জায়গা নেয় উচ্ছ্বাস।
ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল-অজু করে অনেকে সেমাই বা মিষ্টি খেয়ে ঈদগাহের পথে রওনা দেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়—সব মিলিয়ে তৈরি হয় মিলনের এক স্বর্গীয় পরিবেশ। অনেকেই এরপর প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে যান এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তারপর পরিবার-পরিজন, বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে দিনটি কাটে আনন্দ-আড্ডায়।
ইসলামে ধর্মীয় বিধানগুলো হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পালন করা হয়। চাঁদের মাস কখনো ২৯ দিনে, আবার কখনো ৩০ দিনে পূর্ণ হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করতে।
ইসলামে ঈদের প্রচলন
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদকে নিয়ামত হিসেবে দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন সেখানে দুটি উৎসব প্রচলিত ছিল। তিনি মদিনার বাসিন্দাদের কাছে জানতে চান এগুলোর তাৎপর্য কী ? এই প্রশ্নের উত্তরে মদিনাবাসী জানায়, জাহেলি যুগ থেকে তারা এ দিনগুলোতে আনন্দ-উৎসব করত। তখন তিনি বলেন, আল্লাহ এই দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের জন্য আরও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। (আবু দাউদ: ১১৩৪)
অর্থাৎ, শুধুমাত্র আমোদ-প্রমোদের দিন নয়, বরং আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, ইবাদত, শালীন আনন্দ ও সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে উদযাপিত হয় ঈদ। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় হিজরিতে মহানবী (সা.) প্রথম ঈদ উদযাপন করেন।
দেশে ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি
ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শপিংমল, মার্কেট ও ফুটপাতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে নতুন পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সারা দেশের দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগেও দরিদ্রদের মধ্যে খাবার সামগ্রী ও নতুন পোশাক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঈদের জন্য গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র-শনিবার মিলিয়ে এবার চাকরিজীবীরা প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে আপনজনের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামে ফিরেছেন লাখ লাখ মানুষ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
ঈদে কী কী করণীয়
ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি ইবাদতেরও দিন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করলে ঈদের তাৎপর্য আরও গভীর হয়:
ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
হাদিসে এসেছে, ‘যদি মানুষ জানত এশা ও ফজরের নামাজে কী ফজিলত রয়েছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা জামাতে অংশ নিত।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৫)
ঈদের নামাজ আদায় করা
ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জামাতে নামাজ আদায় করা। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের দিনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি: ৯৮৯)
ঈদের দিন গোসল করা
পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হজরত ওমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (সুনান বায়হাকি: ৫৯২০)
হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া সুন্নত। হজরত আলী (রা.) এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি: ৫৩৩)
ঈদের আগে খাবার গ্রহণ
ঈদুল ফিতরের দিনে নামাজের আগে কিছু খেয়ে নেওয়া সুন্নত। (তিরমিজি: ৫৪৫)
শুভেচ্ছা বিনিময়
সাহাবারা একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’—অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের আমল কবুল করুন।
পরিচ্ছন্ন ও ভালো পোশাক পরা
ঈদের দিন সুন্দর পোশাক পরা এবং আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ঘটানো উৎসাহিত করা হয়েছে।
খুতবা শোনা, দোয়া ও ইস্তেগফার করা
ঈদের খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকে। পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো
ইয়াতিম ও দরিদ্রদের খোঁজ নেওয়া, তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া একজন মুমিনের দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে ঈদ এমন এক উৎসব, যেখানে আনন্দ ও ইবাদত একসঙ্গে মিশে যায়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত—এ নিয়েই যেন তারা আনন্দ করে।’ (সূরা ইউনুস: ৫৮)
এক মাসের সংযম ও আত্মশুদ্ধির পর যে ঈদ আসে, তার আনন্দ কেবল বাহ্যিক নয়। এটি ভালোবাসা, ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক অপূর্ব বহিঃপ্রকাশ।

‘এই ঈদ বিধাতার কি যে শুভ উদ্দেশ্য মহান,
হয় সিদ্ধ, বুঝে না তা স্বার্থপর মানব সন্তান।
এ ত নহে শুধু ভবে আনন্দ উৎসব ধুলা খেলা।
এ শুধু জাতীয় পুণ্যমিলনের এক মহামেলা।’
মহাকবি কায়কোবাদের ‘ঈদ আবাহন’ কবিতার এই লাইনগুলোতেই ধরা পড়ে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আবারও আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। তবে ঈদের আনন্দ কেবল নতুন পোশাক, ভালো খাবার বা উল্লাসে সীমাবদ্ধ নয়; এর আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে।
গতকাল সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আকাশে মেঘ ফুঁড়ে দেখা দেয় ঈদের চাঁদ। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর এই একফালি চাঁদ যেনো বাঁধভাঙা আনন্দের দরজা খুলে দিয়ে ঈদের আগমন ঘোষণা করে।
ঢাকাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আবহ। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরপরই রেডিও-টেলিভিশনে শোনা যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...।’ এই গানটি শুনলেই যেনো মনে হয় বছর ঘুরে আবার খুশির ঈদ এসেছে।
ঈদ সামনে রেখে বাজারে এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ব্যস্ততা। নতুন কাপড়ের গন্ধ, আতরের সুবাস আর সেমাই-চিনির কেনাকাটায় জমে উঠেছে উৎসবের প্রস্তুতি।
ঘরে ঘরে এখন চলছে প্রস্তুতির শেষ ধাপ। রান্নাঘরে ব্যস্ততা, ফ্রিজে সাজানো দুধ-সেমাই, আর পরিবারের সদস্যদের তালিকা মিলিয়ে দেখা—কিছু বাদ পড়ল কিনা। পাশাপাশি অনেকে জাকাত ও ফিতরা হিসাব করছেন, যাতে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়। কারণ এই উৎসব কেবল নিজের জন্য নয়, সবার জন্য।
এক মাসের রোজা মানুষকে সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষারই প্রতিফলন ঈদ। তাই ঈদের আনন্দ শুধু বাহ্যিক নয়— এটি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার এক অনন্য প্রকাশ।

চাঁদ দেখার পর থেকেই মসজিদে মসজিদে শোনা যায় তাকবির ধ্বনি। টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঈদের খবর। মুহূর্তেই বদলে যায় চারপাশের পরিবেশ—নীরবতার জায়গা নেয় উচ্ছ্বাস।
ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল-অজু করে অনেকে সেমাই বা মিষ্টি খেয়ে ঈদগাহের পথে রওনা দেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়—সব মিলিয়ে তৈরি হয় মিলনের এক স্বর্গীয় পরিবেশ। অনেকেই এরপর প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে যান এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তারপর পরিবার-পরিজন, বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে দিনটি কাটে আনন্দ-আড্ডায়।
ইসলামে ধর্মীয় বিধানগুলো হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পালন করা হয়। চাঁদের মাস কখনো ২৯ দিনে, আবার কখনো ৩০ দিনে পূর্ণ হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করতে।
ইসলামে ঈদের প্রচলন
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদকে নিয়ামত হিসেবে দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন সেখানে দুটি উৎসব প্রচলিত ছিল। তিনি মদিনার বাসিন্দাদের কাছে জানতে চান এগুলোর তাৎপর্য কী ? এই প্রশ্নের উত্তরে মদিনাবাসী জানায়, জাহেলি যুগ থেকে তারা এ দিনগুলোতে আনন্দ-উৎসব করত। তখন তিনি বলেন, আল্লাহ এই দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের জন্য আরও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। (আবু দাউদ: ১১৩৪)
অর্থাৎ, শুধুমাত্র আমোদ-প্রমোদের দিন নয়, বরং আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, ইবাদত, শালীন আনন্দ ও সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে উদযাপিত হয় ঈদ। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় হিজরিতে মহানবী (সা.) প্রথম ঈদ উদযাপন করেন।
দেশে ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি
ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শপিংমল, মার্কেট ও ফুটপাতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে নতুন পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সারা দেশের দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগেও দরিদ্রদের মধ্যে খাবার সামগ্রী ও নতুন পোশাক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঈদের জন্য গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র-শনিবার মিলিয়ে এবার চাকরিজীবীরা প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে আপনজনের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামে ফিরেছেন লাখ লাখ মানুষ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
ঈদে কী কী করণীয়
ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি ইবাদতেরও দিন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করলে ঈদের তাৎপর্য আরও গভীর হয়:
ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
হাদিসে এসেছে, ‘যদি মানুষ জানত এশা ও ফজরের নামাজে কী ফজিলত রয়েছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা জামাতে অংশ নিত।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৫)
ঈদের নামাজ আদায় করা
ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জামাতে নামাজ আদায় করা। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের দিনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি: ৯৮৯)
ঈদের দিন গোসল করা
পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হজরত ওমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (সুনান বায়হাকি: ৫৯২০)
হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া সুন্নত। হজরত আলী (রা.) এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি: ৫৩৩)
ঈদের আগে খাবার গ্রহণ
ঈদুল ফিতরের দিনে নামাজের আগে কিছু খেয়ে নেওয়া সুন্নত। (তিরমিজি: ৫৪৫)
শুভেচ্ছা বিনিময়
সাহাবারা একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’—অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের আমল কবুল করুন।
পরিচ্ছন্ন ও ভালো পোশাক পরা
ঈদের দিন সুন্দর পোশাক পরা এবং আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ঘটানো উৎসাহিত করা হয়েছে।
খুতবা শোনা, দোয়া ও ইস্তেগফার করা
ঈদের খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকে। পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো
ইয়াতিম ও দরিদ্রদের খোঁজ নেওয়া, তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া একজন মুমিনের দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে ঈদ এমন এক উৎসব, যেখানে আনন্দ ও ইবাদত একসঙ্গে মিশে যায়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত—এ নিয়েই যেন তারা আনন্দ করে।’ (সূরা ইউনুস: ৫৮)
এক মাসের সংযম ও আত্মশুদ্ধির পর যে ঈদ আসে, তার আনন্দ কেবল বাহ্যিক নয়। এটি ভালোবাসা, ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক অপূর্ব বহিঃপ্রকাশ।

বছর ঘুরে এলো খুশির ঈদ
মোসাদ্দেকুর রহমান

‘এই ঈদ বিধাতার কি যে শুভ উদ্দেশ্য মহান,
হয় সিদ্ধ, বুঝে না তা স্বার্থপর মানব সন্তান।
এ ত নহে শুধু ভবে আনন্দ উৎসব ধুলা খেলা।
এ শুধু জাতীয় পুণ্যমিলনের এক মহামেলা।’
মহাকবি কায়কোবাদের ‘ঈদ আবাহন’ কবিতার এই লাইনগুলোতেই ধরা পড়ে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আবারও আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। তবে ঈদের আনন্দ কেবল নতুন পোশাক, ভালো খাবার বা উল্লাসে সীমাবদ্ধ নয়; এর আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে।
গতকাল সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আকাশে মেঘ ফুঁড়ে দেখা দেয় ঈদের চাঁদ। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর এই একফালি চাঁদ যেনো বাঁধভাঙা আনন্দের দরজা খুলে দিয়ে ঈদের আগমন ঘোষণা করে।
ঢাকাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আবহ। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরপরই রেডিও-টেলিভিশনে শোনা যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...।’ এই গানটি শুনলেই যেনো মনে হয় বছর ঘুরে আবার খুশির ঈদ এসেছে।
ঈদ সামনে রেখে বাজারে এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ব্যস্ততা। নতুন কাপড়ের গন্ধ, আতরের সুবাস আর সেমাই-চিনির কেনাকাটায় জমে উঠেছে উৎসবের প্রস্তুতি।
ঘরে ঘরে এখন চলছে প্রস্তুতির শেষ ধাপ। রান্নাঘরে ব্যস্ততা, ফ্রিজে সাজানো দুধ-সেমাই, আর পরিবারের সদস্যদের তালিকা মিলিয়ে দেখা—কিছু বাদ পড়ল কিনা। পাশাপাশি অনেকে জাকাত ও ফিতরা হিসাব করছেন, যাতে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়। কারণ এই উৎসব কেবল নিজের জন্য নয়, সবার জন্য।
এক মাসের রোজা মানুষকে সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষারই প্রতিফলন ঈদ। তাই ঈদের আনন্দ শুধু বাহ্যিক নয়— এটি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার এক অনন্য প্রকাশ।

চাঁদ দেখার পর থেকেই মসজিদে মসজিদে শোনা যায় তাকবির ধ্বনি। টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঈদের খবর। মুহূর্তেই বদলে যায় চারপাশের পরিবেশ—নীরবতার জায়গা নেয় উচ্ছ্বাস।
ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল-অজু করে অনেকে সেমাই বা মিষ্টি খেয়ে ঈদগাহের পথে রওনা দেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়—সব মিলিয়ে তৈরি হয় মিলনের এক স্বর্গীয় পরিবেশ। অনেকেই এরপর প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে যান এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তারপর পরিবার-পরিজন, বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে দিনটি কাটে আনন্দ-আড্ডায়।
ইসলামে ধর্মীয় বিধানগুলো হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পালন করা হয়। চাঁদের মাস কখনো ২৯ দিনে, আবার কখনো ৩০ দিনে পূর্ণ হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করতে।
ইসলামে ঈদের প্রচলন
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদকে নিয়ামত হিসেবে দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন সেখানে দুটি উৎসব প্রচলিত ছিল। তিনি মদিনার বাসিন্দাদের কাছে জানতে চান এগুলোর তাৎপর্য কী ? এই প্রশ্নের উত্তরে মদিনাবাসী জানায়, জাহেলি যুগ থেকে তারা এ দিনগুলোতে আনন্দ-উৎসব করত। তখন তিনি বলেন, আল্লাহ এই দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের জন্য আরও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। (আবু দাউদ: ১১৩৪)
অর্থাৎ, শুধুমাত্র আমোদ-প্রমোদের দিন নয়, বরং আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, ইবাদত, শালীন আনন্দ ও সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে উদযাপিত হয় ঈদ। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় হিজরিতে মহানবী (সা.) প্রথম ঈদ উদযাপন করেন।
দেশে ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি
ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শপিংমল, মার্কেট ও ফুটপাতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে নতুন পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সারা দেশের দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগেও দরিদ্রদের মধ্যে খাবার সামগ্রী ও নতুন পোশাক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঈদের জন্য গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র-শনিবার মিলিয়ে এবার চাকরিজীবীরা প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে আপনজনের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামে ফিরেছেন লাখ লাখ মানুষ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
ঈদে কী কী করণীয়
ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি ইবাদতেরও দিন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করলে ঈদের তাৎপর্য আরও গভীর হয়:
ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
হাদিসে এসেছে, ‘যদি মানুষ জানত এশা ও ফজরের নামাজে কী ফজিলত রয়েছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা জামাতে অংশ নিত।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৫)
ঈদের নামাজ আদায় করা
ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জামাতে নামাজ আদায় করা। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের দিনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি: ৯৮৯)
ঈদের দিন গোসল করা
পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হজরত ওমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (সুনান বায়হাকি: ৫৯২০)
হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া সুন্নত। হজরত আলী (রা.) এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি: ৫৩৩)
ঈদের আগে খাবার গ্রহণ
ঈদুল ফিতরের দিনে নামাজের আগে কিছু খেয়ে নেওয়া সুন্নত। (তিরমিজি: ৫৪৫)
শুভেচ্ছা বিনিময়
সাহাবারা একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’—অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের আমল কবুল করুন।
পরিচ্ছন্ন ও ভালো পোশাক পরা
ঈদের দিন সুন্দর পোশাক পরা এবং আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ঘটানো উৎসাহিত করা হয়েছে।
খুতবা শোনা, দোয়া ও ইস্তেগফার করা
ঈদের খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকে। পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো
ইয়াতিম ও দরিদ্রদের খোঁজ নেওয়া, তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া একজন মুমিনের দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে ঈদ এমন এক উৎসব, যেখানে আনন্দ ও ইবাদত একসঙ্গে মিশে যায়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত—এ নিয়েই যেন তারা আনন্দ করে।’ (সূরা ইউনুস: ৫৮)
এক মাসের সংযম ও আত্মশুদ্ধির পর যে ঈদ আসে, তার আনন্দ কেবল বাহ্যিক নয়। এটি ভালোবাসা, ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক অপূর্ব বহিঃপ্রকাশ।




